ইসমাইল মাহমুদ,মৌলভীবাজারঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেছেন, সিলেটের প্রত্যেকটা জায়গায়ই হচ্ছে পর্যটনের জায়গা। এখানে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে সুবিধাও রয়েছে। আমরা ট্যুরিজমের একটা মাস্টার প্ল্যান করছি। এই মাস্টার প্ল্যানে সিলেটও আছে। সিলেটের কোথায় কি করা যায়, কোনটা করলে ভালো হয় এ বিষয়ে আপনারা আপনাদের মতামত জানাবেন। আমরা সেই মতামত নিয়ে আপনাদের সাথে বসে সিলেটকে ট্যুরিজমের একটা আন্তর্জাতিক মানের বিভাগ তৈরি করতে চাই। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার কাছে ধর্ম বর্ণ কোন কিছুই ইস্যু নাই। তিনি সবসময় বলেছেন আমরা ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। যার প্রমাণ ইতিমধ্যে আপনারা পেয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের সকল জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর।" তিনি শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে ২৭ নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নিয়ে তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম আরও বলেন, "সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ট্যুরিজম শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার চায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রতিষ্ঠিত হবে না, পর্যায়ক্রমে তা সম্পদে রূপান্তরিত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী একাডেমি ভবন নির্মাণের কথা আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন আমার বিশ্বাস অবশ্যই তিনি আপনাদের একাডেমি ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেবন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, ফিনলে টি কোম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাসিন আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ।
টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ সম্পর্কে প্রধান অতিথি আফরোজা খানম এমপি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, জীবনধারা, ঐতিহ্য, লোজক সংস্কৃতি এ অঞ্চল মকে করেছে সমৃদ্ধ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৭১'র মুক্তিযুদ্ধ এমনকি আজকের যে বাংলাদেশের গল্প সেই গল্পে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের অবদান উজ্জ্বল। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণেও আপনাদের প্রয়োজন অপরিহার্য। হারমনি শব্দটির একটি আবেদন আছে। এ শব্দটির মধ্যে একটা সম্প্রীতি, একটা সহাবস্থান, একটা হৃদয়ের টান রয়েছে। হারমোনি ফেস্টিভাল প্রতি বছর হবে। আমি তো যে আয়োজন হবে সেটা যেন আরো সুন্দর, আরো উজ্জ্বল হয় সেভাবে আমরা ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে করার চেষ্টা করবো। আসবো আমাদের পাশে থাকবেন। ভবিষ্যতে হারমোনি ফেস্টিভাল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেন পৌছতে পারে এ প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "জনগণ আমাদের। দেশের মানুষের জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এই জনগণকে সুরক্ষা প্রদানের দায়িত্ব আপনাদের। ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে থাকে সবার জন্য কাজ করে যাবেন, আইনের সুশাসন রক্ষা চেষ্টা করবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার একটা কথা বলেন আমার দেশের জনগণ যেন কষ্ট না পায়, যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে। আমি আশা করি এখনকার প্রশাসন ও মাননীয় সংসদ সদস্য যারা আছেন তার অঞ্চলের মানুষের দিকে সুদৃষ্টি রাখছেন, ভবিষ্যতেও রাখবেন। দ্বিতীয় বারেরমতো আয়োজিত এবারের হারমোনি ফেস্টিভ্যালে শ্রীমঙ্গলে ও তৎসংলগ্ন এলাকার ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, জীবনাচার, পোষাক, ব্যবহৃত গহনা, শিকারে ব্যবহৃত তীর ধনুক ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন। তিন দিনব্যাপী এবারের হারমোনি ফেস্টিভ্যালে খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূইয়া, সাঁওতাল, ওরাও, লোহার, মুন্ডা, কুর্মী, ভুমিজ, বুনারাজি, গঞ্জ, মৃধা, তেলেগু, গৌড় সমাজ, রবিদাস, পাইনকা, কৌরি/ভুজপুরী, কালিন্দি, কড়াসহ শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি নৃগোষ্ঠী তাদের বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরছে। এছাড়াও খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাত, মনিপুরিদের লাইভ তাত, চা প্রদর্শনী, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২১ জুন অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত