ডেস্ক রিপোর্টঃ
চট্টগ্রাম জেলার অন্তরগত সাতকানিয়া উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও একজন সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছি যে, উপরের উল্লেখিত ব্যাক্তি জনাব আবু ইউসুফ বর্তমানে পাল্পউড প্লান্টেশন, বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তিনি মূলত প্লানটেশন বিভাগের আওতাধীন বনায়ন তৈরী, তদারকি, বনের গাছ, অবৈষ কাঠ পাচার রোধ, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। মূলত উনার কাছে বাংলাদেশ সরকার তথ্য বাংলাদেশ বন বিভাগ এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। সেখানে তিনি যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন না করে করে নিজেই একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
পাল্পউড প্ল্যান্টেশন এর আওতায় মূলত কর্ণফুলী পেপার মিলস এর কাঁচামাল বা মন্ডোপযোগী নরম কাঠের বাগান সৃজন করা হয়। এই বাগানের আওতায় মূলত (কদম, ল্যামু, গেওয়া) বন সৃজন করা হয়। বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন কার্যক্রমের জন্য রোয়াংছড়ি, তারাছা, পলি রেঞ্জে বনায়ন করা হয়। এই বনায়নের জন্য সরকারি ভাবে প্রচুর পরিমাণে বরাদ্দ আসে। গাছ রোপণ থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষন, সার প্রয়োগ ইত্যাদি। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে। তেরী হয়েছে অনেক বড় এক সিন্ডিকেট, যে সিন্ডিকেট এর মূল হোতা হলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ এবং তার ঘনিষ্ট সহকারী সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল আলম। জনাব আবু ইউসুফ এবং তার কয়েকজন রেস্তার মিলে গিলে খাচ্ছেন পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ কে। বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। কাঠ পাচারকারীরা রীতিমত বিপুল পরিমাণ চাঁদা দিয়ে যাচেছন আবু ইউসুফ সিন্ডিকেট কে। ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে নিচ্ছে একদল মোটা অংকের টাকা চাঁদার বিনিময়ে যা মূলত অহরহ ঘটে যাচ্ছে পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগে, বনায়নের চারা রোপণের নামে অর্থ আত্মসাৎ, দেখা গেছে যে নাম মাত্র তথা খাতায় কলমে প্ল্যান্টেশন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো মিল নেই। চারা গাছ রোপণ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে চারার অস্তিত্ব নেই। নেই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ, যাও কিছু আছে তা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবে বিলীন এর পথে। দেখা গেছে গাছ পরিচর্যা, বনায়ন, রোপণ এর নামে যে বরাদ্দ হয়, তার সিংহভাগই আত্মসাৎ হয়ে পড়ে আবু ইউসুফ সিন্ডিকেট এর কাছে।
বাংলাদেশ বন বিভাগ তথা, চট্টগ্রাম বন বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলো, বান্দারবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগ, যা আজ ঘুষ, চাদাবাজি, গাছ পাচারের মতো নিন্দনীয় কাজের মাধ্যেমে ধ্বংসের মুখে। যার পিছনের কল কাটি হিসেবে বিবেচিত বন বিভাগের কর্মকর্তারা, উল্ল্যেখযোগ্য ব্যাক্তি হলেন, জনাব আবু ইউসুফ। দেখা গেছে যে, বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভিন্ন সেরা নিতে গেলে নিয়মিত ভাবে ঘুষের মুখ্যেমুখি হতে হচেছ সাধারণ মানুষ কে তথা বনজ পণ্য ব্যবসায়ী কে। কাঠ পরিবহন অনুমতি, বনভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, জব্দকৃত পণ্য ছাড় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির বাহিরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। ঘুষ না দিলে সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় কিংবা অযথা জটিলতা তৈরী করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আইনগতভঅবে বৈধ আবেদনও মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয় যাতে আবেদনকারী বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে রাজি হন। এতে করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার পেছনে মূলত জনাব আবু ইউসুফ সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। কয়েকজন রেঞ্জার আর তিনি মিলে বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগ কে দুর্নীতির আখরায় পরিণত করে ফেলেছেন। বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনে বহু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, বনের প্রায় কয়েকশ একর জমি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে, এই কয়েক বছরে। এই গাছ গুলো কেটে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে অবৈধভাবে। কিন্তু বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তথা উনার অধীনস্ত কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। খতিয়ে দেখা যায় যে, পাচারকারীদের সাথে একটা যোগসাযাশ রয়েছে বন কর্মকর্তাদের সাথে।
তিনি বদলী বাণিজ্যের সাথেও জড়িত, লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা পর্যন্ত যার যার সুবিধামত পোস্টিং দিয়ে থাকেন এবং যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী দাবীকৃত ঘুষ দিতে অকৃতি জানায় তাদের কে এই সিন্ডিকেট অসুবিধাজনক জায়গায় দীর্ঘদিনেরর জন্য পোস্টিং করিয়ে থাকেন। এ ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে যে কারণে সাধারণ কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ত্রাসের নাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব আবু ইউসুফ। তিনি প্লাপউড প্লান্টেশন বিভাগের প্যাহাড়ি বেশ কয়েক শতক জমি তিনি অবৈধ ভাবে দখল করেছেন নিজের অবৈধ ক্ষমতাবলে। তাছাড়া তিনি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস সহ প্লট আকারে সরকারি জমি বিক্রি করেছেন। বাংলাদেশ বন বিভাগ থেকে বন উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে থাকে, যেমন বাগান সৃজন, বাগান পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে ও ব্যাপক অনিয়ম উঠে এসেছে বান্দরবান বন বিভাগের ক্ষেত্রে। দেখা গেছে খাতায় কলমে, বনায়ন সৃজনেরে উল্লেখ থাকলে ও সরজমিনে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এনরিচম্যান্ট প্ল্যান্টশনে কোনো কাজই হয় নাই। কোনো বাগান না করেই পুরো টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে গেছে। সমবায় ঋণ এলডিএফ খাতেও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বনায়ন প্রকল্পের কন্ট্রাকটার আইটেম বাগানের নার্সারি বাঁশ, গোবর, সার, পলিব্যাগ, মাটি, সুতা, সাইনবোর্ড উনাদের লোক দিয়ে টেন্ডার করিয়ে ঠিকাদারদের নামে মাত্র কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা ফরেন্ট রেঞ্জার দের মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আত্মসাৎ করে নেয়। সাইন বোর্ডে বাগান সৃজন এর কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার সাথে কোনো মিল নেই। আবার কোনো কোনো জায়াগায় বাগানের অস্তিত্ব থাকলেও সঠিক রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বনের গাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যার পিছনে জনাব আবু ইউসুফ এর প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে।
তিনি এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং আমাদের রাজস্ব খাত বিপুল পরিমাণ রাজস্বের হাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনিয়মের কারণে অবৈধভাবে বন সম্পদ আহরণ বাড়তে পারে যা দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ কে শীঘ্রই এই সিন্ডিকেট তথা এ ধরনের রাঘব বোয়লের হাত থেকে রক্ষা না করতে পারলে অচিরেই বন বিভাগের জীববৈচিত্র তথা পুরো বন হুমকির মুখে পতিত হবে দ্রুত উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ব্যাক্তির বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেছেন একটি ফ্ল্যাট, তাছাড়া নিজ এলাকায় নিজ ও আত্মীয় স্বজনের নামে রয়েছে বেশ কিছু কৃষিজমি। উক্ত ব্যাক্তির স্ত্রী, শাশুড়ি ও সন্তানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। যা একটু খোজ খবর নিলেই বের হয়ে আসবে
তিনি উপরিমহল তথা বিভিন্ন দপ্তর কে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে নিজ কর্মস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন। দুদক তথ্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি ইতিপূর্বে, উনার অনেকের সাথে রয়েছে সখ্যতা। এরকম কর্মকর্তাদের কারণে বন বিভাগ আজ হুমকির মুখে। বনাঞ্চলের ভারসাম্য আজ প্রায় নষ্টই হয়ে গেছে। বনাঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য এই ধরনের কর্মকর্তাদের অচিলছে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং বদলী করা উচিত। অতএব, দেশ ও জাতীয় সম্পদ কে রক্ষা করার জন্য এরকম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাদয়ের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত