নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়। সেই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন।
বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ওই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মুবীন।
উচ্ছেদের দিন সেনা সদস্যদের অভিযানের ভিডিও ও প্রত্যক্ষ বর্ণনায় দেখা যায়, খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির আগেই তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কারণে। সে সময় সেনাপ্রধান হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন সরকারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভেতরে কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে না।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সেনাপ্রধান নিরপেক্ষ থাকলে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সেনানিবাস থেকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হতো না। একই সময়কালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাস ছাড়া করা এবং ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়া এই দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তৎকালীন সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীন সরকারের অবস্থানকে নীরব সমর্থন দিয়েছিলেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর জেনারেল আব্দুল মুবীন যুক্ত হন আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান হন। তাছাড়া ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান মালিকপক্ষ হাসান মাহমুদ রাজার সঙ্গে আব্দুল মুবীনের বেয়াই সম্পর্ক।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউনাইটেড গ্রুপের পক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুবিধা আদায়ে ভূমিকা রাখেন মুবীন। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইউনাইটেড গ্রুপ নামমাত্র মূল্যে সরকারের কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্রয় এবং অনুমোদনের প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার অভিযোগ থাকলেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের শুরুতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা চলাকালে অভিযোগ ওঠে, ইউনাইটেড গ্রুপ সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আব্দুল মুবীন ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী কোনো সহযোগিতা দেয়নি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পুরোনো অবস্থানের কারণেই এই মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়নি।
বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও এস কে সিনহা, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোজাম্মেল হক, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, এডিজি মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, অভিযানে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী আমেরিকা প্রবাসী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ, মদ উদ্ধার নাটক মঞ্চস্থকারী সাংবাদিক জ ই মামুন এবং গণমাধ্যমে কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরিকারী সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত