হাফিজুর রহমান খানঃ
পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামের ০৪ নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মের অনুসারী গোপাল মাঝি (৪৫) এর উপর হামলার পর আসামি আটক করতে দেরি করায় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার রাগান্বিত হয়ে মুঠোফোনে এভাবেই নির্দেশনা দেন উক্ত মামলার আয়ু পটুয়াখালী সদর থানার এস আই সাদেক মিয়াকে। গত ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পটুয়াখালী সদর থানার মামলা নং ০৫ এর ভিত্তিতে নামক একজন আসামী মরিচবুনিয়া গ্রামের ০৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিযুক্ত জাকির ভূইয়া কে আটক করে পুলিশ।
পরে ঐ আাসামী জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় তার বাহিনী নিয়ে বাদী গোপাল মাঝি সহ দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। উক্ত ঘটনায় বাদী হয়ে গোপাল মাঝির বউ সুমা রানী দাস গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আরও একটি মামলা দায়ের করেন পটুয়াখালী সদর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ৪২ । বিষয়টি লন্ডন বিডি টিভির নজরে এলে অনুসন্ধান করে এর প্রকৃত সত্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব ড. মুহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কে অবহিত করলে তিনি বাদীকে পুলিশ সুপার এর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এর পরই বাদী পক্ষ বিকাল তিনটার সময় পুলিশ সুপার জনাব আবু মো: ইউসুফ কে অবহিত করেন ।
ভুক্তভোগী হিন্দুদের আহাজারিতে এ সময় পুলিশ সুপার কার্যালয় ভারী হয়ে উঠে। পুলিশ সুপার উক্ত ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর সরাসরি উক্ত মামলার আয়ু পটুয়াখালী সদর থানার এস আই সাদেক মিয়াকে ফোন দিয়ে মামলার ব্যাপারে জানতে চান এস আই মুঠোফোনে অজুহাত দিতে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, তুমি এই মামলার আসামিদেরকে আটক কর প্রয়োজনে পটুয়াখালী পুলিশ লাইন থেকে আর ও পুলিশ সদস্য নিয়ে যাও, আসামি এরেস্ট না হলে তোমাকে শোকজ করব। খবরটি শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সতেচন নাগরিক সমাজ। তারা জানান, জেলা প্রশাসন যদি এরকম হয় তাহলে আমাদের পটুয়াখালী শান্তিপ্রিয় থাকবে ।
মামলার বাদী সুমা রানী দাস জানান, এসপি স্যারের কথা যদি কার্যকর হয় তাহলে আমরা বাংলাদেশে থাকত পারব নচেৎ বাবার বাড়ি পিরোজপুর চলে যেতে হবে। ভুক্তভোগী গোপাল মাঝি উচ্ছ্বসিত স্বরে বলেন, ওরা মনে আমাদের আর মারতে পারবে না। অভিযোগ পাওয়া যায় যে, উক্ত সন্ত্রাসীরা গোপাল মাঝির জমিতে বালু ফেলে ভরাট করে ঘর তেরি করে, গাছপালা, পানের বাগান কেটে ফেলাে বিভিন্ন সময় হিন্দু পরিবারের লোকজনকে সুযোগ পেলে নির্যাতন ও কটাক্ষ করেন। এরকম আরও তাদের মারধর করেন। দুই ছেলে স্কুলে পড়তে গেলে তাদের সাইকেল নিয়ে যায়। বাজে কথাবার্তা বলেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত