মো: জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জঃ
আসন্ন সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় নামতে শুরু করেছে যমুনা তীরের রাজনীতিবিদরা। তবে এই ডামাডোলের মাঝে সবচাইতে উজ্জ্বল নাম হিসেবে উঠে এসেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও গণমানুষের আস্থার প্রতীক মো. মুন্সী জাহেদ আলম। দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে জেল-জুলুম আর হুলিয়াকে সঙ্গী করে আসা এই নেতা এবার পৌরবাসীর সেবা করার দৃপ্ত প্রত্যয়ে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় সরব রয়েছেন।
মুন্সী জাহেদ আলমের রাজনীতির হাতেখড়ি আশির দশকের উত্তাল সময়ে। ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এস.বি রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার যাত্রা শুরু। মেধা ও সাহসের পরিচয় দিয়ে ১৯৮৭ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯১ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রো-ভিপি নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীকালে ২০০৩ সালে শহর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৬ বছর প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ট্যাংক-লড়ি মালিক সমিতির সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। মাঠপর্যায়ের প্রতিটি ধাপে তার এই পদচারণা তাকে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে তাকে বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৬টি রাজনৈতিক মামলা চলমান রয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অসংখ্যবার কারাবরণ করলেও দমে যাননি এই নেতা। এ বিষয়ে মুন্সী জাহেদ আলম বলেন, আমার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কেটেছে রাজপথে আর অন্ধকার কারাগারে। এই ৩৬টি মামলা আমার গতিরোধ করতে পারেনি, বরং আমাকে আরও সাহসী করেছে। আমি ব্যক্তিগত লাভের জন্য রাজনীতি করি না; আমার লক্ষ্য হলো সিরাজগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও শহরকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মুন্সী জাহেদ আলম কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবহন খাতের নেতা হিসেবে সিরাজগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে তার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, একটি টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করাই হবে তার অগ্রাধিকার। তিনি আরও যোগ করেন, আমি এই মাটির সন্তান। ১৯৮৪ সাল থেকে শত প্রতিকূলতায়ও আমি মাঠ ছেড়ে পালাইনি। দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থেকেছি। দল যাকে সমর্থন দিবে, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই শহরকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করব ইনশাআল্লাহ।
১৯৭০ সালে সিরাজগঞ্জের মালশাপড়ায় জন্ম নেওয়া মুন্সী জাহেদ আলম একজন উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক) ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও ১৯৯১ সাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য হিসেবে তিনি মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ ভোটারদের মতে, মুন্সী জাহেদ আলম কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন দুর্দিনের পরীক্ষিত বন্ধু। জেল-জুলুম আর হুলিয়াকে সঙ্গী করে যিনি চার দশক ধরে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন, তাকে ঘিরেই এখন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে পৌরবাসী। আসন্ন নির্বাচনে তার এই লড়াই কেবল একটি পদের জন্য নয়, বরং সিরাজগঞ্জবাসীর মর্যাদা ও অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত