মো: আব্বাস উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার দিন মোয়াজ্জিন পাড়া এলাকায় এক চরম ভুল বোঝাবুঝির জেরে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। জঙ্গল থেকে আসা সাপের কথা বলায় এক নারীকে কটূক্তির মিথ্যা অজুহাতে, বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে শিক্ষক আলী আকবর হুজুরকে লাঠি ও লাথি-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এক অদ্ভুত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মাদ্রাসার দুইজন ছাত্র এবং একজন পথচারী ছেলে রাস্তা দিয়ে আসার সময় জঙ্গল থেকে একটি বিষাক্ত 'দাঁড়াশ সাপ' বের হতে দেখে। ঠিক তখনই ওই পথ দিয়ে এক নারী হেঁটে আসছিলেন। ছাত্ররা সরল বিশ্বাসে সাপটি দেখার কথা উল্লেখ করে একে অপরকে সতর্ক করে বলে, ওইদিকে একটা দাঁড়াশ সাপ দেখা গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ওই নারী মনে করেন সাপটি তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। এই সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জের ধরে ওই নারী বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী ইয়াকুবের কাছে মিথ্যা ও উসকানিমূলক অভিযোগ করেন। স্ত্রীর কথা শুনে কোনো প্রকার সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইয়াকুব। দলবল নিয়ে সোজা চড়াও হন স্থানীয় মাদ্রাসায়। ক্লাসরুমের ভেতরে শিক্ষক আলী আকবর হুজুরের সামনে থেকেই এক ছাত্রকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করেন ইয়াকুব তার স্ত্রী ও ইয়াকুবের দলবল । এ সময় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলী আকবর হুজুর এবং আরও দুইজন শিক্ষক পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন। তারা অত্যন্ত নম্রভাবে ইয়াকুবকে বলেন, কী হয়েছে আমাদের বলুন, আমরা নিজেরা বসে এর সঠিক বিচার করব।
কিন্তু কোনো কথা না শুনে, উল্টো শিক্ষকের ওপরই চড়াও হয় হামলাকারীরা। আলী আকবর হুজুরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত লাথি, কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। একজন সম্মানিত দ্বীনি শিক্ষককে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে লাঞ্ছিত ও মারধর করার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। এলাকাবাসীরা বলেন। হুজুররা তো শুধু থামাতে গিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন বিচার করে দেবেন। কিন্তু ইয়াকুব কোনো কথা না শুনে হুজুরকে লাঠি দিয়ে মারা শুরু করে। এটা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। অপরাধ ঢাকতে উল্টো ভুক্তভোগী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নামেই ভুজপুর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হামলাকারী পক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে নামেন ভুজপুর থানার এসআই মাহবুব। ভুজপুর থানার এসআই মাহবুব ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় প্রতিবেশী, সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসার ছাত্র ও এলাকাবাসী একযোগে এই অতর্কিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা পুলিশের সামনেই এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং ইয়াকুবের অন্যায় অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন। ভুজপুর থানার ওসি সাহেব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন-অপরাধী যেই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক আলী আকবর থানায় গিয়েছিলেন একটা অভিযোগ করার জন্য। এস আই মাহবুব থাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দে এবং বলে যে কোর্টে যাও যায় মামলা কর।ভুক্তভোগী আলী আকবর বলেন সাধারণ একজন মানুষের থানায় যাওয়ার অধিকার আছে তাদের অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত