ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ
কলেজের বেতন, শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফি কলেজে পরিশোধ সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বোর্ড ফি কলেজ থেকে শিক্ষাবোর্ডে প্রেরণ ও রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসি) পরীক্ষায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলার রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের নিয়মিত ৮ শিক্ষার্থীর ও অপর ১ অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। ফলে তাদের পরীক্ষা দেওয়া ছিল অনেকটা অনিশ্চিত। সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবোর্ড এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে অবশেষে পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘন্টা পর ওই নিয়মিত ৮ জন শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র ছাড়াই কেন্দ্রে প্রবেশ করে সিলেট শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রদত্ত একটি কোড নম্বরের মাধঢমে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগের নিয়মিত ও অনিয়মিত সকল শিক্ষার্থী কলেজ বেতন, টিউশন ফি, বোর্ড ফি পরিশোধ করলেও প্রতিষ্ঠানটির ৮ জন নিয়মিত ও ১ অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসি) পরীক্ষায় প্রবেশপত্র আসেনি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তাদের প্রবশপত্র পায়নি তারা, এমন অভিযোগ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। তবে বৃহস্পতিবার ওই ৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ পরীক্ষার্থী (অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারের পরীক্ষা আগামী সোমবার) তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তি শীল, শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার পরীক্ষা শুরুর আগেই তাদের নির্ধারিত কেন্দ্র শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গেইটে আসেন। তবে প্রবেশপত্র না থাকায় তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি। গেইটের সামনেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিষয়টি জানতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা দ্রুত শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ছুটে আসেন। ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মুজিবুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে শিক্ষাবোর্ডের ইতিবাচক সাড়া প্রাপ্তির পর ওই ৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শুরুর অনেক পরে যেহেতু তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে সেহেতু শিক্ষাবোর্ডের অনুমতিতে ওই পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ২০ মিনিট লেখার সুযোগ পান।
এ ব্যাপারে পরীক্ষার্থী তানিয়া অক্তার বলেন, "পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের টাকা আমরা গত রমজান মাসেই কলেজে জমা দিয়েছি। বারবার কলেজে যোগাযোগ করার পর এখন পর্যন্ত এডমিট কার্ড পাইনি। পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘন্টা পর ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা প্রায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি।" পরীক্ষার্থী শ্রাবন্তী শীল বলেন, এডমিট কার্ড না পাওয়ায় আমরা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেই। কিন্তু আমাদের মাত্র ২০ মিনিটি সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা লেখতে পারিনি। আমরা পরীক্ষায় ফেইল করলে এর দায়ভার কে নেবে?
পরীক্ষার্থী দীপা কাহার বলেন, "কয়েক মাস আগে আমরা কলেজে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দেই। এডমিট কার্ডের জন্য কলেজে কয়েকদিন গিয়েছি। শুধু তারিখ করা হয়েছিল আজ-কাল, সকাল-বিকেলে দেয়া হবে। সর্বশেষ বলা হয় পরীক্ষার দিন ৮টায় দেয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার দিনও আমরা পাইনি। এ ঘটনায় আমরা শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং আমরা মানসিকভাবে প্রচন্প বিপর্যস্থ।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, যে ৯ জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আইছে না, আমার নলেজে আছিল না। আজকে বিষয়টি জেনেছি তারা সবাই কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেবের কাছে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিল। পরে ইউএনও এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ফরম ফিলাপের টাকা দেয়ার পরও এডমিট কার্ড না পাওয়ার দায় কার প্রশ্নে তিনি বলেন, দায় কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং যেহেতু আমি দায়িত্বে আছি আমারও। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজটিকে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, "আমরা জেনেছি সকালে ৯ পরীক্ষার্থী তাদের প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। স্বাভাবিক ভাবই প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ কেন্দ্রে যাওয়া সমিচিন নয়। পরবর্তীতে আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পারি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে প্রবেশপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু প্রবেশপত্র আসে নাই। না আসার কারণ হিসেবে জানা যায়, কলেজ থেকে যথাসময়ে বোর্ডে সকল কাগজপত্র এবং বোর্ডের ফি জমা দেওয়া হয় নাই। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে বিশেষভাবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা ভোট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছি। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখেছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাচ্চারা পরীক্ষা দিয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত