মাহতাবুর রহমানঃ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিসেসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান শিশির (পি-৩৬৮৪৬) জাল ভিসার আড়ালে মানব পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। শিশির ও তার স্ত্রীর নামে লাইসেন্সবিহীন একটি অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিসা, বোর্ডিং পাশ ও ইমিগ্রেশন ‘ম্যানেজ’ করে বডি কন্ট্রাক্ট করে তুলে দেন ফ্লাইটে, এক্ষেত্রে তিনি যাত্রীপ্রতি নেন ১০ লাখ টাকা।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে মিজানুর রহমান শিশির ছিলেন বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি। ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সহযোগীদের সেফ এক্সিটে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক লীগের সভাপতি পদের দাপট খাটিয়ে করতেন বদলি বাণিজ্য। গড়ে তুলেছেন অপকর্মের নেটওয়ার্ক।
মিজানুর রহমান শিশির এর বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই গণহত্যার মামলা, কিন্তু এখনো তিনি আছেন বেশ বহাল তবিয়তে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ ছাড়াও বদলি বাণিজ্য, ব্যাগেজ কাটিং, স্বর্ণ চোরাচালান, যাত্রী হয়রানিসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর তথ্য রয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এর ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের বিমান-১ শাখা থেকে জারি করা ওই পত্রে বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘জরুরি’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ মিজানুর রহমান শিশির কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে তিনি বিমানের ট্রাফিক শাখায় যুক্ত হন। এ শাখায় যোগদানের পর থেকেই নিজের প্রভাব বাড়তে থাকে তার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালে তাকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে বদলি করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তোফায়েল আহমেদের তদবিরে অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেট বিমানবন্দরে জায়গা করে নেন। সিলেটে যোগদানের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সিলেটে বদলির পর স্টাডি ভিসার পাশাপাশি তিনি ভিজিট ভিসার আড়ালে মানব পাচার, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ ডিল, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং বিমানবন্দরে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
মিজানুর রহমান শিশির এর বিরুদ্ধে হামলা ও বিস্ফোরক আইনে গত বছরের ৬ নভেম্বর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় তাকে দণ্ডবিধির ১৪৯/৩৩০/৩২৪/৩২৫/১০৯ ধারাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারায় আসামি করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে অল্প কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। এখনো সব বিষয়ে পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারিনি। যতটুকু জেনেছি মামলাটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত। ওই মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে মিজানুর রহমান শিশিরকে একপর্যায়ে আটক করা হয়েছিল। তবে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমান শিশির এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বোশরা ইসলাম বলেছেন, অভিযোগ আসা কর্মকর্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন ‘আমরা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। এরই মধ্যে শিশিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি ঠিক কী কী অপরাধে জড়িত ছিলেন, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের পরিধি মোটেও ছোট নয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আমরা দেখেছি, তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত