মো: মাসুম বিল্লাঃ
নাসিমা আক্তার-একটি নাম যা একসময় বেঁচে থাকার অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছিলেন তিনি। সেই ধ্বংসস্তূপ তাকে কেড়ে নিতে পারেনি, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ রক্ষা হলো না। পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর বাসডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চিরতরে হারিয়ে গেলেন সেই লড়াকু নারী।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর যখন চারদিকে শুধু লা/শ আর আর্তনাদ, তখন কংক্রিটের স্তূপের নিচে অন্ধকার আর শ্বাসকষ্টের মধ্যে আটকে ছিলেন নাসিমা। টানা ৭২ ঘণ্টা মৃত্যুর প্রহর গুনেছিলেন তিনি। উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে জীবন্ত উদ্ধার করেন, তখন দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল এক আবেগময় পরিস্থিতি। সেদিন যমদূতকে হারিয়ে নতুন জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন নাসিমা। কিন্তু সেই সুখ সইলো না ভাগ্যে। সম্প্রতি পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। যাতায়াতের পথে বাসের ভেতর আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি। যে মৃত্যু তাকে সাভারের ধ্বংসস্তূপে স্পর্শ করতে পারেনি, সেই মৃত্যুই তাকে আলিঙ্গন করলো পদ্মার বুকে।
নাসিমার মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্বজনরা বিলাপ করে বলছেন, যাকে বড় বিপদ থেকে আল্লাহ বাঁচিয়ে আনলেন, তাকে এভাবে চলে যেতে হবে তা কখনো ভাবিনি। এক সময়ের 'মিরাকল গার্ল' হিসেবে পরিচিত নাসিমার এই প্রস্থান সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।নাসিমা আক্তারের এই বিদায় কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং ভাগ্যের এক চরম নিষ্ঠুরতার গল্প হিসেবে রয়ে গেল। রানা প্লাজার সেই ধূলিময় স্মৃতি থেকে শুরু করে পদ্মার শীতল জল-মাঝখানের এই কয়েকটা বছর ছিল তার এক দীর্ঘ লড়াইয়ের জীবন, যা আজ থেমে গেল।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত