1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
ডেমরা থানার এস আই নাজমুলের বিরুদ্ধে সুকৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগ - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । দুপুর ১২:৪৪ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
ডেমরা থানার এস আই নাজমুলের বিরুদ্ধে সুকৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ডেমরা থানার এস আই নাজমুলের বিরুদ্ধে সুকৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ডেমরা থানার এস আই নাজমুলের বিরুদ্ধে মটরসাইকেলকে জিম্মি করে সুকৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, গত ১২/১১/২০২৩ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১:২০ ঘটিকার সময় কবি নজরুল ইসলাম কলেজে অধ্যায়নরত শিহাব মটরসাইকেল যোগে ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার যাওয়ার পথে বামৈল নামক স্থানে মটরসাইকেলের তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তেলের খোজে গাড়ি ঠেলতে থাকেন। একই স্থানে ডেমরা থানার এস আই নাজমুল ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগী শিহাবকে দূর থেকে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখে এস আই নাজমুলের ড্রাইভার বিল্লাল সহ এস আই নাজমুল থানার গাড়ী নিয়ে শিহাবের পথ আটকায়। অতঃপর গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে, শিহাবের সাথে কাগজপত্র নেই বলে জানায় তবে কাগজপত্র বাসায় ফোন দিয়ে আনাবে। কাগজপত্র নেই জেনে এস আই নাজমুল বিএনপির লোক বলে এবং বিভিন্ন মামলার হুমকি দিয়ে শিহাব এবং তার সাথে থাকা সামির ও মামুনকে থানার গাড়িতে তোলেন এবং বলেন, তোমরা এই গাড়ি জালাও পোড়াও করতে এসেছো। শিহাব গাড়ীর কাগজ আনার জন্য তার বড় ভাই হিমেল কে ঘটনা সম্পর্কে জানালে, শিহাবের বড় ভাই যাত্রাবাড়ী থেকে বামৈল মটরসাইকেলের লাইসেন্স সম্পর্কিত কাগজপত্রাদী নিয়ে যায়। কিন্তু গাড়ীর কাগজপত্র দেখার পরেও বিএনপির প্রিকেটিং এর মামলা দেওয়ার কথা বলেন এস আই নাজমুল। কোনো প্রকার দিশা না পেয়ে নিজের ভাইকে মামলা থেকে বাচানোর জন্য এস আই নাজমুলের সাথে কথা বললে এস আই নাজমুল পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করেন । উক্ত টাকা না দিলে এত রাতে গাড়ী পোড়াতে এসেছে বলে প্রিকেটিং মামলা দিয়ে দিবে বলে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। অতঃপর নিরুপায় হয়ে শিহাব ও তার ভাই হিমেল অনেক আকুতি মিনতি করার পর পনেরো হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ভুক্তভোগী শিহাবের বড় ভাই হিমেল তখনি যাত্রাবাড়ীতে তার নিজ বাসায় এসে পনেরো হাজার টাকা নিয়ে পূনরায় বামৈল চলে যান। এসময় এস আই নাজমুল সাদা পোশাকে থাকা একজনের সাথে পরামর্শ করে টাকা পনেরো হাজার সেই ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে বলেন। এস আই নাজমুলের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিহাবের বড় ভাই হিমেল ৩ টি এক হাজার টাকার নোট এবং ১২০ টি একশত টাকার নোট মিলিয়ে মোট পনেরো হাজার টাকা নাম না জানা সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। টাকা বুঝে পাওয়ার পর শিহাবের বড় ভাই হিমেলের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে এবং এই বিষয় কারোর সাথে আলোচনা বা না জানানো শর্তে শিহাব, সামির ও মামুনকে ছেড়ে দেন। এছাড়াও পরবর্তীতে উক্ত বিষয় কাউকে জানালে বিএনপির প্রিকেটিং এর মামলা দিয়ে দিবে বলে হুমকি প্রদান করেন।
ঘটনার পরের দিন ভুক্তভোগী শিহাবের বড় ভাই স্থানীয় সাংবাদিকদের ঘটনা সম্পর্কে জানায়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে সংবাদকর্মীরা এস আই নাজমুলের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রথমে এস আই নাজমুল সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের মুঠোফোনে কল দিয়ে চায়ের দাওয়াত দেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সংবাদকর্মীরা এস আই নাজমুলের সাথে সাক্ষাৎ করতে স্টাফ কোয়ার্টার যায়। স্টাফ কোয়ার্টারে সংবাদকর্মীদের সাথে এস আই নাজমুল সহ গাড়ীর ড্রাইভার বিল্লাল একটি রেস্টুরেন্টে বসে উক্ত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে ঘটনার সম্পর্কে এস আই নাজমুল বলেন, টাকা পয়সা সম্পর্কে আমি জানি না, তবে ঘটনা স্থানে আওয়ামীলীগের দলীয় কিছু লোক উপস্থিত ছিলো। তারাই প্রতারনার মাধ্যমে টাকা টা নিয়ে গেছে। সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে এস আই নাজমুল বলেন, সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তি টি আওয়ামীলীগের নেতা । আর টাকা পয়সা নেওয়ার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী জানায়, সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিটি এস আই নাজমুলের সোর্স হিসেবে কাজ করছিলো এবং টাকা নেওয়ার পূর্বে সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তি টি একাধিক বার এস আই নাজমুলের সাথে আলোচনা করেছে। এস আই নাজমুলের সাথে একাধিক বার আলোচনা করার পরেই পনেরো হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ।

এস আই নাজমুলের মত পুলিশের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারন জনগন নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে বলে আশংকা ব্যাক্ত করে, উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »