ডেস্ক রিপোর্ট:
ইসরায়েল সরকার পবিত্র আল-আকসা চত্বরে বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের নাচ-গান ও বাধাহীনভাবে ঘোরাফেরার অনুমতি দিয়েছে—যা এ পর্যন্ত নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত। ইসলাম ধর্মের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে স্বীকৃত এই মসজিদের পবিত্রতা নিয়ে এমন পদক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল সেভেন’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো ইহুদি দর্শনার্থীরা আল-আকসা মসজিদের চত্বরে গান গাওয়ার, নাচ করার ও মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করার অনুমতি পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এসেছে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গেভির প্রস্তাবিত নতুন নীতির অধীনে। বেন-গেভির নিজেই একজন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার পার্টির প্রধান। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন সরকারের পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সপ্তাহ আগে কয়েকটি উগ্রপন্থি ইহুদি ধর্মীয় সংস্থা বেন-গেভিরের দপ্তরে গিয়ে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশাধিকার ও কার্যকলাপ বাড়ানোর দাবি তোলে। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরই বেন-গেভির এই অনুমোদন দেন। এমনকি তিনি বৈঠকে বলেছিলেন, “আমি চাই পুরো আল-আকসা চত্বরজুড়ে সঙ্গীতের ধ্বনি বেজে উঠুক।”
চ্যানেল সেভেনের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীকে ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দর্শনার্থীদের গান, নাচ বা ঘোরাফেরায় কোনো বাধা না দেওয়া হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্ট্যাটাস কু’ বা দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ঐতিহাসিকভাবে অল হরম শরীফ হিসেবে পরিচিত আল-আকসা চত্বর শুধুমাত্র মুসলিমদের উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, অন্য ধর্মের লোকজন সেখানে প্রার্থনা করতে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে পারে না—এমন নীতি বহাল রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিয়মের কিছু কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও এবার তা রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের রূপ পেল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দখলদারবাদী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব, যা এই পবিত্র স্থানকে ধর্মীয় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারে।
আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রথম কেবলা এবং তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এই মসজিদ ও চত্বর ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে। ১৯৮০ সালে পুরো পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেই দাবি স্বীকৃতি দেয়নি।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত