মিজানুর রহমান, শেরপুরঃ
গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী পতিত জমিতে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে বাহারি রঙের গোলাপ। নানা রঙের গোলাপ চাষ শুরু করেছেন সন্ধাকুড়া গ্রামের ইউপি সদস্য কিবরিয়া। স্থানীয়রা বলছেন, গোলাপ চাষ শুরুর পর বেকার যুবকরা পেয়েছেন কর্মসংস্থানের পথ। তেমনি পতিত পড়ে থাকা জমি চাষের আওতায় আসায় ভূমি মালিকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
বাগানের উদ্যোক্তা ইউপি সদস্য কিবরিয়া প্রতিনিধিকে জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকার সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে ১৯৫ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের গোলাপ বাগান। এক সময় চিন্তা করেন নিজ গ্রামের বনাঞ্চলে পতিত পড়ে থাকা জমিতে গোলাপ চাষ করবেন। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গোলাপ বাগানের নিজের পুঁজি এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে এক পরিচিত জনের মাধ্যমে দুই দফা চাইনিজ ও থাই জাতের গোলাপের চারা সংগ্রহ করেন। পরে জমিতে জৈব সার, টিএসপি ও ইউরিয়া ব্যবহার করে চারা রোপণ করেন। আর চারা রোপণের এক মাস পর থেকে ফুল আসা শুরু করে, তবে বিক্রি উপযোগী ফুল পাওয়া যায় চার মাস পর থেকে। এখন ওই বাগানে শোভা পাচ্ছে সাদা, লাল, হলুদ ও পিংক কালারের বাহারি গোলাপ।
তিনি জানান,আশা করছি আরও ভালো কিছু হবে। শীত গোলাপের ভরা মৌসুম। আর সেই সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যহাতির আনাগোনাও বেড়ে যায়। ওইসব হাতির দল যে দিক দিয়ে যায়, সেখানকার সকল ধরনের ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে। তাই বন্যহাতি প্রবণ এই এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নজর দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। বাগানের শ্রমিক জানান, তারা বাগানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন। প্রতিটি গাছের পরিচর্যা ছাড়াও বিক্রির জন্য ফুল কাটিং, পরিষ্কার করা এবং পাইকারদের হাতে পোঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ জন্য তারা মাসিক ১৫০০০-১৬০০০ টাকা মজুরি পান। এছাড়া প্রতিনিয়ত বাগান আগাছা মুক্ত রাখতে আরও বেশ কিছু শ্রমিক দৈনিক চুক্তি ভিত্তিতে শ্রম দেন। তারা মনে করেন গ্রামে গোলাপ বাগান হওয়ায় বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন।
স্থানীয় পাইকার আছর আলী বলেন, উৎপাদিত গোলাপ স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ১৮০০-২০০০ পিস ফুল সংগ্রহ করা হয়। যার ১শ পিসের ফুলের ঝুড়ি ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকায় হাত বদল হয়। ইউপি সদস্য কিবরিয়ার সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই গোলাপ বাগান তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় মিল ব্যাবসায়ী মাইনুল হাসান মনির বলেন, এলাকায় ফুলের রানী গোলাপের দেখা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। এ কারণে তাদের বিক্রিও বেড়েছে।
গোলাপ বাগানের প্রতিষ্ঠাতা কিবরিয়া আক্ষেপ করে প্রতিনিধিকে বলেন,আমি একজন ইউপি সদস্য আমার কথাই তারা শুনে না তাহলে সাধারণ মানুষের কথা কিভাবে শুনবে।আমি কয়েকবার কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি তারা বলেন আমাদের ফুল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই। তিনি আরও বলেন যারা ফুলের বাগানে কাজ করেন তাদেরকে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ দিলে তাদের পরিচর্যা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকতো। তাহলে আমরা আরও লাভবান হতে পারবো।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত