1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
সুপ্রীম কোর্টে কজলিস্টে অভিনব জালিয়াতি - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । রাত ৯:৫৪ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফের ভুয়া বিল ও কমিশন বাণিজ্য কার বলে বলিয়ান এলজিইডির বাবু নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার এবং দালালদের চলছে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য  বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা এসি নুরের অবাধ ঘুষ বাণিজ্য গুচ্ছের পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ আবেদন জবিতে টঙ্গীর মাদক সম্রাজ্ঞী আরফিনার বিলাসবহুল বাড়ী-গাড়ী রেখে থাকেন বস্তিতে! শরীয়তপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর গনধর্ষণ বেনাপোল কাস্টমসে ফুলমিয়া নাজমুল সিন্ডিকেটের ডিএম ফাইলে অবাধ ঘুষ বাণিজ্য নারীঘটিত কারন দেখিয়ে জবির ইমামকে অব্যাহতি, শিক্ষার্থীরা বলছে সাজানো নাটক মিটফোর্ডের জিনসিন জামান এখন ইমপেক্স ল্যাবরেটরীজ (আয়) এর গর্বিত মালিক
সুপ্রীম কোর্টে কজলিস্টে অভিনব জালিয়াতি

সুপ্রীম কোর্টে কজলিস্টে অভিনব জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে কতিপয় অসাধু কর্মচারি ও উকিলের সমন্বয়ে জালিয়াতির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। চক্রের মুলহোতা হিসেবে এডভোকেট এম ডি তাসাদ্দুক হাসান কাজ করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।ইতিপূর্বে জাল জামিননামা, বিচারকদের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া রায়ের কপি সরবরাহকারি চক্র আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছে। এখন আবার উদ্ভব হয়েছে কোর্টের কজলিস্টে তথ্য বিকৃতি চক্রের। জালিয়াত চক্রের অঙ্গুলী হেলানে কজলিস্টে খ্রীষ্টানের নাম রূপান্তরিত হয় মুসলিম নামে। সহসাই আগস্টিন পিউরিফিকেশনের নাম হয়ে যায় আসাদ উদ্দীন!
অনুসন্ধানে জানাগেছে, রীট পিটিশনের বিবাদী যেখানে একটি সমিতির নির্বাচন কমিটি সেখানে জালিয়াত চক্রের ইশারায় বিবাদি হয়ে গেছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন। অনুসন্ধানে কজলিস্টে নানা রকম জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রদত্ত কজলিস্টের বিবরন অনুযায়ী, দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ(কালব) লি: সংক্রান্ত ২টি রীট যথা- রীট পিটিশন নং-১১৮০৮/২০২২ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-প্রবির রেজা অন্যদিকে পিটিশনে লেখা আছে-ডেভিড প্রবিন রোজারিও । কজলিস্টে রেসপন্ডেন্টের নাম লেখা হয়েছে-বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন;কার্যত: রেসপন্ডেন্ট হচ্ছে নির্বাচন কমিটি,কালব।
রীট পিটিশন নং-১১৩২৭/২০২২ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-অস্টিন অন্যদিকে পিটিশনে লেখা আছে-আগষ্টিন।
এদিকে দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: সংক্রান্ত ৪টি রীট তথা- রীট পিটিশন নং-১৩০৪৮/২০২১ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-আসাদ উদ্দিন অথচ পিটিশনে লেখা আছে-আগষ্টিন পিউরিফিকেশন।
রীট পিটিশন নং-১৩২৬০/২০২১ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-বাদল অন্যদিকে পিটিশনে লেখা আছে-বাদল বি. সিমস্যাং।
রীট পিটিশন নং-১৩২৫৯/২০২১ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-এনামুল কিন্তু পিটিশনে লেখা আছে- ইমানুয়েল বাপ্পি মন্ডল।
রীট পিটিশন নং-১১০৪০/২০২১ এর কজলিস্টে পিটিশনারের নাম লেখা হয়েছে-আমাদিন অন্যদিকে পিটিশনে লেখা আছে-আগষ্টিন পিউরিফিকেশন।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে উপরোক্ত কজলিস্টে তথ্য বিকৃত করা সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রতিষ্ঠান তথা দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: ও দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ(কালব) লি: এর চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন আগষ্টিন পিউরিফিকেশন। আবার ডেভিড প্রবিন রোজারিও হচ্ছেন আগষ্টিন পিউরিফিকেশন’র একান্ত অনুগত লোক। অন্যদিকে উপরোক্ত যে ছয়টি রীট পিটিশনে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে তার আইনী প্রক্রিয়ার সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন এডভোকেট এম ডি তাসাদ্দুক হাসান। আবার তিনি দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: এর আইন উপদেষ্টা বা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। যেকারনে উক্ত জালিয়াতি কর্মকান্ডের মুলহোতা এডভোকেট এম ডি তাসাদ্দুক হাসান এবং যোগসাজসে রয়েছেন আগষ্টিন পিউরিফিকেশন ও ডেভিড প্রবিন রোজারিও বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে উক্ত জালিয়াতির ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রীট পিটিশনের কজলিস্টে নাম ও রেসপন্ডেট’র বিকৃতি বা জালিয়াতির উদ্দেশ্য হচ্ছে বিবাদিগণ যাতে রীট সম্পর্কে অন্ধকারে থাকে এবং সময় মতো আপিল করার সুযোগ না পান। মূলত: বিবাদীকে অন্ধকারে রেখে গোপনে রীট আদেশ নেয়ার অভিপ্রায় থেকে এধরনের জালিয়াতি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন। তাছাড়া,এটাকে নিতান্তই কম্পোজ মিসটেক মানতে নারাজ আইন বিশেষজ্ঞগণ। অনুসন্ধানে চলমান সময়ে অন্যকোন রীট পিটিশনের কজলিস্টে এমন বিকৃতি বা জালিয়াতির প্রমান পাননি প্রতিবেদক। তাহলে কেবল এক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত দু’টি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ছয়টি রীট পিটিশনের কজলিস্টে তথ্য বিকৃতির ঘটনা কেন ঘটেছে-এটাই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন।
জালিয়াতির মুলহোতা এডভোকেট এম ডি তাসাদ্দুক হাসান এর সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন’র সদস্য নং-২৩২৫।এনরোলমেন্ট’র তারিখ-৯/২/২০০১। এছাড়াও এম ডি তাসাদ্দুক হাসান এর বিরুদ্ধে কোর্টের অসাধু কর্মচারিদের সহায়তায় প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মামলার নথিপত্র গায়েব ও আইনজীবি ”ম্যানেজ” করে প্রতিপক্ষকে মামলায় হারিয়ে দেয়ার মত অপকর্ম করার অভিযোগ রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এহেন জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও এডভোকেট এম ডি তাসাদ্দুক হাসান এর বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট তথা সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »