ডেস্ক রিপোর্টঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট দুই হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী। এদের মধ্য থেকে অনেকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তবে এর মধ্যে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৮২ জন প্রার্থীর। এর বাইরে খেলাপি ঋণের বিপরীতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৩১ জন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের আলোকে নির্বাচন কমিশন এসব ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও খেলাপি ঋণ বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে গতকাল ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাই করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি। এসব প্রক্রিয়া শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন আগামী ২১ জানুয়ারি।
জানা গেছে, ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নুর। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবের (টিএস আইয়ুব) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে একই কারণে। সরকারি-বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে তিনি ১৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। তিনি কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপির কারণে।
কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী খেলাপি ঋণের বিপরীতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। যদিও নির্বাচনী হলফনামায় তিনি ঋণের ঘরে উল্লেখ করেছেন– একক, যৌথ, নির্ভরশীল ব্যক্তি বা তিনি পরিচালক আছেন, এ রকম কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যাংকে তাঁর ঋণ নেই। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ গতকাল এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জানান। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মিথ্যা তথ্যের কারণে প্রার্থিতা বাতিল করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে।
নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। এই আসনে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হয় বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে।
বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান, যা সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ঘটে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ না নিয়েও কেবল ঋণের তথ্য গোপন করে নির্বাচন করার অনেক নজির বেরিয়ে এসেছে সরকার পতনের পর। তবে এবার কোনো ঋণখেলাপি যেন নির্বাচন করার সুযোগ না পান সে জন্য ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া এবার আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েও কোনো ঋণখেলাপি যেন নির্বাচন করতে না পরেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছিলেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি দেখানো হবে বলে জানিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গতকাল সমকালকে বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন আমরা সেটা চেয়েছিলাম। তবে এ জন্য আইন পরিবর্তন করা দরকার। সেই ক্ষমতা তো আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেই। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট থেকে কেউ আইনি প্রতিকার নিয়ে এলে সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু করার নেই।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত