ইসমাইল মাহমুদঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেচেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছিলাম যে সবার সাথে আইনের শাসন অনুযায়ী ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে সবার বিচার নিশ্চিত হবে। যারা অপরাধী, যারা ফ্যাসিস্ট তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। যারা অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল না, গণহত্যার সাথে যুক্ত ছিল না এমন ব্যক্তিদের প্রতি কোন ধরণের অবিচার করা হবে না।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল নির্বিচারে সারাদেশে ফ্যাসিস্টদের নাম করে মামলা দিয়েছে এবং মামলা বাণিজ্য করেছে। এখন যখন ভোটের সময় আসছে তখন তারা বলতেছে ধানের শীষে ভোট দিলে মামলা ইউথড্র করা হবে। এটা একটা স্পষ্টই প্রতারণা। এই প্রতারণা তারা তাদের ইশতেহারেও করছে। আপনারা এর আগে ৩১ দফার কথা শুনে থাকবেন। তারা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রতি দিয়েছিল। এখন তারা তাদের নিজেদের ৩১ দফার সাথ্রে বিট্রে করেছে, প্রতারণা করেছে। সে ৩১ দফা দাবিও তারা দাবিও তারা মানে নাই। যে সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে তাও তারা মানে নাই।
এখন তারা মিথ্যা মিথ্যা অনেক প্রতিশ্রতি দিচ্ছে। আপনারা কারো এই মিথ্যা প্রতিশ্রতিতে বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডস্থ পেট্রোল পাম্প চত্ত¡রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এনসিপির আহবায়ক বলেন, আমাদের উপর, ১১ দলীয় জোটে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, যদি আমাদের উপর হামলা চলতে থাকে তবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট বসে থাকবে না। ইনশাল্লাহ এসব হামলা ও হুমকির জবাব দেওয়া হবে। ১২ ফেব্রয়ারি ব্যালটে দেশের জনগণ সকল হামলা ও সকল হুমকির জবাব দেবেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক সম্পাদক এহতেশাম হক, কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিষ্টার জুনেদ আহমদ, ব্যারিষ্টার নুরুল হুদা, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহবায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সংগঠক জাকারিয়া ইমন, এনসিপির সিলেট মহানগর কমিটির আহবায়ক আফজাল হোসাইন, জেলা কমিটির আহবায়ক জুনেদ আহমদ, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সল আহমদ, সদস্য সোহেল আহমদ মুছা, হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী মুবিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক খালেদ হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এহসান জাকারিয়া, যুগ্ম সদস্যসচিব শাহ আলম সরকার, ফারুক উদ্দিন আহমেদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ গোয়ালা প্রমুখ।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘ইনসাফ ভিত্তিক দেশ গড়ে তুলার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোট গড়ে তোলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা চাই না কোন দেশের কোন আসন নষ্ট হোক, কোন আসন চাঁদাবাজদের হাতে যাক, সন্ত্রাসীদের হাতে যাক, নতুন কোন স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা যারা করতে চায় তাদের হাতে যাক। ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রয়ারি আমরা কাঙ্খিত ফল পাবো, দেশের জনগণ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষেই রায় দেবেন।
শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে এনসিপি আহবায়ক বলেন, আমরা বলছি যে, বাংলাদেশ একটি নতুন বাংলাদেশ হবে। ৫ আগষ্টের আগে আপনারা ফ্যাসিস্ট আমলে দেখেছেন এই বাংলাদেশের কি ধরণের পরিস্থিতি হয়েছিল। আমরা চাই না বাংলাদেশটা আগের মতো হোক। আপনারা যে দলই করে থাকুন না কেন এখন শাপলা কলির নেতৃত্বে, এনসিপির নেতৃত্বে নতুন করে সংগঠিত হোন, শাপলা কলিতে জয়যুক্ত করুন। ইনশাআল্লাহ শাপলা কলি সবার সাথে ইনসাফ করবে, সবার সাথে ন্যায় বিচার করবে। আমি মৌলভীবাজার-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আপনাদের সন্তান প্রীতম দাশকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম। তাকে আপনারা বিপুল ভোটের মাধ্যমে সংসদে পাঠালে আপনাদের সকল অধিকার আদায়ে, দাবি-দাওয়া পূরণে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।
সমাবেশে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, আমরা দেখছি একটি দল বিগত সরকারের মতো ফ্যাসিবাদ লীগের মতো আবরও হামলা, মামলা, সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাবার সিড়ি হিসেবে বেছে নিচ্ছে। আমাদের শরীক দল জামায়াতের ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে হুশিয়ারী করে বলে দিতে চাই এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর মেনে নেয়া হবে না। আমরা অত্যন্ত শঙ্কার সাথে দেখছি ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষের উপরে অত্যাচার চালানো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির সর্বোচ্চ নেতারা বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষারকার দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আার জন্য তারা বলছেন আজকে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, কালকে যে আমাদের নিষিদ্ধ করা হবে না এর নিশ্চয়তা কোথায়। জুলাইতে যে গণহত্যা সাধিত হয়েছে তা করার চিন্তা তাদের মাথায় রয়েছে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘১২ ফেব্রয়ারি গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতে হবে। আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ হোক। আগের ফ্যাসিবাদী আমলে আবার বাংলাদেশ চলে যাক তা আমরা চাই না। আমাদের বাংলাদেশের বড় বড় বর্ষিয়ান নেতারা বলছেন আমরা নাকি বাচ্চা মানুষ। গতকাল মির্জা আব্বাস বললেন আমাদের নাকি বয়স হয় নাই। আমিও তাই মনে করি। আমাদের তরুণ নেতৃত্বের বয়স হয় নাই। আমরা অভিজ্ঞ দুর্নীতিবাজ হওয়ার বয়স হয় নাই। আমরা অভিজ্ঞ ঋণখেলাপী হওয়ার বয়স হয় নাই। আমরা অভিজ্ঞ টাকা পাচারকারী, ব্যাংক লুটকারী হওয়ার বয়স হয় নাই। আমরা যেটা দেখছি বিএনপি আসলে যারা শুরু করেছিলেন, জিয়াউর রহমান এবং বেগশ খালেদা জিয়ার বিএনপির এখন আর নাই। অথচ আজকে থেকে ১৪ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন তরুণ নেতৃত্বদের সামনে আনতে হবে, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব সামনে আনতে হবে। সমাবেশ শেষে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রীতম দাশের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত