ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রেনু মিয়া। পেশায় বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক। প্রতিদিনের আয় ৪০০-৫০০ টাকা। এ টাকা ও ভাইয়ের আয় দিয়ে চলে সংসার। তবে প্রতি বিশ্বকাপ আসলেই আদি পেশা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ না করে বেড়িয়ে যান বিভিন্ন দেশের পতাকা হাতে। পায়ে হেঁটে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে, এক শহর থেকে অন্য শহরে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা বিক্রি করেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষেও মৌলভীবাজার সদর এবং শ্রীমঙ্গলে পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। সম্প্রতি মো. রেনু মিয়ার সাথে দেখা হয় জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের ব্যস্ততম চৌমুহনা চত্ত্বরে। একটি ছোট বাঁশের লাঠিতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ নানা দেশের বিভিন্ন সাইজের পতাকা নিয়ে হেঁটে হেঁটে তা বিক্রি করছেন। সাথে রয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাও। শুধু বাঁশের লাঠিতে নয়, পতাকার ভান্ডার রয়েছে তার পিঠে ঝুলানো কাপড়ের তৈরি ব্যাগেও।
আলাপচারীতায় দিনমজুর রেনু মিয়া জানালেন, নিজ এলাকায় সাড়ে ১১ মাস বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। বাকি ১৫ দিন তথা ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার নানা অলিগলিতে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, ব্যাজ, ক্যাপ, স্টিকার ইত্যাদি বিক্রি করেন। আর বিশ্বকাপ এলেই ব্যবসা হয়ে ওঠে রমরমা। বিভিন্ন দেশের নানা সাইজের পতাকা বাঁশে ঝুলিয়ে ছুটে বেড়ান এক শহর থেকে আরেক শহরে। মো. রেনু মিয়া বলেন, এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উপলক্ষে পতাকা বিক্রি করছি। এ ব্যবসা এখন প্রচুর চাঙ্গা। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। লাভও হয় ভালোই। আগামী এক মাস পতাকা নিয়েই হেঁটে বেড়াবো। তারপর ফিরে যাব নিজের পেশায়।
কোন দেশের পতাকার চাহিদা বেশি এ প্রশ্নের জবাবে রেনু মিয়া বলেন, সারা দেশেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক অন্য দেশের থেকে অনেক বেশি। এক কথায় বলা যায়, দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ব্রাজিল, অন্যভাগে আর্জেন্টিনা। আমি প্রতিদিন যা পতাকা বিক্রি করি তার মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা শতকরা ৮০ ভাগ, আর বাকি দেশগুলোর পতাকা ২০ ভাগ বিক্রি হয়। পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার মা, বাবা, ভাই, বোন সবই আছেন। এক ভাই ও আমি মিলে সংসারের চাকা সচল রাখতে কাজ করছি। দুই ভাই মিলে যা আয় হয় তা দিয়ে বৃদ্ধ মা, বাবার চিকিৎসাসহ ডাল-ভাত খেয়ে কোনরকম বেঁচে আছি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত