বিশেষ প্রতিবেদক ॥
রাজধানী ঢাকার অভিজাত ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে থাকা সরকারের অন্তত ১২৩টি মূল্যবান পরিত্যক্ত বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অবৈধ দখলে রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলেও বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে এগুলো সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের এই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড (APMB) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে মোট গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার ১৮টি বাড়ি অবমুক্ত করেছে এবং অন্তত দেড় হাজার বাড়ি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈধভাবে লিজ বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি বাড়িগুলোর মধ্যে ১২৩টি বাড়ি কোনো ধরনের বৈধ বরাদ্দ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে একটি শক্তিশালী চক্র ভোগদখল করছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা ও মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা এসব আবাসিক সম্পত্তিকে রাতারাতি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। অবৈধ দখলদাররা সেখানে দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, প্রাইভেট অফিস ও রিকশার গ্যারেজ তৈরি করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক পরিচয় বা ভুয়া লিজের কাগজপত্র তৈরি করে স্থায়ী স্থাপনাও গড়ে তোলা হয়েছে।এই সম্পত্তিগুলো উদ্ধার করতে না পারার পেছনে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে দীর্ঘ আইনি জটিলতা। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে উচ্চ আদালতে ৪ হাজার ৩৫৮টি মামলা ঝুলে রয়েছে। এছাড়া কোর্ট অব সেটেলমেন্টে ২৫০টি এবং ভাড়া আদায়-সংক্রান্ত ৪১২টি মামলা চলমান আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মামলার কারণে আদালত 'স্থিতাবস্থা' (Status Quo) জারি করায় প্রশাসন সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে না। আর এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটগুলো তাদের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের (APMB) সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বলেন, "অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে সরকার সব সময় আন্তরিক। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই বাড়িগুলোর হালনাগাদ তালিকা তৈরি এবং আইনি জটিলতা কাটানোর জন্য কাজ করছে। যেহেতু অনেকগুলো সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, তাই চাইলেই দ্রুত উচ্ছেদ করা সম্ভব হয় না। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।"এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সরকারের আইন কর্মকর্তাদের একাংশের গাফিলতি বা গোপন সমঝোতার কারণে অনেক সময় মামলার রায় দখলদারদের পক্ষে চলে যায়। 'পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) আইন, ২০২৩' পাস হওয়ার পর নতুন করে তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল এখনো মেলেনি। ঢাকার তীব্র আবাসন সংকট দূর করতে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণে এই হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবিলম্বে উদ্ধার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত