1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
পিএসের স্ত্রীর অডিও ফাঁস: ভিসি আর পিএসের গ্রাসে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়! - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । সকাল ৮:১৪ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
শার্শায় মিটার ‘রিডিং’ না দেখেই অফিসে বসে করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল,গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বাংলাদেশ সংবাদপত্র শিল্প পরিষদের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত: সংবাদপত্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর  সহযোগিতা কামনা ভেজাল কোম্পানীর ভেজাল বাণিজ্যে স্বাস্থ্যসেবায় হুমকি  পত্রিকার প্যাডে সুইসাইড নোটসহ নদীতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান জমি দখল করতে না পারায় ইমরান কর্তৃক খালেদ আল মামুনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার  প্রবেশন সুবিধা পেল জবি শিক্ষার্থী তিথি কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনে, দুদকে অভিযোগ লেগুনা ড্রাইভার সোহেল ৩ থানায় গড়ে তুলেছে বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসী জনপ্রতিনিধি দ্বারা খুন-১ আহত-১
পিএসের স্ত্রীর অডিও ফাঁস: ভিসি আর পিএসের গ্রাসে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়!

পিএসের স্ত্রীর অডিও ফাঁস: ভিসি আর পিএসের গ্রাসে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়!

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ভিসি আর তার পিএসের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ডুবতে বসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। নিয়োগ, কেনাকাটা, পদোন্নতিসহ কিছুই হয় না ঘুষ ছাড়া। সিনিয়র, জুনিয়র ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে বলছেন, বিএসএমএইউতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নেই। এখন সর্বাঙ্গে দুর্নীতির ক্ষতচিহ্ন। সিংহভাগ ডাক্তারদের মধ্যে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, চিকিৎসা সেবার মানও ভেঙে পাড়ার উপক্রম। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ভিসিসহ একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বলা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ভিসি নিজেই বলে সিনিয়র চিকিৎসকরা দাবি করেছেন।
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশ-বিদেশে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় সুনাম অর্জন করে চলছিল। বিএনপিসহ চার দলীয় সরকারের আমলে সেই সময় এক ভিসির নেতৃত্বে একটি গ্রুপ নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, কেনাকাটাসহ দুর্নীতির দুর্গে পরিণত করেছিল। ঐ সময় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বর্তমান ভিসির আমলেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। নিয়োগ, কেনাকটা, পদোন্নতি ও অব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান। ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গাড়িচালকও জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কিছুই হয় না। এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে ঐ চালক বলেন, এমন দুর্নীতি আমি জীবনেও দেখিনি। চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তি এভাবে দুর্নীতি করতে পারে।
প্রখ্যাত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ভিসি থাকাকালে এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণায় ব্যাপক উন্নয়ন অর্জিত হয়। যার সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমান ভিসির আমলে সেই সুনাম মুছে যাচ্ছে। সিনিয়র অধ্যাপকরা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এই ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পাওয়া যায়। একাধিক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, একজন সিনিয়র ডাক্তার এভাবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, ভিসির পিএস ডাক্তার রাসেলের স্ত্রী ছাত্রলীগের ঐ নেতাকে ফোন করে বলেন, তুমি আরও ১২ লাখ টাকা নিয়ে আমার সাহেবের চেম্বারে যাও, আমার কথা হয়েছে, তোমার কাজ হয়ে যাবে। ঐ নেতা ১২ লাখ টাকা নিয়ে ভিসির পিএস রাসেলের চেম্বারে যান, ১২ লাখ টাকা হাতে দিলে পিএস বলেন, ১২ লাখ টাকা আমার স্যারকে দেওয়া যাবে, আরও বেশি টাকা লাগবে। আমারটা কোথায়? এই অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।
এই রাসেল দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা গ্রুপের নেতৃত্বে দেন। তার মাধ্যমেই সব দুর্নীতি পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। এই ভিসি মাত্র আড়াই বছরে ১ হাজার ৮০০ ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাত্র ৫০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনকে এডহক ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ দেন। এই নিয়োগে নিম্নে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সিনিয়র অধ্যাপককে বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগ না করে, তার ছাত্রকে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এই ধরনের আরও ১০টি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। বিএসএমএমইউয়ের সাগর চুরির মতো কোনো দুর্নীতি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়েছে কি না সিনিয়র ডাক্তাররা তা জানেন না। এই ভিসির কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবারতন্ত্র করার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান ভিসি। অতীতে কোনো কোনো ভিসির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান ভিসির মতো স্বজনপ্রীতি কেউ করেননি। তিনি ক্ষমতাবলে সন্তানসহ পরিবারের ১১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের নামে করেছেন হরিলুট। কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেননি। সার্টিফিকেটে, লেখক ও মনীষী বাণীতে ভুলে ভরা ছিল। এ নিয়ে অডিটে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়মনীতিতে তোয়াক্কা করেননি। এই দুর্নীতির সঙ্গে ভিসিসহ একটি গ্রুপ জড়িত যারা তার কথায় উঠবস করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ৭৫০ বেডের একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটা অবকাঠামো, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা। এটা হবে সব ধরনের জটিল রোগসহ সব ধরনের রোগী সুচিকিৎসা পাবে এমন মনোভাব নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশ সরকারকে ১৩০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়। গত ৩০ জুন মাসে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজ পূর্ণাঙ্গ শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে এই ভিসি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এটা উদ্বোধন করান। কিন্তু এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে এখনো চালু হয়নি। তার খবরদারির কারণে এই হাসপাতালটিও এখন রসাতলে যাওয়ার উপক্রম। ইতিমধ্যে একজন রোগী এনজিওগ্রাম করতে গিয়ে টেবিলেই মারা গেছেন। এটা নিয়ে হইচই শুরু হয়। মূল ভবন থেকে ডাক্তার এনে এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি কোনো রকম চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। এটা এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ডাক্তার-নার্স নিয়োগের নামেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান জানান, এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পরিচালনা, প্রশাসনসহ আলাদা অবকাঠামো থাকার কথা। কিন্তু চলছে উলটো পথে। যার কারণে অব্যবস্থাপনা হওয়া স্বাভাবিক। এই অবস্থায় চললে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি হয়ে যাবে একটি ক্লিনিকের মতো। এমন দাবি করছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। তারা বলেন, এটার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র ডাক্তারদের কাজে লাগানো হয় না।
এই ব্যাপারে ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখানে চিকিৎসা, সেবা ও গবেষণার মান উন্নত হয়েছে। নিয়োগ, টেন্ডারসহ সব প্রক্রিয়াই নিয়মমাফিক হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »