নিজস্ব প্রতিবেদক॥
রাজনীতিতে পদ-পদবি হয়তো অনেকেই পান, কিন্তু জনমনে স্থান করে নিতে প্রয়োজন হয় অসামান্য ত্যাগ, ধৈর্য এবং রাজপথে রক্ত ঝরানোর সাহস। ঠিক এমনই এক অগ্নীপরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে ঢাকা-১৮ আসনের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তরুণ রাজনীতিবিদ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
বিরোধী দলের রাজনীতিতে যখন দুঃসময় চলছিল, তখন অনেকেই পিছু হটেছিলেন। কিন্তু এস এম জাহাঙ্গীর ছিলেন ব্যতিক্রম। মামলা, হামলা, জেল আর জুলুমকে উপক্ষা করে তিনি হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের নির্ভরতার প্রতীক।
সংগ্রামমুখর ছাত্রজীবন ও রাজনীতির হাতেখড়ি:
এস এম জাহাঙ্গীরের রাজনীতির শুরুটা মসৃণ ছিল না। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি নেওয়া এই নেতা খুব অল্প বয়সেই নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নেতৃত্ব—প্রতিটি ধাপেই তিনি ছিলেন কর্মীদের চোখের মণি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ছাত্ররাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল, যা তাকে খুব দ্রুতই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে নিয়ে আসে।
শতাধিক মামলা ও কারাভোগ: দমে না যাওয়ার গল্প :
গত দেড় দশকে বিরোধী দলের রাজনীতি করতে গিয়ে এস এম জাহাঙ্গীরকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা। কখনও নাশকতার অভিযোগ, কখনও বা মিথ্যা সাজানো ঘটনায় তাঁকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।
একান্ত আলাপচারিতায় তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান, এমনও সময় গেছে যখন দিনের পর দিন তাঁকে আদালতের বারান্দায় কাটাতে হয়েছে। রিমান্ডের নামে পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেছেন, মাসের পর মাস কারাবাস খেটেছেন। কিন্তু তবুও তিনি দেশ ছাড়েননি, কর্মীদের ছেড়ে পালাননি। এই ‘ত্যাগ’ ই তাঁকে সাধারণ কর্মী থেকে আজকের জননেতায় পরিণত করেছে।
রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে সরব উপস্থিতি:
যখনই রাজপথে আন্দোলনের ডাক এসেছে, এস এম জাহাঙ্গীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল কিংবা প্রতিপক্ষের হামলা, কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি থাকাকালীন তিনি যে সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা ছিল ঈর্ষণীয়। তাঁর নেতৃত্বে উত্তরার রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে বারবার। এই সাহসিকতাই তাঁকে দলের হাইকমান্ডের কাছে আস্থাশীল করে তুলেছে এবং কম বয়সেই তাঁকে ‘হেভিওয়েট’ নেতার কাতারে নিয়ে গেছে।
কেন তিনি ‘হেভিওয়েট’?
রাজনীতিতে ‘হেভিওয়েট’ শব্দটি সাধারণত প্রবীণ নেতাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এস এম জাহাঙ্গীর তাঁর কর্মগুণে এই ধারণা বদলে দিয়েছেন।
১. তৃণমূল কানেকশন: তিনি কেবল নেতাদের নেতা নন, কর্মীদের বন্ধু। প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি ইউনিটের কর্মীর নাম তাঁর মুখস্থ।
২. সংগঠক হিসেবে দক্ষতা: চরম বৈরী পরিবেশেও তিনি দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন।
৩. জনপ্রিয়তা: ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলমত নির্বিশেষে সকলের নজর কেড়েছে।
আগামীর স্বপ্ন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, "আমার এই সংগ্রাম ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। যত মামলা-হামলা হয়েছে, তা আমার জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করব।"
তরুণ বয়সে এত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা এস এম জাহাঙ্গীর আজ কেবল একটি নাম নয়, বরং প্রতিরোধের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাঁর এই ত্যাগের মূল্যায়ন ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত