ডেস্ক রিপোর্টঃ
দাউদকান্দি থানায় ভুক্তভোগী বিধবা নারীর মামলা শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংগঠনটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা, ভ্রূণ নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ জিডিটি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জিসানের কোনো পরিচয়পত্র নেই এবং তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বীরবাগ গোয়ালী গ্রাম। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু হয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তে আরও জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এরপর জিসান ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং সন্তান নষ্ট না করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভয়ভীতির মুখে তিনি গর্ভপাত করাতে রাজি হন। অভিযোগ অনুযায়ী, জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে তাকে সেবন করান। ওষুধ সেবনের দুই থেকে তিন দিন পর তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি বিষয়টি জিসানকে জানান। তখন জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। এদিকে গর্ভপাতের ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি দিলেও ১১ জুন রাত ৮টার পর বিয়ে না করার উদ্দেশ্যে আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করানো হয়। জিডির অনুসন্ধান চলাকালে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় হাজির হয়ে জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯(১)/৩০ এবং দণ্ডবিধির ৩১৩/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে যার নং- ১৩। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত