মো: মহিব্বুল্লাহঃ
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ডাচবাংলা ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক প্রতারণা। কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বালুয়াটেক এলাকায় পিতা–পুত্র ও আপন ভাইদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালুয়াটেক এলাকার বাসিন্দা মফিদুল হক (২৭), তার ভাই ওয়াহিদুল (২৪), পিতা মুক্তার হোসেন (৫৫) ও চাচা খবির হোসেন (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে “মফিদুল টেলিকম সার্ভিস” নামে বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এই ব্যবসার আড়ালে তারা এলাকায় বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে পরবর্তীতে বড় পরিসরে প্রতারণার ফাঁদ পাতে।
প্রতারক চক্রটি সাধারণ গ্রাহকদের প্রলোভন দেখিয়ে দাবি করত:
এইসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ডাচবাংলা ব্যাংকের এজেন্ট বুথ ও শেয়ারহোল্ডার ব্যবসায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নভেম্বর ২০২৫ থেকে প্রতারক চক্রটি জোরালো প্রচারণা চালায় ডাচবাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারের নারী সদস্যদের টার্গেট করে কৌশলে টাকা আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার সময় কোনো বৈধ রসিদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলা হতো, ব্যাংক থেকেই সরাসরি শেয়ারহোল্ডার সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আওলাদ হোসেন জানান, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সামনে প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৪৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তার মতো আরও অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন বিভিন্ন অংকের টাকা দিয়ে এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারণার শিকারদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মূল অভিযুক্ত মফিদুল হক হঠাৎ দোকান বন্ধ করে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। অপর অভিযুক্তরা এলাকায় অবস্থান করলেও পাওনাদারদের সঙ্গে লুকোচুরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা চাইলে কেউ দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে, কেউ আবার পেশিশক্তি প্রদর্শন করে উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ হওয়ায় কেউ তাদের প্রতারণার বিষয়টি আগে আঁচ করতে পারেননি। বর্তমানে প্রতারক পরিবারের দায়িত্বহীন ও রহস্যজনক আচরণে ভুক্তভোগীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আওলাদ হোসেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মফিদুল হকের ছোট ভাই ওয়াহিদুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনেক পাওনাদার আমাদের বাড়িতে এসে তাগাদা দিচ্ছে। আমার ভাই লেনদেন করেছে, কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে আমি জানি না।
অন্যদিকে, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ডাচবাংলা ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে অভিযুক্ত ওয়াহিদুলকে পড়াশোনার নাম করে ইউরোপের কোনো এক দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন? প্রশাসনের নজরে আসার আগেই কীভাবে এত অল্প সময়ে এত বড় প্রতারণা সংঘটিত হলো এবং মূল হোতা নির্বিঘ্নে আত্মগোপনে গেল?
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও সাধারণ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত