বিনোদন ডেস্কঃ
ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পুরো টালিউড। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তবে তাঁর এই মৃত্যুসংবাদ অভিনেত্রী অনন্যা গুহর কাছে যেন এক মুহুর্তে ফিরিয়ে আনল তিক্ত-মধুর কিছু স্মৃতি।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক মাস আগে পার্কস্ট্রিটের একটি রেস্তরাঁয় গোমাংস বিতর্ককে কেন্দ্র করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আগুনের আঁচ লেগেছিল টালিপাড়াতেও। সেই সময়েই এক ভার্চুয়াল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন অনন্যা ও রাহুল। অভিনয়ের পাশাপাশি অনন্যা ভ্লগিংয়ে জনপ্রিয়, অন্যদিকে রাহুল ব্যস্ত থাকতেন নিজের পডকাস্ট নিয়ে। তাদের সেই বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দুজনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক অদৃশ্য দেওয়াল।
এরপর ফোন স্ক্রোল করতে করতে রাহুলের মৃত্যুর খবরটি যখন অনন্যার চোখে পড়ে, তখন স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। পুরোনো সব তিক্ততা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়। এরপর ভারতীয় এক গণমাধ্যমে নিজের মনের কথা জানান এই অভিনেত্রী। ভারতীয় সেই গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরানো কথা মনে পড়ে গেল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্যা বলেন, হ্যাঁ, মনে পড়ে গেল তো। রাহুলদার সঙ্গে একটা কাজ আমার করার কথা ছিল। বহুদূর কথা এগিয়েও শেষ পর্যন্ত কাজটা হয়নি। এছাড়া ওর সঙ্গে আরও একটা কাজ আমি করেছি।
রাহুলের সঙ্গে মতের অমিল বিষয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, ভুলে যাওয়ার তো কোনও কারণ নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কারও সঙ্গে আমার মতের অমিল হলেই আমি তার খারাপ চাইব। আরে দিনের শেষে আমরা তো এক ইন্ডাস্ট্রির। সেটা ভুলে গেলে চলবে কেন? ভবিষ্যতে হয়তো কোনওদিন আমরা একসঙ্গে কাজও করতাম।
এদিকে রাহুলের অকাল প্রয়াণে তার সহকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে পোস্ট বা শেষ যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু সেসময় অনন্যাকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে অনন্যা বলেন, এত লোকে ছবি পোস্ট করছে, এত কিছু লিখছে। আমার মনে হয় এটা এ বার ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। আমি এ সব কিছু চাই না। তাই কিছু লিখিনি। আমার মনে হয় না যাঁরা সত্যিই রাহুলদার খুব কাছের মানুষ, তাঁরা এখন কিছু পোস্ট করার মতো অবস্থায় আছেন।
উল্লেখ্য, রোববার (২৯ মার্চ) ভারতের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং করার সময়ে পানিতে ডুবে যান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় তার সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে উদ্ধার করা গেলেও রাহুলের খোঁজ পেতে বেশ অনেকটা সময় লেগেছিল। পরে রাহুলকে পাওয়া গেলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত