1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্যের পাহাড় গিলে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ভোর ৫:২৮ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
স্বতন্ত্র সাংসদ ওয়াহেদের বেপরোয়া আট খলিফা চৌদ্দগ্রামে পুকুরের মালিকানা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা ঋণ খেলাপী রতন চন্দ্রকে কালবের পরিচালক পদ থেকে অপসারন দাবি নীরব ঘাতক নীরব লালমাই অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি নিউজ করতে গিয়ে হুমকি, থানায় জিডি বিশ্বনাথের পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে সাত কাউন্সিলরের পাহাড়সম অভিযোগ বিশ্বনাথে ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী’সহ ২০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল মুখে ভারতীয় পণ্য বয়কট, অথচ ভারতেই বাংলাদেশি পর্যটকের হিড়িক শার্শায় সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহা দূর্নীতিবাজ ডিপ্লোমা মাহাবুব আবার ঢাকা মেট্রো ডিভিশনে!
নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্যের পাহাড় গিলে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা

নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্যের পাহাড় গিলে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম নগরীর জালালাবাদ ২ নং ওয়ার্ড আরিফিন নগর এলাকায় মহানগর মেট্রোপলিটন পাহাড়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বাড়ি করার অভিযোগ উঠেছে চিহ্নিত ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সিটির পাহাড় কাটায় সবচেয়ে আলোচিত এলাকা আরেফিন নগর। মূলত এলাকাটি পাহাড় কেটেই গড়া। আরেফিন নগর এলাকায় এখনো যেসব পাহাড় অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো রাতের আঁধারে কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছে দখলকারীরা। প্রথমে পাহাড়ের নিম্নাংশ কেটে বেশ কিছুদিন রেখে দেয়া হয়। সে সময় পাহাড়ের চারপাশে টিন কিংবা কোনো অস্থায়ী স্থাপনা দিয়ে আড়াল তৈরি করে এরপর মাটি সরিয়ে নেয়া হয়। মূলত পাহাড় কাটার জন্য বর্ষা মৌসুমকেই বেছে নেয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অবস্থিত এ এলাকায় মাঝে মধ্যে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও নির্বিচারে পাহাড় কাটা চলছেই। সম্প্রতি দেখা গেছে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদের নাম ভাঙিয়ে পাহাড় কাটার কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশেই চলছে এসব কাজ।

পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চট্টগ্রাম নগরীর মহানগর পাহাড় ও রূপসী হাউজিংয়ে তা মানা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, আরিফিন নগরের জাহাঙ্গীর সাতার টিঙ্কুর পাহাড় সংলগ্ন মহানগর পাহাড়ে পাহাড়তলী মৌজার বি এস ৩০৬ দাগে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন,সালাউদ্দিন, হাবিব এবং আরফিন নগরের মুক্তিযোদ্ধা কলোনীর রূপসী হাউসিং সোসাইটিতে দুলাল, ও নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে এবং বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ডাকাত কাল্লুসহ তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে বাড়ি ঘর তৈরি করার প্রকাশ্যে মহোৎসব চলছে ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর (মহানগর মেট্রোপলিটন) পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, বন্দরনগরীর হাজার হাজার শিল্প-কারখানার পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন নজরদারির মধ্যেও পাহাড় কাটা রোধে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর পরও পাহাড় কাটা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রভাবশালীরা নানা কৌশল অবলম্বন ছাড়াও স্বল্প আয়ের মানুষদের পাহাড় কাটায় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সময়ে নামজারি না করে পাহাড় কাটা ও মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটার ঘটনা দেখা গেছে। স্বল্প জনবল সত্ত্বেও সাধ্যমতো পাহাড় কাটা রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতি বর্গফুটে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। অধিদপ্তর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটায় অভিযুক্তকে জরিমানা করে। পরে কয়েক দফায় অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানার পর আদালতে মামলা করা হয়। এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। তাছাড়া অভিযুক্তরা গ্রেফতারের পর জামিনে এসে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অতীতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয়রা সচেতন না হলে কেবল সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে এসব রোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন পরিবেশবাদীরা। তাদের শঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে চট্টগ্রামের অবশিষ্ট পাহাড়গুলোরও আর অস্তিত্ব থাকবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »