মিম আক্তার॥
গত ১৭ বছরে সরকারের এমন কোন প্রতিষ্টান নেই যা ধংব্বস করা হয়নী তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ঘিরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা জুলাই আন্দোলনের পর নিজেকে বিএনপিপন্থী দাবি করে একের পর এক পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন বলে জানাযায়।
অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে আরও জানাযায়, সুদর্শন বেশভূষা ও স্মার্ট বাচনভঙ্গির আড়ালে শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন, টেন্ডার এবং বিল ছাড়কে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির বলয় নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অধিদপ্তরের সাবেক ক্যাশিয়ার ও ডেস্ক-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী। সেই সময় থেকেই বদলি-পদোন্নতিতে ঘুষ বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে জমতে থাকে।
পদোন্নতিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ;
বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহজাহান আলী কৌশলে নিজের অবস্থান পুনর্গঠন করেন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন। এর ফলে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ-বদলিতে তার প্রভাব আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে বলে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সর্বশেষ চারজন প্রধান প্রকৌশলীই বিভিন্ন সময়ে তার চাপ ও নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়-ঘনিষ্ঠ লবির ইঙ্গিতে স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার পছন্দের বাইরে সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুত বদলির ফাইল এগিয়ে যেত।
অনুসন্ধানে উঠে আসে আওয়ামীলীর সময় তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেননি তিনি। এর ফলে মেহেরপুরের এক নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় এক মাস ধরে বদলিকৃত কর্মস্থল যশোরে যোগ দিতে না পেরে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের পর নতুন করে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন জেলায় যে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে, তার নেপথ্য সমন্বয়কারী হিসেবেই কাজ করছেন শাহজাহান আলী। জেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীদের নিয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রংপুরের অভিযোগের পরে দ্রুত স্নান ত্যাগ:
এর আগে রংপুর বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়-চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনে উৎকোচ এবং স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আসবাবপত্র সরবরাহ প্রকল্পে আহবান করা দরপত্রগুলোর বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল। তখন ঠিকাদারদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন, প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর প্রশাসনিক ও অনানুষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সম্পদের অভিযোগ ও বক্তব্যহীনতা:
দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে রংপুরে ব্যবসা, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং নিজ এলাকায় জমি কেনার অভিযোগও বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি দ্রুত বদলি নিয়ে এলাকা ছাড়েন বলে তখন দাবি করা হয়।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বদলের বিতর্ক এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত