তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশী মদ সহ আটক ১ আপন ভাই-বোনকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে কি? পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ১ মাসের অবকাশকালীন চেম্বার কোর্ট গঠন পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ বরগুনায় শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ খুলনায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার আসামি সায়মন গ্রেফতার সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে পারব: প্রধানমন্ত্রী খুলনার চাঞ্চল্যকর রাজীব হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিপন গ্রেফতার হত্যা মামলায় মা-বাবাসহ ছেলে গ্রেফতার রামগড়ে জ্বালানি তেলের সংকট, তেল দোকানে উপচে পড়া ভিড় সাদাকাতুল ফিতরের আলোচনা: মাওলানা শাহ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ভারতে ধনী তারকাদের শীর্ষে শাহরুখ খান আমতলীতে খাস জমি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৭ মালদ্বীপে ৫ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের দাফন সম্পুর্ন পাশে থাকার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া চাইলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কুয়াকাটায় রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো দুই শতাধিক গাছ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ আইসিপিতে স্বর্ণসহ আটক ১ বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে চাটমোহরে কৃষকের জমির তরমুজের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ  শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের আগে পরিশোধ বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ইরানের রামগড়ে ভিজিএফের চাল বিতরণ শেরপুরের নকলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মহাসড়কে বেলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১২ রাজধানীর কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু মঠবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে আটকে ভিডিও ধারণ ও মুক্তিপণ দাবি তিন দিন স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ ঈদের পরে নতুনরুপে আসছে মোহনা টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান “সাড়া দাও বাংলাদেশ” বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ উল্লাপাড়ার ঘাটিনা রেল ব্রিজে ট্রেনের ধাক্কায় খালাতো দুই ভাই নিহত কুয়াকাটায় দুর্বৃত্তদের আগুনে জেলের জাল ও নৌকা পুড়ে ছাই সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরন অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের সদস্য আটক কুয়াকাটায় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ঝিনাইগাতী-নকলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার মনিটরিং ঝিনাইগাতীতে ভিজিএফের চাল পেল ১২ হাজার ৬৩০ পরিবার ঝিনাইগাতীর মেধাবী ছাত্র হৃদয় চক্রবর্তী ৪৫ তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে ভাঙচুর খুলনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগে লঙ্কাকাণ্ড পরিচ্ছন্নতার ঝাড়ু হাতে নামবে সংসদ সদস্যরা ভক্তদের কাছে পিয়ার বার্তা: এই পথটাকে উপভোগ করুন লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদত, জিকির ও দোয়ার ফজিলত ঝগড়া এড়িয়ে গেলে কি সম্পর্ক সত্যিই সুখী থাকে দীঘিনালায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি রিপন আটক আগুনে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা খুলনার ডুমুরিয়াকে জিরো কমপ্লেইন থানায় রূপান্তরের উদ্যোগ সংসদ অধিবেশনে দর্শকসারিতে ড. ইউনূস ও তারেক পরিবারের সদস্যরা

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার তালিকায় জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ওয়াকিল আহমেদ শিহাব। জুলাই আন্দোলনে গুলিতে শহীদ হন তিনি। সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের উপর্যুপরি গুলি লাগে তার পিঠে। পরে তাকে ধরে কপালে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। গতবছর চার আগস্ট ফেনীর মহিপালে সমাবেশ হচ্ছিল। সেই সমাবেশে হামলা চালানো হয়। এই সমাবেশ স্থলে শিহাবসহ শহীদ হন ৭ জন। এ ব্যাপারে আলাদা আলাদা মামলা হয়। কিন্তু জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা নিয়ে ঘটে অকল্পনীয়, অসম্ভব এক প্রতারণা।
দেশে এ পর্যন্ত এমন ঘটনা কোথায় ঘটেনি। ঘটবেও না। কিন্তু ফেনীতে যা ঘটেছে তা শুনলে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। বাদী জানেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবীও জানেন না। বিগত সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা পর্যায়ে কমিটি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো কমিটির সদস্য সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়। ফেনী থেকে এমন ৫৮০টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে রহস্যজনকভাবে তালিকায় দেয়া হয় জুলাই শহীদ শিহাবের মামলাটিও। এজন্য করা হয় নানা কৌশল।
শিহাব হত্যার ঘটনায় গত বছর ২০শে আগস্ট ফেনী সদর মডেল থানায় মামলা করেন তার মা মাহফুজা আক্তার। মামলা নম্বর- ১৪, জিআর-৩৭২/২০২৪। এতে প্রধান আসামি করা হয় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। এরইমধ্যে শিহাব হত্যা মামলায় ১৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলাটিতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আটক আসামিরা। এ মামলা কীভাবে কেন বিগত সরকারের হয়রানিমূলক মামলার অন্তর্ভুক্ত হলো? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন সর্বত্র। জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটির যাচাই-বাছাইক্রমে জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেছবাহ উদ্দীন খানের সুপারিশটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চলতি বছরের ২৩শে র্মাচ। এতে নির্দিষ্ট ফরমে উল্লেখ করা হয়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ফেনী সদর-এ মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনার স্থান হিসেবে ফেনী থানাধীন তথ্য দিয়ে এফআইআর অনুযায়ী মামলার নিচের দিকের দুই আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। নামের ক্রমিক নং উল্লেখ করা হয় আবদুল্লাহ আল মহসিন ও আবুল কালাম ওরফে ছালাম উল্যাহর নাম। সুপারিশপত্রে ফেনী থানার মামলা নম্বর দেখানো হয়েছে ২৫, তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১১/২৪, আর জিআর ৩৭২/২৪। প্রকৃত পক্ষে শিহাব হত্যায় ফেনী থানায় মামলা নম্বর-১৪, জিআর-৩৭২/২০২৪। এখানে প্রধান আসামিসহ তিন সাবেক এমপি’র কারও নাম দেখানো হয়নি কৌশলে। তাদের নাম দিলে বিষয়টি খোলাসা হয়ে যাবে। আর সমস্যায় পড়বে জেলা কমিটি। এভাবেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিহাবের মামলাটি তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা চাওয়া হয় ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের রাজনৈতিক হয়রানি মামলার তালিকা। সে তালিকা তৈরির জন্য জেলা পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ে দু’টি কমিঠি গঠন করা হয়। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন- জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজের একজন করে প্রতিনিধি এবং পিপি এ কমিটির সদস্য। এ কমিটি জনগণের কাছে হয়রানিমূলক মামলার নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্রসহ আবেদন চায়। বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই করে এ কমিটি ৫৮০টি মামলা প্রত্যাহারের জন্য গত বছর ১৬ই ডিসেম্বর সুপারিশ পাঠায় মন্ত্রণালয়ে। প্রতিটি মামলায় পিপি নিজে স্বাক্ষর করে তা পাঠানো হয়। এ সব মামলা থেকে ইতিমধ্যে ২৩১টি মামলা প্রত্যাহার করতে চলতি বছর ৩০শে জুন জেলা পিপি’র কাছে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। বাকিগুলো পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিহাবের মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশে পিপি স্বাক্ষর ও মামলাটি প্রত্যাহারযোগ্য সিল দেয়া হয়। তারিখ দেন ২৩/৩/২০২৫ ইং। প্রশ্ন ওঠে কত কৌশল খাটানো হয়েছে এ মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টায়। মামলাটির থানার নম্বর ও তারিখ সুকৌশলে গোপন করে প্রকৃত মামলাটি প্রত্যাহারের অপচেষ্টা বলে মনে করছেন এক আইনজীবী।
গত বছর ২২শে সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সময় ও নানা কারণে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুইটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের স্বাক্ষরে পরিপত্র জারি করা হয়। জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটরকে (মহানগর এলাকার মামলাসমূহের জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর) সদস্য এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য সচিব করা হয়।
জেলা পর্যায়ের কমিটির কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে- রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগপত্রের সার্টিফাইড কপি দাখিল করতে হবে। আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দরখাস্তটি পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে মতামতের জন্য পাঠাবেন। আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর তার মতামত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন। পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি ৭ দিনের মধ্যে জেলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করবেন।
জেলা কমিটির কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি রাজনৈতিক বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে হয়রানির জন্য করা হয়েছে, তাহলে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য কমিটি সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সুপারিশ, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্রসহ আবেদন প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে সংযুক্ত ছক অনুযায়ী তথ্যাদিসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এতে থাকতে হবে পিপির সুপারিশসহ স্বাক্ষর।
মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়- জেলা কমিটির কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর আওতাধীন মামলাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন-১৯৫৮ এর ১০(৪) বিধানমতে কমিশনের লিখিত আদেশ ব্যতীত প্রত্যাহার করা যায় না।
এ কারণে এ ধরনের মামলা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করতে হবে। মামলার বিষয়ে করণীয় পরে নির্ধারণ করা হবে। এই কমিটিতে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সভাপতি করে জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার উপ-সচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিবকে সদস্য সচিব করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকারেই শহীদ শিহাবের মামলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এছাড়া এ মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী আবেদনও করেনি। কিংবা বাদীর আইনজীবীও বিষয়টি জানেন না।
শহীদ শিহাবের মামলার আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি শুনে অবাক হন। তিনি বলেন, বাদী শত প্রতিকূলতার মাঝেও পুত্র হত্যার বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আমার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এছাড়া প্রশাসন ও আদালত সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের মামলার বিচার নিশ্চিতে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, শিহাব যেদিন মারা যায় সেদিন শেষ বক্তা ছিলাম আমি। আমার বক্তব্য দেয়ার মাঝেই ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে ৭ জন নিহত হয়। এই ৭টি মামলার দায়িত্বই আমি নিয়েছি। বিনা-পয়সায় এ মামলাগুলো আমি চালাবো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যেখানে মামলার বিচারের জন্য শহীদ পরিবারগুলো গুমরে কাঁদছে সেখানে শিহাবের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন খুবই রহস্যজনক।
তিনি বলেন, এছাড়াও পরদিন ৫ই আগস্ট শহরের বড় মসজিদের সামনে গুলিতে নিহত হন একজন। এ মামলাটিও আমি আইনজীবী হিসাবে লড়ছি।
এ ব্যাপারে শিহাবের পরিবারও কিছু জানেন না। তারা নিশ্চিত আইন-প্রশাসন আর আইনজীবী মিলে সবাই মামলা নিয়ে একাট্টা।
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামে শহীদ শিহাবের বাড়ি। শিহাবের বাবা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ থাকেন সৌদি আরব। পুত্রের মুত্যু সংবাদ শুনে তিনি দেশে আসেন। মা মাহফুজা আক্তার। তিনিই শিহাব হত্যা মামলার বাদী। শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার তুলে ধরেন তার ছেলে হত্যার ঘটনা, মামলা ও মামলা পরবর্তী অবস্থা।
জানান শত চেষ্টা করেও ছেলেকে হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি। ৪ঠা আগস্ট চার থেকে পাঁচবার বাড়ি থেকে মহিপাল আন্দোলনে অংশ নেন শিহাব। সবশেষ মাকে বলে আসেন হাসিনার পতন ঘটিয়েই বাড়ি ফিরবেন। আর বন্ধুদের আগের রাতে বলেছিলো এ আন্দোলনে যদি শহীদ হওয়া যেতো! মাহফুজা বলেন, তার এই চাওয়া যে আল্লাহ্‌ কবুল করে নেবেন কে জানতো? মাহফুজা বেগম বলেন, সন্তান শহীদের মর্যাদা পেয়েছে। এখন আমার দাবি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড।
শিহাবের মা ও বাবা জানান- কয়েকদিনে অন্তত ৫ জনের মাধ্যমে মামলা থেকে আসামির নাম বাদ দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকার অফার এসেছে। সবশেষ ২৬শে সেপ্টেম্বর তিনজনকে মামলা থেকে বাদ দিলে তিন লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়। মাহফুজা বলেন, ছেলে হারিয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশায় আদালত থেকে থানা, পুলিশ ও আইনজীবী পর্যন্ত তীক্ষ্ণ নজর রাখছি।
তিনি বলেন- কোটি টাকা পেলেও ছেলে আর ফিরবে না, তাই বিচারে কোনো আপস করা হবে না। মামলাটি আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বিনা খরচে পরিচালনা করছেন বলেও জানান- মাহফুজা।
এ ব্যাপারে জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিটউর (পিপি) মেছবাহ উদ্দীন খান বলেন, এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমার নলেজে নেই।
শহীদ শিহাবের মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শিহাবের মামলা তো চার্জশিট হয়েছে। সেটা তো প্রত্যাহার হওয়ার কারণ নেই। এমনও হতে পারে কম্পিউটার মিসটেক হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যেসব মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এরমধ্যে ২৩১টি এ পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়েছে।
শিহাবের মামলার বিষয়টি অফিস খুললে নথি দেখে বলতে পারবো। সাত শহীদের মামলা প্রত্যাহার করে রেখেছি। মামলা না ৮ টি? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে ৮ জন নয়, সাতজন শহীদ হন। একটি মামলা হয়েছিল গুলি করে ছাত্রলীগের ছেলেরা যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। সেটি শহীদ হিসাবে মামলা হয়েছিল। সেটি বাদ দেয়া হয়েছে। আসলে মামলা ৭টি। মামলা প্রত্যাহারে কৌশল করা হয়েছে।
যেমন এক নম্বর আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তারপর রয়েছেন আলাউদ্দিন নাসিম, নিজাম হাজারী প্রত্যাহারের তালিকায় তাদের নাম না দিয়ে নিচের দিকের দুইজনের নাম দেয়া হয়েছে। যার জিআর নং ৩৭২/২৪। পিপি বলেন, আসলে আমি এ মুহূর্তে আপনাকে কোনোটাই শিউর করে বলতে পারছি না। কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

বিদেশে নারীকর্মী নির্যাতন শিকার দেশে ফেরার আকুতি

বিদেশে নারীকর্মী নির্যাতন শিকার দেশে ফেরার আকুতি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম আকলিমা খাতুন (৩২)। তিনি উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর A18462948। জানা গেছে, আর্থিক অনটনে পড়ে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় তিনি সৌদি আরবে যান। বর্তমানে তিনি দেশটিতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে আকুতি জানাচ্ছেন। ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে, তারা কোনো খোঁজখবর রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন
language Change