নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নির্বাচন এলেই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভয়ে থাকে, এবারও এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সংশয়ে আছেন ভোট দেওয়ার পর তারা রাতে ঘুমাতে পারবেন কিনা। এই অবস্থার উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন বিষয়ক এক সংলাপে এসব কথা বলেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সূচনা বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়ে নানা বাধা ও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে এর প্রতিফলন খুব কম দেখা যায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বলেন, একটি গণতন্ত্রের গুণগত মান আংশিকভাবে নির্ধারিত হয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কতটা নিরাপদ বোধ করে তার ওপর। নাগরিককে যদি নিজের দেশেই নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়, তাহলে অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়ে। নির্বাচনের সময়ে মানুষ যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য না হয়, সে দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো রাষ্ট্রকে সভ্য বলা যায় না। নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রথম ধাপ হলেও নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণই প্রকৃত গণতন্ত্র নির্ধারণ করে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল জাতীয় ঐক্য। কিন্তু তার পরিবর্তে নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার প্রশ্ন উঠছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জরুরি। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য সংসদে কোটা, কাঠামোগত বাধা দূরীকরণ এবং একটি সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের প্রয়োজন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাঈদ ফেরদৌস বলেন, দেশকে কেবল বাঙালির রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করলে অবাঙালি ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী প্রান্তিক হয়ে পড়ে। জুলাইয়ের পর আদিবাসী, নারী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বেড়েছে এবং দেশে এখনও সবাই সমান অবস্থানে নেই। ট্রান্স ফেমিনিস্ট ও জেন্ডার ও সেক্সুয়াল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট হো চি মিন ইসলাম বলেন, কোনো যৌনকর্মী মারা গেলে এখনও তাঁকে কবর দিতে বাধা দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গসহ ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ অংশ নিলেও স্বাধীনতার পর তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। সবাই এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান হলেও ধনী-গরিবের পার্থক্য এবং সংবিধানে সমতার প্রতিফলন না থাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভালো আছে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে, এ কথা বলতে পারলেই বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নত বলা যাবে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংখ্যালঘুরা জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্যের মুখে পড়ছে। নির্বাচনের সময়ে হয়রানি ও সহিংসতা বাড়ে। দল জিতুক বা হারুক, ভোগান্তি সাধারণ মানুষেরই। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অ্যাডভোকেট রাশনা ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে বারী মাসুদ, ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) মহাসচিব মোমিনুল আমিন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন খান, শ্রমিক ও অধিকারকর্মী তাসলিমা আকতার, কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার উজ্জ্বল আজিম প্রমুখ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত