মো: মাসুম বিল্লাহ খুলনাঃ
একসময় যেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকত বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, সেখানে এখন শুধুই সুনসান নীরবতা। খুলনার ৫ নং ভান্ডার কোট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের (লক্ষ্মীখোলা) বিএনপি কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় নেতৃত্বের রহস্যময় নির্দেশে অফিসটি বন্ধ থাকায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
নেতৃত্বের নির্দেশ না কি অভ্যন্তরীণ কোন্দল? সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড বিএনপির এই প্রধান কার্যালয়টিতে দীর্ঘ সময় ধরে বড় একটি তালা ঝুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের একজন ‘শীর্ষ নেতার’ সরাসরি নির্দেশে অফিসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বড় নেতার ইশারা ছাড়া এভাবে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝোলানো অসম্ভব। তবে কোন নেতার নির্দেশে এবং কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্তব্ধ সাংগঠনিক কার্যক্রম, হতাশ কর্মীরা অফিসটি বন্ধ থাকায় ওই ওয়ার্ডে বিএনপির নিয়মিত সাংগঠনিক সভা, আলোচনা বা কর্মসূচি-সবই এখন বন্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় সমর্থক আক্ষেপ করে বলেন: দলের দুঃসময়ে যারা রাত-দিন পরিশ্রম করি, তাদের মিলনস্থলে তালা মেরে দিলে মনোবল ভেঙে যায়। এটি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক দলের লক্ষণ হতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি অফিস বন্ধ হওয়ার সাধারণ ঘটনা নয়; বরং দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের দুর্বলতার একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা মনে করছেন, এমন 'ন্যক্কারজনক' সিদ্ধান্তের কারণে নতুন প্রজন্মের সমর্থকরা দল থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখা ওই এলাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। সাধারণ মানুষের মনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে এমন স্থবিরতা আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রামে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দ্রুত সমাধানের দাবি ভান্ডারকোট ইউনিয়নের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের জোরালো দাবি-দলীয় উচ্চপদস্থ নেতৃত্ব যেন দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। অবিলম্বে তালা খুলে দিয়ে অফিসটি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় কোন্দল নিরসনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে তালা ঝুলে থাকা মানে সেখানকার রাজনীতির প্রাণপ্রবাহ থমকে যাওয়া। ভান্ডারকোট ইউনিয়নের এই ঘটনা বিএনপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সময় থাকতে নেতৃত্ব সচেতন না হলে তৃণমূলের এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে দলের জন্য আরও বড় সংকট বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত