মো: মাসুদ রানাঃ
৮ই ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অকুতোভয় মুক্তিসেনা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটে রামগড় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা রামগড়ে প্রবেশ করে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে রামগড়কে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন।
পড়ন্ত বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত সুলতান আহমেদ মুক্তিকামী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রামগড় ডাকঘরের শীর্ষে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত তৎকালীন মহকুমা শহর রামগড় ছিল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র প্রতিরোধ-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গড়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ শিবির। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (তৎকালীন মেজর) এখান থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করতেন।
তিনি ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় বিএসএফ প্রধান ব্রিগেডিয়ার পান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে ব্রিগেডিয়ার পান্ডেসহ মেজর শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশারফ ও মেজর শাফায়েতকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স করেন। সেই বৈঠকেই মেজর জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২ মে পাকিস্তানি বাহিনী রামগড়ে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। মুক্তিযুদ্ধ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা মেজর রফিকুল ইসলাম সমস্ত স্থাপনা ও যুদ্ধসামগ্রী সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সাবরুমে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলে তীব্র প্রতিরোধের পর রামগড়ের পতন ঘটে।
পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন করে মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় আক্রমণ শুরু করেন। ৭ ডিসেম্বর রাত ও ৮ ডিসেম্বর ভোরে ভারতীয় দুটি জঙ্গিবিমান রামগড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় দু’দফা সফল হামলা চালালে শত্রুরা রামগড় ত্যাগে বাধ্য হয় এবং রামগড় আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের হয়ে রামগড় বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে বিজয় ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম।
উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এডহক কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ বিহারী নাথ, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত