মোঃ ইব্রাহিম হোসেন:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর,গাঁড়াদহ ও পোতাজিয়া ইউনিয়নের স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ইট ভাটার কারণে কৃষি জনবসতি ও পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতির অভিযোগ করছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন এই ইট ভাটা গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলমান যা জন জীবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ভাটা গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
চলতি বছরে উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত ভাটা মালিক দের সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা যে কোন সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারের ও ডিসি স্যারের ডাকে সাড়া দেই এবং সাংবাদিক দের হাতে হাতে পৌঁছে দেই। এমন বক্তব্যের কারণে তিনি বিতর্কও হয়েছেন।
সরজমিনে,তার মালিকানাধীন MMH এবং MNH ব্রিকস সহ আরো ভাটা মালিক সমিতির নেতৃত্বে চলছে অবৈধ ভাবে একাধিক ভাটা যে-সব ভাটার নেই কোন পরিবেশ ছাড়পত্র!
নিষিদ্ধ এলাকায় স্থাপিত সকল ইট ভাটা।
এ-সব বিষয়ে হাজী মোঃ রফিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করলে তিনি একটিও সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। বরং তিনি খুব দাপটের সঙ্গে বলেন, ২০ বছরের অধিক বছর ধরে এভাবেই ভাটা চলছে। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া কিভাবে ভাটা চালানো সম্ভব এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,সংশ্লিষ্ট মহলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্দোবস্ত করেই চলছে এ-সব ভাটা গুলো। হাজী রফিকুল ইসলাম আরো জানান, কোন ঝামেলা না হওয়ার কারণ আমাদের ভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে প্রতি মাসে মাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দের পকেটে ঢুকে মোটা অংকের মাসহরা! আর এভাবেই চলছে অবৈধ এ-সব ভাটা।
স্থানীয়রা প্রশাসনের এই ব্যর্থতাকে নির্মম প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। চলতি বছরে কায়েমপুর ইউনিয়নের সৌরভপুর গ্রামে ৯৭ জন কৃষকের ধান তীব্র তাপ ও ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়িতে শ্বাসকষ্ট, বাজারে ধুলো জমে পণ্য নষ্ট হওয়া সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সবই স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শাহজাদপুর বাসির স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা গুলো ইট ভাটার ধোঁয়া ও তাপ পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। সচেতন মহল বলছেন, এভাবে কোনো উন্নয়ন টিকে থাকবে না।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, শাহজাদপুরের সকল অবৈধ অভিশপ্ত ইটভাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
এবিষয়ে,ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মতিন এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা তিনি বলেন, প্রতি বছরই অভিযান পরিচালনা লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা করে যায়। ভাটা মালিক সমিতি কেন ভাটার মালিকদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দেয় সেই বিষয়ে জানাতে চাইলে,তিনি বলেন এমন কোন কিছু আমার জানা নাই,এই বলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।
এবিষয়ে,সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শাহজাদপুরের কোন ভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই,সেই বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং জেলা প্রশাসক বরাবর ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চিঠি দিয়েছি আমরা ম্যাজিস্ট্রেট পেলে অভিযান পরিচালনা করবো।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত