1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতাদের তালিকা করা হয়েছে : ডিএমপি কমিশনার - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । রাত ১০:০৪ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফের ভুয়া বিল ও কমিশন বাণিজ্য কার বলে বলিয়ান এলজিইডির বাবু নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার এবং দালালদের চলছে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য  বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা এসি নুরের অবাধ ঘুষ বাণিজ্য গুচ্ছের পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ আবেদন জবিতে টঙ্গীর মাদক সম্রাজ্ঞী আরফিনার বিলাসবহুল বাড়ী-গাড়ী রেখে থাকেন বস্তিতে! শরীয়তপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর গনধর্ষণ বেনাপোল কাস্টমসে ফুলমিয়া নাজমুল সিন্ডিকেটের ডিএম ফাইলে অবাধ ঘুষ বাণিজ্য নারীঘটিত কারন দেখিয়ে জবির ইমামকে অব্যাহতি, শিক্ষার্থীরা বলছে সাজানো নাটক মিটফোর্ডের জিনসিন জামান এখন ইমপেক্স ল্যাবরেটরীজ (আয়) এর গর্বিত মালিক
কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতাদের তালিকা করা হয়েছে : ডিএমপি কমিশনার

কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতাদের তালিকা করা হয়েছে : ডিএমপি কমিশনার

কাজী রিফাত:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন,রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতাদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন নিয়ে ছায়া সংসদ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

এসময় ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ঢাকার ৫০টি থানা এলাকার মধ্যে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাসহ ১০টি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধ লক্ষ্য করা যায়। চিহ্নিত এসকল গ্যাংয়ের অদ্ভুত অদ্ভুত নাম রয়েছে, তাদের তালিকা করা হয়েছে। যারা মদতদাতা তারা ওইভাবে গড ফাদার নয়। তারা যে কিশোর অপরাধের জন্য গ্যাং তৈরি করেছে বিষয়টি এমন নয়। রাজনৈতিকভাবে কিছু লোক কিশোরদের নিয়ে যাচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা পুলিশের একার কাজ নয়;বরং জনগণ সোচ্চার হলে কিশোর গ্যাং কালচার কমে যাবে।

তিনি বলেন,বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরদের নাম রয়েছে তালিকায়। এসকল কাউন্সিলদের কিছু অনুসারী রয়েছে, যাদের বয়স ১৮ বছরের উপরে। এলাকায় রাজনীতি টিকিয়ে রাখতেই এদের কেউ কেউ কিশোরদের ব্যবহার করছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

তিনি আরো বলেন, সরাসরি কোনো কাউন্সিলর কিশোরদের নিয়ে অপরাধ করার জন্য গ্যাং তৈরি করেছে এমন তথ্য পাইনি আমরা। কাউন্সিলদের সহযোগী রয়েছেন এমন কেউ কেউ আছেন তারা কিশোরদের নিয়ে চলাচল করেন। এসব কিশোরদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল, যারা রাস্তায় কাজ করেন। বেশিরভাগ কিশোরদের বাবা নেই। মা থাকলেও দেখা যায় অন্যের বাসায় কাজ করেন। এসব বিষয়েও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আইনের আওতায় পড়লে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক উপনেতা-পাতি নেতাদের বিভিন্ন সময় থানায় ডেকে শাসানোও হয়।

কিশোর অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন,এব্যপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গাফিলতি নেই। অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে মামলা গ্রহণ করা হয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোরদের কিশোর সংশোধানাগারে প্রেরণ করা হয়।

তাদের কিশোর সংশোধনের জন্যে সুযোগ দেয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের প্রতিটি কিশোর আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। ৯-১৮ বছর বয়সী কেউ অপরাধ করলে আমরা তাকে কিশোর অপরাধী বলছি। এই বয়সী কিশোররা দলবদ্ধভাবে অপরাধ করলে তাকে বলছি ‘কিশোর গ্যাং’। এজন্য তাদের নিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দ বলতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কিশোর গ্যাং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করে থাকে পুলিশ। মসজিদে মসজিদে জুমার দিনে ওসিরা কিশোর গ্যাং বিষয়ে বক্তব্য দেন। কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের বিভিন্ন সভা-সমাবেশও করা হয়েছে। স্কুলে গিয়েও পুলিশ সদস্যরা কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে আসল কাজ হবে পরিবার থেকে। পরিবার থেকে মা, বাবা বড় ভাই-বোন এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সবচেয়ে দুর্বলতা এবং নেতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,সমাজে ভদ্রলোকের সংখ্যা অনেক বেশি জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, তারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এসকল ভদ্রলোকেরা মনে করেন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে বিপদে পড়বেন। সেই ভয়ে এসকল বিষয়ে থানায় যান না। যারা সমাজের ভালো মানুষ, শান্তিপ্রিয় মানুষ, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন তবে অনেক কঠিন কাজই সহজ হয়ে যায়। আমি এর আহ্বান জানাই। সমাজে ভালো মানুষ যারা তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতরা বেশিরভাগই নষ্ট রাজনীতির শিকার। অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা ও ‘বড় ভাই’রা শিশু-কিশোরদের তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে তুলে দিচ্ছে বিভিন্নরকম মাদকদ্রব্য ও মরণঘাতি অস্ত্র । রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থে অর্থের বিনিময়ে অপরাধ করাচ্ছে।

রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থে অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে ব্যবহার করে জমিজমা, ঘরবাড়ি দখল করাচ্ছে। কোন ঘটনায় পুলিশ এসকল কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সূস্যকে আটক করলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনছে। মামলা হলে নিজস্ব অর্থায়নে আদালতের মাধ্যমে জামিনের ব্যবস্থাও করছে। ফলে এসব শিশু কিশোররা কিশোর গ্যাং কালচারে সম্পৃক্ত হয়ে বড় ভাইদের পক্ষে ভাড়ায় খাটছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সর্বস্তরে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »