তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী দুই দিনে অভিযানে শতাধিক গ্রেফেতার লিটনের শতকে সম্মানজনক সংগ্রহ বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপারের পানছড়ি থানা ও খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন সাংবাদিকবৃন্দের সাথে নবাগত পুলিশ সুপার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক ও হেরোইনসহ ৩ জন গ্রেফতার ঝিনাইগাতীতে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৭তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত মোংলায় মাদকের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ে সাংবাদিক মাসুদ কেশবপুরে সাবেক খেলোয়াড় কেসমত আলীর মৃত্যু সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, আটক ৩ হামলা হলে দায়ী থাকবেন আওয়ামী লীগ নেতা সাত্তারসহ ৩ জন: সাংবাদিক ইন্নার অভিযোগ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীর ঘোষণা দিলেন আবু সাইদ সুইট পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারীর সম্পদের পাহাড় রংপুর সদরে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক, উৎপাদন ভালো হলেও লাভ নিয়ে শঙ্কা পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ করাত-কলের বিরুদ্ধে অভিযান শেরপুরের কোরবানির পশুর হাটে মূল আকর্ষণ বাংলার ডন! কুমিল্লায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের কৃতি সন্তান ড. এমডি মাহফুজুর রহমান পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করলেন মোংলায় ট্রলার থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ চলছে উদ্ধার কাজ শহীদ নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর ১১তম শাহাদাতবার্ষিকীতে স্মরণসভা চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার ভিডিও ভাইরাল বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন "আইজিপি ব্যাজ-২০২৫" পেলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে সেমিনার অনুষ্ঠিত ভোলা সদর পিআইওর বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ শাশুড়ির পরকীয়া জানানোয় পুত্রবধূকে হত্যার অভিযোগ বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোন, ইয়াবা এবং নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ বটিয়াঘাটায় পুলিশের ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠিত পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যু ও বনরক্ষীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ জিম্মি ৪ জেলে উদ্ধার যমুনা অয়েলের গনবদলীতে অর্থ লেনদেন ও দ্বৈত নীতির অভিযোগ রংপুরে পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত বর্জ্যে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দুই শতাধিক কৃষক পদবি মিটারম্যান অথচ চাকরি দেয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা এসএসপি নির্বাচনে : সভাপতি গোলাম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আবু আবিদ, দপ্তর সম্পাদক মিম চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা সৌদি পৌঁছেছেন ৫৫ হাজার ৬৯৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী আরব আমিরাতের উপকূলে জাহাজ আটক নেওয়া হচ্ছে ইরানে দেশে ভোটার সংখ্যা বাড়ল ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন বিনিয়োগ বাড়াতে চীনকে আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ বনানীতে দুটি বিদেশি পিস্তল-ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেফতার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করছে ইসি নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম সন্ধ্যার মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ের আভাস কর পরিশোধে সচেতন হলেই এগোবে নগর উন্নয়ন শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে দিপু মনিসহ তিনজনকে গ্রেফতার এসএসসি-এইচএসসির সূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি চলছে বাংলাদেশকে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ

নিরাপদ পানি প্রকল্পে প্রকৌশলী আনোয়ারের ‘ রাজত্ব’

নিরাপদ পানি প্রকল্পে প্রকৌশলী আনোয়ারের ‘ রাজত্ব’
পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥

দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি—‘সমগ্র বাংলাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি ২০২০ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। উদ্দেশ্য ছিল আর্সেনিক ও দূষণমুক্ত পানি সরবরাহের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এই প্রকল্প এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের আখড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের এস্টিমেটর (প্রাক্কলনিক) প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সিকদারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো প্রকল্পটিকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে।

ডিপিএইচই সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন সিকদার ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা। সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন প্রায় ১৬ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্ট ও ভাতা যোগ করে মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ এই সীমিত আয়ের সরকারি কর্মকর্তা ঢাকায় তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, গ্রামে বিপুল জমি ও বাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগসহ এমন এক জীবনযাপন করছেন, যা অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতিকেও হার মানায়। এই অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের পেছনে রয়েছে নিরাপদ পানি প্রকল্পসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিরাপদ পানি প্রকল্পে এস্টিমেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে আনোয়ার সিকদার প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। টেন্ডারের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ, প্যাকেজ তৈরি এবং কারিগরি শর্ত ঠিক করার ক্ষমতা থাকায় কার্যত তিনিই ঠিক করে দেন কোন ঠিকাদার কাজ পাবে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টেন্ডারের গোপন ‘রেট’ আগেই নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের কাছে ফাঁস করে দেন। এর বিনিময়ে মোটা অংকের কমিশন নেওয়া হয়, যা পরে বিভিন্ন পথে বিনিয়োগ ও সম্পদে রূপ নেয়।

ঢাকায় তাঁর সম্পদের বিবরণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে বিস্ময়কর তথ্য। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিংয়ের ‘খ’ ব্লকে তাঁর স্ত্রীর নামে একটি আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় ৭৮ নম্বর বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে রয়েছে একটি বড় ফ্লোর। এছাড়া সাভার পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় তাঁর স্ত্রীর নামে নির্মিত হয়েছে পাঁচতলা একটি ভবন। এসব সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৪০ লাখ টাকা দামের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, যা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন তিনি।

ঢাকার বাইরেও আনোয়ার সিকদারের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইল জেলার টেংগুরিয়া উপজেলার আরোহ সালিনা গ্রামে তাঁর রয়েছে প্রায় ১০ বিঘা জমি ও একটি বিলাসবহুল বাড়ি। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের মধ্যেই এই বাড়ি ও জমির পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। শুধু তাই নয়, গোপালগঞ্জে অবস্থিত ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাইপ ফ্যাক্টরিতেও তাঁর বড় অংকের বিনিয়োগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—সরকারি চাকরিতে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত থাকা। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজে বা পরিবারের সদস্যের নামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। কিন্তু আনোয়ার সিকদার তাঁর স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে কার্যত নিজেই ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিরাপদ পানি প্রকল্পের একাধিক কাজ তাঁর সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলার একটি টেন্ডার এই অনিয়মের বড় উদাহরণ। সম্প্রতি সেখানে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ‘সালেক সোলার লিমিটেড’ নামের একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অন্য ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়। টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে নির্দিষ্ট কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য বিবেচিত না হয়। একই জেলার আরেকটি টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং’কে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি দরে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় চার কোটি টাকা গুণতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে পার্বত্য অঞ্চলেও। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় নিরাপদ পানি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নির্মাণের টেন্ডারে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি ছাড়া অন্যদের কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে ১৫০০ এফআরপি ভেসেল এবং খাগড়াছড়িতে ৩০০০ ব্যাসেলের টেন্ডারে ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং’কে কাজ দেওয়ার জন্য আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারের কারিগরি শর্ত, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড এবং আর্থিক যোগ্যতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ বা স্থানীয় ঠিকাদাররা অংশ নিতে না পারেন।

এই সিন্ডিকেটের দাপটে মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীরাও অসহায় হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) অফিস থেকে যে নির্দেশনা আসে, সেটিই তাঁদের অনুসরণ করতে হয়। টেন্ডার আহ্বানের আগেই আনোয়ার সিকদার পছন্দের ঠিকাদারকে রেট দিয়ে দেন। ফলে দরপত্র খোলার সময় দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানই সব কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।

গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়েজ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “পিডি অফিস যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সেভাবেই টেন্ডার করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই প্রকল্প পরিচালনার কেন্দ্রীভূত ও প্রভাবাধীন চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার সিকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং একটি মামলায় চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। তবে রহস্যজনকভাবে এতসব অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডিপিএইচইর ভেতরে ‘অদৃশ্য হাত’ বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ‘আর্সেনিক প্রকল্প’ এবং ‘৩৭ পৌরসভা পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবারই অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। ফলে তাঁর সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “হ্যাঁ, আমার স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কিছু কাজ করেছি। এটা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই করা যায়।” তবে তাঁর এই বক্তব্য সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, “সরকারি চাকরি করে ঠিকাদারি করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি করে থাকে, তা চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যদিও বাস্তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি প্রকল্পের মতো একটি মানবিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি যদি দুর্নীতির কবলে পড়ে, তাহলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যারা আজও বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তারা প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। অপরদিকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও লুটপাটের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবিলম্বে বিতর্কিত টেন্ডারগুলো বাতিল করে স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সিকদার ও তাঁর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় নিরাপদ পানি প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর বাস্তবে তা পরিণত হবে একটি দুর্নীতির স্মারকে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট: আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং ব্যাংক ও এসএমই খাতকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংস্কার কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে তোলার পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে সংস্কার কার্যক্রমে গতি আনা হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর পুরান পল্টনে ‘এসএমই ফাউন্ডেশন-ইআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে কাজ চলছে। গ্রাহকদের ডিপোজিটের টাকা ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। এসএমই খাতে অর্থায়নের জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে এখনও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ তাদের ঋণ পরিশোধের হার অনেক ভালো। ব্যাংকগুলো এখানে সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য

আরও পড়ুন
language Change