নিজস্ব প্রতিবেদক:
জনপ্রিয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ আবারও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। এবার অভিযোগের তীর উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীরের দিকে। সম্প্রতি অভিনেত্রী ইশরাত জাহান রীতিকা এক ভিডিও বার্তায় সানভীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রীতিকার দাবি, তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে সানভীরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সম্পর্কের শুরুতে সানভীর তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন এবং রীতিকার খোঁজখবর না নিয়ে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
ভিডিও বার্তায় রীতিকা আরও জানান যে, হঠাৎ একটি ভিডিও কলে তিনি সানভীরকে অন্য এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি সানভীরের বাসায় গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। রীতিকা অভিযোগ করেন, "আমি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার বাসায় গেলে তার বাবা, মা, বডিগার্ড, দারোয়ান ও গৃহকর্মীরা আমাকে মারধর করে, চুল ধরে টেনে বের করে দেয়, এমনকি পেটে লাথিও মারা হয়। আমার চালককেও তারা মারধর করে।"
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন তিনি মুখ না খোলেন। রীতিকা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, "আমার যদি কিছু হয়, তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবে সাফিয়াত সোবহান সানভীর, তার বাবা-মা এবং বসুন্ধরা গ্রুপ।"
নির্যাতনের ঘটনা প্রসঙ্গে রীতিকা জানান, সানভীরের প্রতি রাতে দুজন মেয়ে প্রয়োজন হয় এবং এই মেয়েদের যোগান দেন 'অনু' নামের এক নারী। রীতিকা আরও উল্লেখ করেন যে, অনু যাত্রাবাড়ী থেকে ৩ হাজার টাকায় যৌনকর্মীও এনেছেন সানভীরের জন্য। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করা এই অনু এখন সানভীরকে ব্যবহার করে ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক হয়েছেন। তিনি এখন ২৪ লাখ টাকার প্রিমিও গাড়ি ব্যবহার করেন।
এদিকে, ২০২১ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অন্য ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া হত্যা মামলার সূত্রে আলোচনায় আসেন। ২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুনিয়ার পরিবার অভিযোগ করে, আনভীর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে হুমকি দিয়ে সম্পর্ক থেকে সরে আসেন, যা মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ছয়টি ডায়েরি ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে আনভীরের উপস্থিতিও উঠে আসে।
বসুন্ধরা পরিবারের আরেক সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাসভীরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় নারীঘটিত বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানের সঙ্গে বিক্রমপুরের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও সূত্র জানিয়েছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।
২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল আরাফা প্রধান মিথিলা নামের এক কিশোরীকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে ধর্ষণের পর মারধর করে আটকে রেখে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাসভীরের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় মেয়েটি উদ্ধার হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একটি নামমাত্র মামলা দায়ের করে এত বড় স্পর্শকাতর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত