হাফিজ খান, বরিশালঃ
পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলেরই কিছু বিতর্কিত নেতা-কর্মীরা। বহিস্কৃত ও পর্যটক মারধোর সহ নানা অনিয়ম ও অভিযোগ রয়েছেন এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এসব বিতর্কিত নেতারা। তবে জেলা যুবদলের নেতারা বলছে, বিতর্কিত কোন ব্যক্তিরা দলে যায়গা পাবেনা এটাই স্বাভাবিক। এবং দলীয় নিয়ম মেনেই কুয়াকাটা পৌরসভার পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
বুধবার(৩০ এপ্রিল) রাত ৮ টায় কুয়াকাটা পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একটি মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে তারা। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গুটি কয়েক নেতা পূর্বে দল থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কুয়াকাটার আবাসিক বিভিন্ন হোটেলে পর্যটকদের মারধর ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মূলত এসব বিতর্কিত নেতাদের নেতৃত্বেই প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে। এসব বিতর্কের কারণে নতুন কমিটিতে অনেকেই স্থান পায়নি বলে দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মে কুয়াকাটায় একটি আবাসিক হোটেলে মোহাম্মদ তুহিন নামের এক পর্যটককে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ ওঠেকুয়াকাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন এর বিরুদ্ধে। এসময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করে। পরে কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে বহিষ্কার করে। তাকেও দেখা যায় এই বিক্ষোভ মিছিলের সামনের সারিতে। এদিকে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল কুয়াকাটায় একটি আবাসিক হোটেলে পর্যটককে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আবু বক্করের বিরুদ্ধে। এ বিষয় একটি মামলা মহিপুর এখনো চলমান রয়েছে। তাকেও দেখা যায় এই বিক্ষোভ মিছিলের অগ্রভাগে।
এ বিষয় অভিযুক্ত কুয়াকাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিস্কৃত সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন,আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেটা আমি জানি কিন্তু মানিনা। কারণ এই দলের পিছনে আমার অনেক ত্যাগ শ্রম রয়েছে, সারা জীবন দল করতে গিয়ে অনেক কষ্ট জেল জুলুম মামলার শিকার হয়েছি। তাহলে সামান্য ভুলের জন্য, এই সুদিনে এসে কেন আমাকে বহিষ্কার করা হবে আমি সেটা জানতে চাই। এবং একই সাথে আমাকে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই। কুয়াকাটা পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ আবু বক্কর বলেন, আমি একটা ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছি। আমি ওয়ার্ড সভাপতি হওয়া সত্বেও কেন আমাকে পৌর কমিটিতে সবার শেষের দিকে সদস্যপদ দেওয়া হল। আমি চাই আমাকে আরো উপরে সম্মানজনক জায়গায় বসানো হোক।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোঃ ফারুক বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ও পরিচ্ছন্ন রাখতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পুর্নাঙ্গ কমিটিতে যুবদলের পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মোট ৭১ জনকে মুল্যয়ন করা হয়েছে। সুযোগ থাকলে আমরা আরো ১০০ জনকে কমিটিতে যায়গা দিতাম। যারা বাত পরেছে তারাও যোগ্য এবং পরিশ্রমী নেতাকর্মী। কিন্তু দলীয় নিয়ম কানুন এবং শৃঙ্খলা মেনে পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এ বিষয় পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, একটা কমিটি করতে গেলে সেখানে সবাইকে মূল্যায়ন করা যায় না। যারা বাদ পড়েছে তারা পরবর্তী কমিটিতে আসবে এটাই নিয়ম। এখানে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ত্যাগ থাকলে দল তাকে এমনিতেই মূল্যায়ন করবে। তাছাড়া কারো জন্য যদি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট অথবা ক্ষুন্ন হয়, তাহলে দল তাদেরকে দুরে রাখবে এটাই স্বাভাবিক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত