নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়নগন্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোতে অনিয়মেই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। ডিপোটির ডিএস মাহবুবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যেখানেই তিনি চাকরি করেছেন সেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ রেখে গেছেন । তার অপসারন ও পদত্যাগের দাবীতে ডিপোর সামনে মিছিলও করেছে ট্যাংকলরী মালিক শ্রমিকেরা, কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তার অধীনস্থ কর্মকর্তা, কমচারীকে বদলী, চাকরীচ্যুত করা হলেও বহাল তবিয়তে ডিপো ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান৷
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর মেঘনার গোদনাইল ডিপো থেকে চালান ছাড়াই রাব্বি ট্রেডার্সের নামে ১৫টি ড্রামে ৩ হাজার লিটারো ডিজেল পাচারের অভিযোগ উঠেছে ডিএস মাহবুবের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রির্পোটের প্রেক্ষিতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মিটারম্যান সবুজকে চাকরিচুত্য করা হয়। ডিএস মাহবুবকে সর্তক এবং লোকমানকে সাময়িক বহিস্কার করে। এছাড়া ৬ মাসের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানকে তেল উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ।
এর আগেও তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে একই ডিপোতে। ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ৯ হাজার লিটার ডিজেল বাদশা টেক্সটাইলের নামে ইনভয়েস করে। ডিজেল ডেলিভারি নেওয়ার জন্য ডিজেল পয়েন্টে ঢাকা মেট্রো-ঢ-১১-০০১৯ নম্বরের ট্যাংকলরী লোড নেয়। এ সময় ৯ হাজার লিটার তেলের সাথে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেলসহ মোট ১১ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল ওই ট্যাংকলরীতে লোড করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিটারম্যান সবুজ ( বর্তমানে চাকরিচুত্য) অবৈধভাবে ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল অতিরিক্ত ট্যাংকলরী ড্রাইভারের যোগসাজসে বিক্রি করে। গোদনাইল এসও রোডের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রনি ও তার সহযোগীরা খবর পেয়ে গাড়িটি আটক করে এবং ডিপোর ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমানকে জানায়। এ নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ দেন-দরবার চলে। পরবর্তীতে ডিপো ইনচার্জ ও রনির সহযোগীদের ম্যানেজ করে গাড়িটি ডিপো থেকে বের করে দেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সে যাত্রায় মিটারম্যান সবুজ ও আজিজকে মিটার থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। আজিজ এ ব্যাপারে কিছু না জানা সত্ত্বেও তাকে অন্যত্র সরানো হয়।
এত কিছুর পরও ডিএস মাহবুব এখনো থেমে নেই বরং রোড পরিবর্তন করে আগের মতো অবৈধ কার্যক্রম চালিযে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে । তিনি এখনো তার অবৈধ কাজের কাজের দোসরদের নিয়মিত মাসিক মাসোহরা দিয়ে তেল চুরির অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে তিনি এখন তেল চুরির রোড বদল করেছে। বর্তমানে সড়ক পথ বাদ দিয়ে নৌপথে তার অবৈধ চোরই তেলে পাচার হচ্ছে। এর সাথে ডিপোর সহকারি মিটারম্যান এবং ঠিকাদারের মিটারম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে । জানা গেছে তেল চুরি অব্যাহত রাখতে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের স্থায়ী মিটার ম্যানদের মাসিক ২০,০০০ টাকা, ক্যাজুয়েল মিটার ম্যানদের ১০,০০০ টাকা ঠিকাদারের মিটার ম্যানদের ৮০০০ টাকা, সিকিউরিটিদের ৬০০০ টাকা, ঠিকাদারের সিকিউরিটিদের মাসিক ৫০০০ টাকা করে মাসোহরা প্রদান করে থাকেন। মূলত এখন এদের নেতৃত্বেই তার অবৈধ কাজের সহযোগি হিসাবে কাজ করে।
গেল বছর ২৪ ডিসেম্বর মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এইচ আর, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ২৩ ডিসেম্বরের তেল পাচারের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কোম্পানির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলামকে (ডিপো অপারেশন্স) তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন ডেপুটি ম্যানেজার (অডিট) মো. গোলাম মহিউদ্দিন এবং ঢাকা রিজিওনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর ৭ দিনের মধ্যে পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটি গেলো ৩০ ডিসেম্বর ডিপোতে এসে তদন্ত করে। অভিযোগ উঠেছে ডিএস মাহবুবের পরিবর্তে মিটারম্যান সবুজের কাঁধে দায় চাপানোর সুযোগ রেখে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করেছে। যাকে বলে ‘উধোর পিন্ডি বুধোড় ঘাড়ে ‘ চাপানোর চেষ্টা। কারণ গেট থেকে কিভাবে গাড়ী চালান ব্যতীত বের হলো সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ডিএস মাহবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করে ডিপোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ট্যাংকলরী চালক ও শ্রমিকরা। তারা দুর্নীতিবাজ ডিএস মাহবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেন। এত ঘটনার পরও ডিএস মাহবুব এখনো তার অবৈধ কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। অতি গোপনে সাজেদা প্লোর্টিং, শীতলক্ষা প্লোর্টিং এবং বুড়িগঙ্গা প্লোর্টিং সহ একাধিক পাম্পে অবৈধ ভাবে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে । তেল চুরির টাকায় বগুড়া উপশহরে মাহবুবুর রহমান, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের নামে শত কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তুলেছে। পরবর্তী সংখ্যায় থাকছে তার সম্পত্তির খতিয়ান
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত