1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
হারেৎজ এর দাবী॥ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । রাত ১২:২৪ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
হারেৎজ এর দাবী॥ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ

হারেৎজ এর দাবী॥ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার॥

ইসরায়েলের গোয়েন্দাদের প্রযুক্তি ইউনিটের প্রাক্তন কমান্ডারের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ সরকার উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি সরঞ্জাম কিনেছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। মঙ্গলবার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হারেৎজ সরকারি নথি এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানির রেকর্ডের বরাত দিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সরবরাহকারীর কাছ থেকে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) পরিবহনে সংযুক্ত করার জন্য এসব নজরদারি সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। তারা ইসরায়েলকে একটি রাষ্ট্র হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি দেশটির পাসপোর্টেও লেখা রয়েছে ‘এই পাসপোর্টটি ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ’। দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রযুক্তি কিনেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, অভ্যন্তরীন ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ট্র্যাক সংক্রান্ত বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি শাখা ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি)’ কাছে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আটকাতে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলি বিক্রি করা হয়েছিল। মূলত অনলাইন সেন্সরশিপ এবং নাগরিকদের ওপর নজরদারি বাড়ানোই এই প্রযুক্তি কেনার মূল উদ্দেশ।

প্যাসিটোরা নামের একটি কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে সাইপ্রাসে। কোম্পানিটি একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী এবং প্রাক্তন ইন্টেল কমান্ডার তাল দিলিয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন। পূর্বের প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল উইস্পেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির কেলেঙ্কারির কথা একসময় ফোর্বস সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাঁস করেছিলেন দিলিয়ান। সাক্ষাৎকারে তিনি কোম্পানির স্পিয়ারহেড সিস্টেমের অস্তিত্ব প্রকাশ করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে নজরদারি সরঞ্জাম এবং ট্র্যাকিং সফ্টওয়্যার দিয়ে সজ্জিত একটি ভ্যান যা প্রায় আধা কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এনক্রিপ্ট করা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ফেসবুক চ্যাট, যোগাযোগের তালিকা, কল এবং পাঠ্য বার্তাসহ সেলুলার এবং ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মোবাইল ফোন থেকে ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম।

উইস্পেয়ারের দাবি অনুযায়ী, সিস্টেমটি তার সীমার মধ্যে কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করাতে পারে।

ফোর্বসে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর বিপাকে পরে সাইপ্রাস সরকার। দেশটিতে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তদন্ত শুরু হয় কীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করা হলো তা বের করতে। যদিও শেষ পর্যন্ত দিলিয়ান এবং তার কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়, কিন্তু লারনাকা বিমানবন্দরের যাত্রীদের ডিভাইস থেকে ‘বেআইনিভাবে ডেটা ফাঁস করার’ জন্য উইস্পেয়ারকে দশ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি রেকর্ড অনুসারে ২০২২ সালের জুন মাসে, একটি স্পিয়ারহেড সিস্টেম সুইজারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এর সরবরাহকারী ছিল প্যাসিতোরা কোম্পানি এবং ক্রেতা ছিল এনটিএমসি। ৯৯১ কেজি ওজনের চালানটিতে ইন্টারসেপশন সিস্টেম, অপারেটিং সফ্টওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার উপাদান (সার্ভার, ড্রাইভ, মনিটর ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত ছিল যার জন্য মোট ৫০ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছিল।

প্যাসিটোরা মূলত ইন্টিলেক্সা অ্যালায়েন্স-এর অংশ যা দিলিয়ানের পরিচালিত কোম্পানিগুলির একটি নেটওয়ার্ক। এটি মোবাইল ফোন হ্যাকিং স্পাইওয়্যারসহ অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির দুনিয়ায় বিশেষ অস্থা তৈরি করেছে এবং তারা এটি সারা বিশ্বের সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করে৷ হারেৎজের তদন্তে দিলিয়ানের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশ হয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে সুদানের একটি কুখ্যাত মিলিশিয়াকে উন্নত গুপ্তচরবৃত্তির সরঞ্জাম সরবরাহ করার সঙ্গেও তার সংযোগ রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্যাসিটোরা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলির তত্ত্বাবধান করে কিনা এবং এটি বাংলাদেশে স্পাইওয়্যার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে হ্যারেৎজের প্রশ্নের সুনির্দিষ্টভাবে উত্তর দেয়নি। প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘আইন মেনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিষেবা এবং জ্ঞান সহ অননুমোদিত প্রতিরক্ষা রপ্তানি কার্যকর করতে কাজ করে এবং কাজ করবে। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সুরক্ষা, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সুবিধার জন্য প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতির তথ্য প্রকাশ করে না’।

প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার মতে গত এক দশকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনী উন্নত পর্যবেক্ষণ এবং গুপ্তচর প্রযুক্তির বিশাল চাহিদা তৈরি করেছে। সরকারি নথিতে ইসরায়েলের কাছ থেকে বিড গ্রহণ করা নিষিদ্ধ থাকলেও দেখা যাচ্ছে যে সাইবার অস্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিয়মের ব্যতিক্রম করতে প্রস্তুত। একইভাবে, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু ব্যতিক্রমগুলি প্রমাণ করে যে এই নিয়মের পিছনে অনিয়মই বেশি চলমান।

২০২১ সালেও বাংলাদেশি পুলিশ ইউনিট র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) কাছে ইসরায়েলি কোম্পানি সেলব্রাইট মোবাইল ফোন হ্যাকিং সরঞ্জাম বিক্রি করেছে। সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা নাগরিকদের গুম করার অভিযোগের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধিনে ছিল।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, আরেকটি ইসরায়েলি কোম্পানি ‘পিকসিক্স’ বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দাদের একটি মোবাইল ফোন নজরদারি এবং ফোন ট্রান্সমিশন আটকানোর জন্য হ্যাকিং সিস্টেম বিক্রি করেছে।

কিন্তু এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি নথিতে প্রথমবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি সরকারি সংস্থাগুলির দ্বারা ইসরায়েলি গুপ্তচর প্রযুক্তি কেনার জন্য আরও চারটি লেনদেন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে তারা ফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি করতে, তারবিহীন নেটওয়ার্ক হ্যাক করতে এবং ইন্টারনেট ট্রাফিক নিরীক্ষণ করতে সক্ষম।

এ জাতীয় সরঞ্জাম বিক্রি করা কোম্পানিগুলি হয় ইসরায়েলি বা বিদেশী যার ইসরায়েলের সঙ্গে স্পষ্ট লিঙ্ক রয়েছে এবং কিছু রপ্তানি ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, সাইপ্রাস এবং সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সংস্থাগুলির দ্বারা হয় যারা আপাতদৃষ্টিতে কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »