মো: মাসুম বিল্লাহ খুলনাঃ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা থেকে খড়িয়া অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরা এই সড়কটির "চাপাকান্না" যেন দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের এই পথটি এখন জনদুর্ভোগের অন্য নাম। সরেজমিনে দেখা যায়, বাইনতলা থেকে খড়িয়া যাওয়ার এই প্রধান সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, যা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা। জরুরি রোগী মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যান বা ইজিবাইকও এই পথে আসতে চায় না। ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। খড়িয়া ও বাইনতলা এলাকার শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনায় তাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খানাখন্দের কারণে ভ্যান বা টলি উল্টে প্রতিনিয়ত মালামাল নষ্ট হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এলাকাবাসীর আক্ষেপ, নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোটের পর কেউ আর খবর রাখে না। একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। বাইনতলা-খড়িয়া সড়কের এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন লস্কর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ। তারা চান, আশ্বাস নয় বরং দ্রুত কাজের মাধ্যমে ফিরে আসুক তাদের নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত