নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
ফ্যাসিবাদের দোসর হয়েও বহাল তবিয়তে থেকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিটি কাজেই ধরাকে সরা জ্ঞাণ করতে বিধিব্যস্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার। অন্যদিকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় ২৮জন শিশু হত্যার অন্যতম সহযোগী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলামও বহাল তবিয়তে। ঔষধ প্রশাসনকে উপেক্ষা করেই হরহামেশাই চলছে তাদের রামরাজত্ব। যেন দেখার কেউ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর হলেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞাণ করতে বিধিব্যস্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার ও শফিকুল ইসলাম। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হোসেন সোহাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে সোহাগের পরিচয়ে একচেটিয়া ত্রাস চালিয়েছেন নাঈম গোলদার । আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোথায় চাকুরী নিয়েই পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ বিতর্কিত এই পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সময়ে দিনকে রাত- রাতকে দিন বানিয়ে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বুনে গেছেন বলেও অভিযোগ বিস্তর তার বিরুদ্ধে।
তবুও বহাল তবিয়তে স্বপদে রয়েছেন বিধিবাম অর্থলোভী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার। প্রকাশ, সিনিয়রদের পদ ডিঙ্গিয়ে পদ বাগিয়ে নেন নাঈম গোলদার। যোগ্যতানূসারে পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিলো কাইয়ুম সাহেবের। কিন্তু তার পদোন্নতি না হয়ে পদ বাগিয়ে নেন বিতর্কিত এই নাঈম গোলদার। অপরদিকে অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহাগের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিও নিয়েছেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)
নাঈম গোলদার। শুধু তাই নয়, যে কোন কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন অবৈধ পন্থায়। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাঈম গোলদার নিজ জন্মস্থান বরিশালে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করেছেন এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন নামে বেনামে এমন অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারই সহকর্মীসহ কাছে অনেকেই। প্রকাশ, মোহাম্মদ নাঈম গোলদারের প্রভাবের কারণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ মুখ খুলতে পারেন নাই তার বিরুদ্ধে। বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট আমলের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার এখনো বহাল তবিয়তে থাকে কিভাবে এমন প্রশ্ন অনেকের। পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার ঘুষ বানিজ্য, অনৈতিক সুবিধা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে বীরদর্পে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে অনেক অজানা তথ্যসহ থলের বিড়াল। উল্লেখ্য, দুদকে অভিযোগ সূত্রে তদন্ত হয়েছে এই অর্থ লোভী নাঈম গোলদারের বিরুদ্দে যা আগামী পর্বে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। অপরদিকে, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ২০০৯ সালে সিরাপ সেবনে ২৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়। যা সারা দেশে টক অব দ্যা টাউনে পরিনত সংবাদটি। উক্ত ঔষধ কোম্পানির নাম মেসার্স রিড ফার্ম লিঃ, বিসিক শিল্প এলাকা, নন্দনপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় অবস্থিত। উক্ত কোম্পানির টেমসেট সাসপেনশন (প্যারাসিটামল) এবং রিডাপ্লেক্স সিরাপ সেবনে ২৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়। প্রকাশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা অধিশাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্পস্টভাবে উল্লেখ রয়েছে তারিখ-২৩ আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ নং ৪৫.১৫০.০২৭.০১.০০.০৬০. ২০১৭-৩৮২ গত ২৭-০৭-২০০৯ খ্রিঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রাক্তন ঔষধ তত্ত্বাবধায়ককে (বর্তমানে উপ পরিচালক) কে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়ে উক্ত হাসপাতালের উপ পরিচালক এইচ এসকে আলম এর উপস্থাপন মতে Rid Pharma Ltd. এর প্রস্তুতকৃত Temset suspension (paracetamol) ব্যাচ নং ৩ Ridaplex syp (Vitamin B complex) ব্যাচ নং ১০ এর নমুনা হিসেবে একটি করে বোতল সংগ্রহ করে সরকারি টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেন। অত্যাবশকীয়, ড্রাগ আইন অনুযায়ী ৪ (চার) টি স্যাম্পল সংগ্রহের বিধান থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহের চেষ্টা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে ড্রাগ আইনের ২৩ ধারার অপব্যবহার করে মামলায় আসামীদের সহায়তা করার নিমিত্ত এবং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে একটি মাত্র বোতন সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেন এই বিধিবাম চতুর অর্থলোভী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম। এহেন গুরুতর অপরাধ প্রমানিত হয়েও কিভাবে বহাল তবিয়তে স্বপদে থাকেন বিতর্কিত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম তা অনেকের কাছে প্রশ্ন বটে? পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। জানা যায়, জামালপুর জন্মস্থান হওয়ায় পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদের মত আলিসান বাড়ি। যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকা। শুধু তাই নয় নামে বেনামে কিনেছেন কোটি কোটি টাকার জমি। ঢাকায় কিনেছেন ফ্ল্যাট। এমন তথ্য দিয়েছেন নিকটতম আত্মীয়রা। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অর্থলোভী, বিতর্কিত ও বিধিবাম চতুর দুজন অসাধু কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাঈম গোলদার মোটা উৎকোচের বিনিময়ে তাদের দুজনের পদন্নোতির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে পরপর দুইবার চিঠি ইস্যু করেছেন বলেও অভিযোগে যানা যায়। গত ০৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে স্বারক নং-ডিজিডিএ/১-২৮/২০০৩/১২৭ বিষয়ঃ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (গ্রেড-৩) এর শূন্য পদে পদোন্নতি প্রাদান প্রসঙ্গে একটি চিঠি ইস্যু করেন সচিব বরাবরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: শামীম হায়দার। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মরত অনেকেই এ বিষয়ে নিরব থাকলেও অনেকে নিরবেই বলছেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তি পরিচালকের দায়িত্ব পেলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যক্রম ব্যহত হবে এবং সেই সাথে অধিদপ্তর বিতর্কিত হবে। তাই সচেতন অনেক কর্মকর্তা বলছেন বিতর্কিত ব্যক্তি মোহাম্মদ নাঈম গোলদার এবং মো: শফিকুল ইসলামের পরিবর্তে যোগ্য অন্য কোন ব্যক্তিদের পরিচালক পদে আসীন করলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সুনাম যেমন একদিকে অটুট থাকবে তেমনি অধিদপ্তরে দুর্নীতিও বন্ধ হবে। উল্লেখ্য, পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম ও নাঈম গোলদার এর প্রতিহিংসার স্বীকার ভুক্তভোগী অনেক সচেতন কর্মকর্তা কর্মচারীর দাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম ও নাঈম গোলদার এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রকাশ, উল্লেখিত সংবাদে প্রতিবেদকের কোন মনগড়া তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে, যথাযথ নথি পর্যালোচনা পূর্বক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে সংবাদটি প্রকাশ করা হলো।
বি: দ্র: বিতর্কিত, অর্থলোভী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম ও নাঈম গোলদার এর গড়া অর্থের পাহাড় এবং বিভিন্ন সময়ের দুর্নীতির তথ্য প্রমানসহ অনেক অজানা তথ্য সম্বলিত খবর আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে। একের পর এক বেরিয়ে আসছে অজানা অনেক তথ্য ও থলের বিড়াল। চলবে…
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত