স্টাফ রিপোর্টার:
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেছেন, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার সংবাদ বিব্রতকর এবং সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এমন সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক নয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ভবেশ চন্দ্র রায় (বিরল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি) মারা যান। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ‘সংখ্যালঘু বা হিন্দু হত্যা’ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ায়, তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পুলিশ সুপার।
তবে, মৃত্যু নিয়ে এখনও অভিযোগ দাখিল হয়নি। ঘটনার দু'দিন পরেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, ভবেশ চন্দ্র রায়কে দুপুর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে একটি ফোন আসে, এরপর তিনি দুটি মোটরসাইকেলে চারজনের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। তবে তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি—তিনি স্বেচ্ছায় তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন।
রাত ১০টার দিকে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মোবাইল থেকে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ফুলবাড়ী হাট পাঠানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পান।
মৃত্যুর পরে, পরিবারের সদস্যরা জানান, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই এবং তারা ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন।
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানিয়েছেন, ফুলবাড়ী হাটে চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্ত ভবেশের বিপি মেপে তাকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন,
“ভবেশ চন্দ্র রায় দুপুর ৫টার দিকে তার প্রতিবেশী যুবক রতনসহ আরও তিনজনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে নাড়াবাড়ি হাটে যান। তারা একসঙ্গে আড্ডা দিতেন এবং মাঝে মাঝে মাদক সেবন করতেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে, পান-সিগারেট খাওয়ার পর, তিনি অসুস্থ হয়ে বসে পড়েন। পরে তাকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং যদি কোনো অপরাধের আলামত পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো হত্যার তথ্য নেই।”
ভারতীয় মিডিয়ার সংবাদ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার আরও বলেন:
“ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। সঠিক তথ্য নিশ্চিত না হয়ে যদি কিছু বলা হয়, তা অবশ্যই বিব্রতকর। কোনো ঘটনাটি যদি প্রকৃত না ঘটে থাকে, তবে এরকম সংবাদ পরিবেশন করা উচিত নয়।”
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত