1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির ক্ষমতার দাপটে অসহায় শিক্ষক সমাজ - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । সকাল ৮:৪৮ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
শার্শায় মিটার ‘রিডিং’ না দেখেই অফিসে বসে করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল,গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বাংলাদেশ সংবাদপত্র শিল্প পরিষদের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত: সংবাদপত্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর  সহযোগিতা কামনা ভেজাল কোম্পানীর ভেজাল বাণিজ্যে স্বাস্থ্যসেবায় হুমকি  পত্রিকার প্যাডে সুইসাইড নোটসহ নদীতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান জমি দখল করতে না পারায় ইমরান কর্তৃক খালেদ আল মামুনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার  প্রবেশন সুবিধা পেল জবি শিক্ষার্থী তিথি কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনে, দুদকে অভিযোগ লেগুনা ড্রাইভার সোহেল ৩ থানায় গড়ে তুলেছে বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসী জনপ্রতিনিধি দ্বারা খুন-১ আহত-১
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির ক্ষমতার দাপটে অসহায় শিক্ষক সমাজ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির ক্ষমতার দাপটে অসহায় শিক্ষক সমাজ

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহা: আবদুল গনিকে অন্যত্র বদলি জন্য সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি গত ৩১/০৮/২০২৩ তারিখে ডি.ও: সংসদ সদস্য দপ্তর/১০৬/সাত-২/২০২৩/৪৭৯ নম্বর স্মারকে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ডিও লেটার প্রেরণ করেছেন। ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত জনাব মোহাঃ আবদুল গনি দীর্ঘদিন যাবৎ সাতক্ষরীরা সদর উপজেলায় কর্মরত আছেন। তিনি শিক্ষকদের সাথে রুঢ় আচরণ এবং প্রশাসনিক কর্মকান্ডে স্থবিবরতা ও দুর্নীতিগ্রস্থ হওয়ায় তাকে অন্যত্র বদলি করার জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু গত ০৩/০৯/২০২৩ তারিখে মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ডিও লেটার জমা হলেও অদ্যাবধি তাকে বদলি করা হয়নি। একজন মাননীয় সংসদ ও আইন প্রণেতা তাঁর নির্বাচনী এলাকার দুর্নীতিগ্রস্থ অফিসারকে বদলির জন্য ডিও প্রেরণের পরও বদলি না হওয়ায় হতাশার মধ্যে আছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষকবৃন্দ। কয়েকজন শিক্ষক জানান তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকতার দুর্নীতির সহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ দাখিল করবেন।
এ দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনির হুংকার শিক্ষক সমাজ ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। বিভাগীয় মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। ছোট খাট সূক্ষ্মাতিসূক্ষ দোষত্রুটি ও অনিয়ম খুঁজে বের করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষকগণ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। শিক্ষকগণ পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।
এদিকে হোসনে ইয়াসমিন করিমী তার দায়সারা প্রতিবেদনে শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের বিষয় তুলে ধরেছেন। দালাল শ্রেণির ১০জন শিক্ষকের একটি গ্রুপ এবং সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি নীতি অবলম্বন করেছেন। শিক্ষকগণ মনে করছেন বৃটিশদের থেকে দেশ রক্ষা পেলেও তাদের অবৈধ বংশধর এখনো আছে।
অতীতে সাতক্ষীরা সদরের শিক্ষকবৃন্দ এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সম্মূখীন কখনো হন নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ জানান, সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলির মাধ্যমে সঠিক তদন্তে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তাদের এখনো বিশ্বাস রয়েছে। কারণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনি এখানে কর্মরত থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্থ করবেন। তার প্রমাণ গত ২১/০৬/২৩ তারিখে ১২টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় উপপরিচালক জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। উক্ত সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করেনে। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেননি। বরং তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনিকে নিয়ে সকাল, দুপুর, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও নাস্তা-খাবারসহ চাইনিজ খেয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি রুমের দরজা বন্ধ করে দু’জনে আলাপচারিতায় লিপ্ত থেকেছেন। উক্ত অফিসের একজন সাবেক কর্মকতা জানান জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মোহা: আব্দুল গনির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। অর্ধকোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলাতিতে তিনি আরো বেশি বেপরোয়া আচরণ শুরু করছেন। শিক্ষকদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করছেন। “সাতক্ষীরা লোক অত্যন্ত খারাপ। এদের সাথে চলা যায় না” মর্মে সৃষ্টাচার বর্হিভুত কথা বার্তা বলছেন। ফলে শিক্ষকবৃন্দ তাদের হাতে থাকা প্রমাণাদি এক এক করে প্রকাশ করতে চলেছেন। গত ২১/০৬/২৩ তারিখে ১২টি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে উপ-বিভাগীয় পরিচালকের কথা বলে জেলা শিক্ষা অফিসার কয়েক লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দিতে পারলেও ফের দুর্নীতি অনিয়সহ অবৈধভাবে শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে উঠেছে। জানাগেছে, ২০২১ সালের ব্যাক ডেটে আনুমানিক ২০-২৫টি বিদ্যালয়ের (যার হিসাব সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে নেই) শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি অবৈধ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। আগরদাড়ি সপ্রাবি হতে উত্তর কাটিয়া সপ্রাবি, মাহমুদপুর সপ্রাবি হতে কামালনগর সপ্রাবি, গোদাঘাটা সপ্রাবি হতে সিলভার জুবিলী মডেল সপ্রাবি, বাঁশঘাটা সপ্রাবি হতে বাটকেখালী সপ্রাবি, মাছখোলা সপ্রাবি হতে সাতানী সপ্রাবি এর শিক্ষক ও শূন্যপদ সমন্বয়কৃত বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে শোনা যাচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ০৪ মার্চ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত ৩৮.০০৮.০২২.০০.০০.০০২.২০১১-১৩১ সংখ্যক স্মারকে উল্লেখিত ধারা ৬.০ অনুযায়ী “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর নিজ অধিক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একই উপজেলার বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত শিক্ষকদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সুপারিশের আলোকে বিদ্যালয় ভিত্তিক শিক্ষক সমন্বয় ও বিদ্যালয়ওয়ারী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা নির্ধারণ করে তা উল্লেখপূর্বক আদেশ জারি করবেন”। একই ধারার ৬.৪ উপধারায় শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত ১:৪০ এর উল্লেখ রয়েছে। অথচ সমন্বয় বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালাকে উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি মনগড়া নীতিমালার প্রতিফলন ঘটিয়ে শিক্ষক সমন্বয় বদলি করতে দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন আদেশ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ক্লাস্টার পর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় নাই। এমন কি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও কোন আদেশ কাউকে দেখাচ্ছেন না। সংযুক্তির নামে শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তারপর তাদেরকে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করা হয়েছে অত্যন্ত সস্তর্পণে। শুধু ৬.৪ নয় বরং ৬.৩ উপধারাকেও সম্পূণরুপে উপেক্ষা করা হয়েছে। কারণ ৬.৩ উপধারায় বলা আছে- “বিভাগীয় উপপরিচালক বিষয়টি যাচাইবাছাই করে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর এ ধরনের বদলির প্রস্তাব প্রেরণ করবেন”। শিক্ষক বদলি হয়েছে ঠিকই কিন্তু নীতিমালার আলোকে নয়। বরং অর্থের বিবেচ্য বিষয়ে যাকে দেওয়া প্রয়োজন তাকেই বদলি করা হয়েছে। যে স্কুলে শিক্ষকের চাহিদা সে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এখানে সরকার ঘোষিত নীতিমালাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিতার নিজ অধিক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে স্বৈরাচারী রাজার ভূমিকা পালন করেছেন। এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ কি জানতে চাইলে তারা বলেন, ০৮/০৫/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে আমাদের আস্থার জায়গা অত্যন্ত দূর্বল হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে আমাদের কিছুই বলার নেই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে মহাপরিচালক মহোদয় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রত সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। কিন্তু মাননীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেয়ার পরও তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
এদিকে শিক্ষক সমন্বয় বদলির ফলে যে সকল শিক্ষক বদলি হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পদসহ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে হতাশায় দিনতিপাত করছেন। কারণ সফটওয়ার ভিত্তিক হওয়ায় তাদের কারো কারো নাম অধিদপ্তরের সফটওয়ারে নেই বা পূর্বের স্কুলে রয়ে গেছে। ফলে সমন্বয়ের আদেশ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির দ্বারস্থ হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। অধিদপ্তরে ফোন করে তাদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আব্দুল গনি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি আরেক দফা টাকা দাবি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। শিক্ষকগণ আর টাকা দিতে পারছেন না। কোন কোন বদলিকৃত শিক্ষকের নিকট চা খাওয়ার নাম করে টাকা চাচ্ছেন। আবার ৫-১০ হাজার টাকা দিলেও নিচ্ছেন না। তার দাবি এক-দেড় লক্ষ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন আমি কোন এমপির চাকুরী করিনা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমার সুসম্পর্ক ও ভালো বোঝাপড়া আছে। আমি যতদিন চাইবো ততদিন সাতক্ষীরা চাকুরী করবো। এমপি কেন মন্ত্রীও আমাকে বদলি করতে পারবেন না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »