1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ন্য চরমে ! - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । বিকাল ৫:৫৭ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রয়েল আমলকী প্লাস দুর্দান্ত প্রতাপে বাজারজাত করা হচ্ছে টঙ্গীর মাদক সম্রাজ্ঞী আরফিনার প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় টঙ্গীতে মহাসড়ক দখল করে চাঁদাবাজি এ যেনো দেখার কেউ নেই পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে! শার্শায় মিটার ‘রিডিং’ না দেখেই অফিসে বসে করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল,গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বাংলাদেশ সংবাদপত্র শিল্প পরিষদের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত: সংবাদপত্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর  সহযোগিতা কামনা ভেজাল কোম্পানীর ভেজাল বাণিজ্যে স্বাস্থ্যসেবায় হুমকি  পত্রিকার প্যাডে সুইসাইড নোটসহ নদীতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান জমি দখল করতে না পারায় ইমরান কর্তৃক খালেদ আল মামুনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ন্য চরমে !

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ন্য চরমে !

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরির সংঘবদ্ধ চক্র। সর্বত্রই যখন গ্যাসের তীব্র সংকট, থেমে নেই এইসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য । শত শত বাসাবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ভাবে দেওয়া এসব সংযোগ, গ্যাস আসুক বা না আসুক, মাসোয়ারা আদায়ের মাধ্যমে মাস শেষে সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব্ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার । অভিযোগের তীর তিতাসের ঠিকাদার এবং তিতাস গ্যাস কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকে। খোদ তিতাসই বলছে, গত এক বছরে তারা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নিয়মিত অভিযান এবং সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ চললেও অবৈধ সংযোগের দৌরাত্ম্য কমছে না কেন ? অভিযোগ রয়েছে , রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাজলার পাড়, ভাঙ্গা প্রেস ও কোনাপাড়া এলাকায় গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি । জানা গেছে, তিতাসের গ্যাস লাইন সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকলেও তিতাসের এক শ্রেণির ঠিকাদার এবং কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের যোগসাজশে চলে আসছে গ্যাস সংযোগের মহোৎসব, বিশেষ করে বাসা বাড়ী, কারখানা, রেষ্টুরেন্ট গুলোতে ব্যাবহার হচ্ছে এইসকল সংযোগ। এলাকায় শত শত বাড়িতে একটি লাইনের বৈধ সংযোগ নিয়ে শত শত ফ্ল্যাটে অবৈধ সংযোগ দ্বারা গ্যাস লাইন করে দেওয়া হচ্ছে। এসব গ্যাসের সংযোগকারীরা এবং তিতাস গ্যাসের যাত্রাবাড়ী কাজলার পাড় এলাকার লাইন-ম্যান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই সকল সংযোগ দিয়ে থাকে বলে জানা যায়।গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীরা লাইনে বেশী গ্যাস টানতে ব্যবহার করছে জেড পাম্প। ফলে যারা বৈধ গ্যাস ব্যবহার করছে তারা ঠিকমত গ্যাস পাচ্ছে না। অবৈধ ব্যবহারকারীদের কারণে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বৈধ গ্যাস লাইন ব্যাবহারকারীরা, তেমনি সরকার হারাচ্ছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। অনেক গ্যাস ব্যাবহারকারী আবার প্রভাবশালী হওয়াতে ব্যবস্থা নেয়না তিতাস। যাত্রাবাড়ীতে সাংবাদিকদের এক চৌকস টিম কাজলার পাড় এলাকায় স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন, উক্ত কাজলার পাড় এলাকায় মোট ২৮৫ টি বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এসকল গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নৈ-পথে রয়েছে একাধিক ব্যাক্তি । সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ মনির হোসেন, হ্বাজী হারুন মিয়া, সমাজ কল্যাণ অফিসের সভাপতি মোঃ উজ্জ্বল মিয়া ও তার পিতা-মোঃ ইজ্জত আলী, মোঃ জাহাঙ্গীর এবং এ্যাড. সেলিমের পরিচালিত গ্যাস সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই যাত্রাবাড়ী কাজলার পাড় এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়, যার পরিচালনাকারী তিতাস গ্যাস কোম্পানির লাইন-ম্যান মোঃ স্বপন নিজেই। উক্ত গ্যাস সিন্ডিকেটের একাধিক হোতা উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে থাকেন । সাংবাদিকদের তৎপরতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং তিতাস গ্যাসের একটি টিম গত ১৯/০৬/২০২৩ ইং তারিখ কাজলার পাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মোট ১৮ টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তিতাসের অভিযানের পর থেকেই উক্ত সাংবাদিক টিমের একজন নারী সাংবাদিক কে গ্যাস সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য মুঠোফোনের মাধ্যমে নানাবিধ ভয়-ভীতি প্রদর্শন পূর্বক তাদের ক্লাবে যাওয়া জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভয়-ভীতি এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে নারী সাংবাদিক তাদের ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব সাহসীকতার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন । কিন্তু সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রকার উচ্চ মহলের পরিচয়দানকারী প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে ভয়-ভীতি এবং হুমকির মুখে পড়ে উক্ত নারী সংবাদকর্মী তার সহকর্মী ও অন্যান্য সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে বিষয় টি আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ফোন কলের কারনে সংবাদকর্মী সাক্ষাৎ করতে রাজি হোন। সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ হলে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক তার একাধিক সহকর্মীকে ভিন্ন পরিচয় গ্যাস সিন্ডিকেটের ক্লাবে যায়। উপস্থিত সকলে জানতেন, নারী সাংবাদিকের সাথে শুধু একজনই সংবাদকর্মী অন্যান্যরা পরিচিত শোভাকাঙ্খী বা আত্নীয়। এমতাবস্থায় গোপন বৈঠকে সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যরা সংবাদকর্মীদের গ্যাস সংযোগের সংবাদ প্রকাশ ও গ্যাস সংযোগ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। উল্লেখ্য বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার স্বার্থে, উপস্থিত সাংবাদিকদের মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেন । কিন্তু তাদের প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে, সংবাদকর্মীরা ক্লাব হতে প্রস্থান করেন। প্রস্থান কালে পিছন থেকে সিন্ডিকেটের মধ্যে অজ্ঞাত একজন বলে ওঠেন, ঠিক আছে করেন আপনাদের কাজ, তারপর আমরাও আমাদের কাজ অবশ্যই করবো। এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পর, সংবাদকর্মীরা গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে পুনরায় অনুসন্ধানের চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু ইতিপূর্বে তিতাস গ্যাস কোম্পানী কর্তৃক অভিযানে ১৮ টি লাইন বিচ্ছিন্ন করার কারনে, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা গ্যাস সংযোগ স্থাপনে ব্যবহৃত প্রধান সরঞ্জাম ,গ্যাস বিতরণকারী বা সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের পরিত্যক্ত রাইজার ( যা ব্যবহার করে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা হয়ে থাকে ) খুলে নিয়ে যায় । অভিযানের তৎপরতা কমে যাওয়ার দরুন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা আইন অমান্য করে প্রশাসনকে অসন্মান প্রদর্শন করে পুনরায় রাইজার সংযোজনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু করে। বর্তমান বহাল তবিয়তের সহিত গ্যাস লাইনের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ্য রাজনৈতিক এবং উচ্চ মহলের পরিচয়দানকারী সিন্ডিকেট । প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে, কোম্পানির লাইন-ম্যানের সর্ব সহযোগীতায় চালানো হচ্ছে গ্যাসের লাইন । এতে করে জন সাধারনের ভোগান্তির শেষ নেই, আর বাংলাদেশ সরকারের শত শত কোটি টাকার বৈধ রাজস্ব সরকারি খাতে জমা না হয়ে অবৈধ পন্থায় চলে যায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পকেটে, যার কারনে সল্প সময়ে তারা বনে যায় অঢেল সম্পদের মালিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, আমাদের বাসার মালিকেরা গ্যাস কোম্পানিতে বৈধ ভাবে লাইনের আবেদন করে সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু বৈধ লাইন নেওয়ার পরেও দিনের প্রায় সিংহভাগ সময় গ্যাস থাকে না। গ্যাসের সাময়িক কৃ্ত্রিম সংকটের প্রধান কারন শুধু মাত্র অবৈধ গ্যাস সংযোগ । অনেকে আবার গ্যাস লাইনের সাথে জেড মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত পরিমান গ্যাস ব্যবহার করে থাকে। বর্তমান সরকারের সকল প্রকার উন্নয়ন সার্থক হলেও এইসকল মানুষদের কারনে অনেক সাধারন মানুষের মনে বিরুপ প্রভাব ফেলে , অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারন জনগনের সকল সুবিধা/চাহিদা পূরনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। মোঃ মনির হোসেন, হ্বাজী হারুন মিয়া, সমাজ কল্যাণ অফিসের সভাপতি মোঃ উজ্জ্বল মিয়া ও তার পিতা-মোঃ ইজ্জত আলী, মোঃ জাহাঙ্গীর এবং এ্যাড. সেলিমের পরিচালিত গ্যাস সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই যাত্রাবাড়ী কাজলার পাড় এলাকায় গ্যাস সংযোগ, যার প্রধান ইন্ধনদাতা তিতাস গ্যাস কোম্পানির লাইন-ম্যান মোঃ স্বপনের কি কোনো বিচার হবে না ? আমরা সাধারন মানুষ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গ্যাস বিল এবং বৈধ গ্যাসের লাইন নিয়েও কি ভুক্তভোগী হয়ে গ্যাস সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে রবো । একই অভিযোগ আশেপাশের এলাকার গ্যাস লাইন ব্যবহারকারীদের ।

উক্ত বিষয়ে গ্যাস সিন্ডিকেট পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে সাধারন মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, সাধারন মানুষের ভোক্তা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় সচেতন মহল সহ গ্যাসের বৈধ লাইন ব্যবহারকারী স্থানীয় সাধারন মানুষ ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »