চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ভোর মাদকাসক্তি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেখানে ১০ থেকে ২০ বেডের লাইসেন্স প্রদান করে, সেখানে এই সেন্টারে নিয়ম ভেঙে তার দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী রাখা হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী পরিচালক পারভেজ আহমেদ-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে উদ্বতপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, লাইসেন্সে দেখানো সার্বক্ষণিক চিকিৎসক সেন্টারে অধিকাংশ সময় উপস্থিত থাকেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন রোগী বলেন, “লাইসেন্সের তিন গুণ রোগী রাখার কারণে ভেতরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না। একটু কথা বললেই মারধর করা হয়। আবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শন এলে আমাদের ভাগ করে বাইরে বসিয়ে দেওয়া হয় এবং দেখানো হয় আমরা সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছি।”স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক একটি দলের সাবেক ক্যাডাররা রাতে এখানে নিয়মিত আড্ডা জমায়। এতে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জানান, “এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমরা সেন্টার তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দিই এবং লাইসেন্স বাতিল করি।”অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,“আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। উক্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে সেন্টারের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।রোগীদের অমানবিকভাবে রাখা ও নির্যাতনের প্রমাণ মিললে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জেল ও অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের মতে, রিহ্যাব সেন্টারগুলো মাদকাসক্তদের নতুন জীবন দেওয়ার জায়গা। কিন্তু অনিয়ম ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুধু অনৈতিক নয়, বরং অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত