মো: আলমগীর হোসেন পলাশ ॥
প্রশ্ন ১: সর্বাধিক ভোট পেয়ে উপ–মহাসচিব নির্বাচিত হলেন— অনুভূতিটা কেমন?
মাহবুবুর রহমান শাহীন: এই দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য সম্মানের, আবার একইসাথে বড় একটি দায়িত্বের বোঝা। ৭০ ভোটের ঐতিহাসিক সমর্থন শুধু আমার প্রতি আস্থা নয়—এটি দেশের ক্রীড়াব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি এই আস্থাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
প্রশ্ন ২: উপ–মহাসচিব হিসেবে আপনার প্রথম ১০০ দিনের কাজের অগ্রাধিকার কী?
শাহীন: আমার তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার—
১. ফেডারেশন ও বিওএ–এর সমন্বয় শক্তিশালী করা
২. অলিম্পিক প্রস্তুতি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন
৩. ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টকে জাতীয় পর্যায়ে একীভূত করা
প্রথম ১০০ দিনে কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি দাঁড় করাতে চাই, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশ উপকৃত হয়।
প্রশ্ন ৩: এই দায়িত্ব পেতে চাঁদপুরের ভূমিকা কতটুকু?
শাহীন: চাঁদপুর আমার শক্তি।
এ জেলার মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন, এবং ভরসা আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আমি গর্বিত যে চাঁদপুর আজ জাতীয় ক্রীড়া নেতৃত্বে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
আমার বিজয় চাঁদপুরের বিজয়।
প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা কোথায় দেখেন?
শাহীন: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— সিস্টেমের অভাব।আমাদের প্রতিভা আছে, খেলোয়াড় আছে, তবে সমস্যা হলো—
দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের অভাব স্পোর্টস সায়েন্স ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা ফেডারেশনগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য
আধুনিক পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের ঘাটতি আমার লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশে একটি একীভূত ক্রীড়া সিস্টেম গড়ে তোলা।
প্রশ্ন ৫: সাঁতার ফেডারেশনের নেতৃত্বে আপনার কাজ কি বিওএ–তে ভূমিকা রাখবে?
শাহীন: অবশ্যই।সাঁতার আমাকে শিখিয়েছে—গতি শৃঙ্খলা ধারাবাহিকতা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট
এই অভিজ্ঞতা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে ন_POLICY, দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি এবং অ্যাথলেট উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশাল সহায়তা করবে।
প্রশ্ন ৬: দেশের অ্যাথলেটরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিছিয়ে কেন?
শাহীন: কারণগুলো তিন ধাপে বিভক্ত—
১. প্রস্তুতিতে ঘাটতি এখনো আমাদের ট্রেনিং অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ধারার ওপর নির্ভরশীল।
২. খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা অ্যাথলেটদের খাদ্য, ফিটনেস, মনস্তত্ত্ব—সব জায়গায় আধুনিক সহায়তা দেওয়ার সিস্টেম দুর্বল।
৩. প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাব দেশীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা না থাকলে আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে না।
প্রশ্ন ৭: অলিম্পিক স্পিরিটকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করবেন?
শাহীন: অলিম্পিক স্পিরিট শুধু প্রতিযোগিতায় নয়— এটি একটি সংস্কৃতি।
আমি চাই—স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অলিম্পিক এডুকেশন প্রোগ্রাম গ্রাসরুট পর্যায়ে অলিম্পিক ভ্যালুস প্রচার
বিওএ–কে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা যেখানে শিশুদের মধ্যে থেকেই স্পোর্টসম্যানশিপ, শৃঙ্খলা, সম্মান ও পরিশ্রমের মূল্যবোধ তৈরি হবে।
প্রশ্ন ৮: চাঁদপুরের তরুণ ও অ্যাথলেটদের জন্য আপনার বার্তা কী?
শাহীন: আমি সবসময় বলি— “চাঁদপুর শুধু নদীর জেলা নয়, প্রতিভার জেলা।”
তরুণরা খেলাধুলায় এগিয়ে এলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় পাশে থাকব। চাঁদপুরে সাঁতার, ফুটবল, অ্যাথলেটিকসসহ সব খেলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে আমরা বৃহৎ পরিকল্পনা নিচ্ছি।
প্রশ্ন ৯: আপনার দীর্ঘমেয়াদী ভিশন কী?
শাহীন: আমার ভিশন একটাই— বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ক্রীড়া জাতিতে রূপান্তর করা।
এর জন্য দরকার— বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ আধুনিক অবকাঠামো পরিকল্পিত প্রতিভা বিকাশ দলের মধ্যে পেশাদারিত্ব
আন্তর্জাতিক এক্সপোজার এই সবকিছু একীভূত করেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
শেষ কথা
আমি দায়িত্বে নয়—দায়িত্ববোধে বিশ্বাসী।
বাংলাদেশের তরুণরাই হবে পরিবর্তনের নায়ক।
বিওএ সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হবে—এটাই আমার লক্ষ্য।”
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত