নিজস্ব প্রতিবেদক॥
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবিরের ক্ষমতার অপব্যবহার,জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন,মানি লন্ডাারিং প্রক্রিয়ায় বিদেশে অর্থ পাচার,আয়কর ফাঁকি প্রদান, অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন এবং বিশেষায়িত তদন্ত করার জন্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমুহকে নির্দেশনা প্রদানের জন্যে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবের সমীপে আবেদন করা হয়েছে।
১৬ ফেব্রুয়ারী-২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবের সমীপে জনস্বার্থে দায়েরকৃত এক আবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবির ক্ষমতার অপব্যবহার,অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবনের সঙ্গে তার সম্পদের বৈধতার মধ্যে স্পষ্ট অসমতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবিরের ঢাকা শহরে রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্লাট। গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বিলাশবহুল বাংলো ও খামারবাড়ি। এনামুল কবির ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর। উপরোক্ত সম্পদ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবিরের জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এনামুল কবির ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে ব্যাংক ব্যালেন্স ও সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে এনামুল কবির অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা মানিলন্ডারিং প্রক্রিয়ায় কানাডায় পাচার করে;সেখানে বাড়ি ক্রয় করেছেন। এছাড়া, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা অর্জিত বৈধ-অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত তথ্য আয়কর ফাইলে গোপন করে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।
আবেদনে আরো বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবিরের বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তিনি ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে এলজিইডিতে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী করছেন। সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার “জলবায়ু সহনীয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের” প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. এনামুল কবির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত রয়েছেন। এলজিইডির নিজস্ব ভবন থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বিলাসবহুল অফিস ভাড়া নেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য এবং শ্যালককে দিয়ে অফিস নিয়ন্ত্রণ করার মত অনিয়ম করে যাচ্ছেন এনামুল কবির । অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৬৮.৯৯.০৭১.২৪-১০৮৭) ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা ও তথ্য তলবও করা হয়েছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বুযিডাঙ্গা গ্রামের এক সাধারণ ফরিয়া ব্যবসায়ী ইছরাইল হোসেনের ছোট ছেলে এনামুল কবির। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে একসময় মহাজনের টাকায় পড়াশোনা চলত। কিন্তু চাকরিতে ঢোকার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তার ভাগ্য। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গ্রামের বাড়িতে রাজকীয় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণসহ শত শত বিঘা জমি কিনেছেন। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করেন হেলিকপ্টারে। স্থানীয়রা তাকে এখন ডাকেন ‘নতুন জমিদার’ বলে।
সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের স্টাফ অফিসার থাকাকালে এনামুলের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান প্রকল্পে যোগদানের পর অনিয়মের মাত্রা আরও বেরে গেছে।
এলজিইডির নিজস্ব বিশাল ভবন থাকা সত্ত্বেও এনামুল কবির রাজধানীর শেওড়াপাড়ার আগোরা ভবনে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনে বাণিজ্যিক হারে তিনগুণ ভাড়ায় নতুন অফিস নিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসটি রাজকীয় ঢঙে সাজিয়েছেন। সাজসজ্জার নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লোপাট করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দায়েরকৃত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে,অফিসটি কার্যত নিয়ন্ত্রণ করেন এনামুলের শ্যালক ফরিদ। কোনো সরকারি পদে না থেকেও ফরিদ অফিসের কেনাকাটা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। তার জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ, যেখানে সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের নিয়ে আড্ডা চলে। প্রকল্পে আউটসোর্সিং ও কনসালট্যান্ট পদে প্রায় ৫০০ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটি পদের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এনামুলের আত্মীয়-স্বজন। অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এনামুল কবির-কে শোকজ করা হয়েছে। বিলাসবহুল অফিস ও অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবিরের বক্তব্য জানার জন্যে তার হোয়াটস্এ্যাপে অভিযোগপত্র সম্বলিত বার্তা প্রদান করা হলেও তিনি কোন মতামত প্রদান করেন নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত