তারিখ লোড হচ্ছে...

ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত অবশেষে জিয়াউর রহমানের পলাতক খুনিকে গ্রেফতার তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল ফারুয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াতে ইসলামী, দ্রুত পুনর্বাসনের আহ্বান কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক জসিম কেশবপুরে ভূয়া আয়কর কর্মকর্তা আটক ইরানিদের সড়কপথে ভ্রমণ এড়ানোর আহ্বান, নতুন হামলার আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ ১৮ জুলাই: রাজপথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মোড় নেয় আন্দোলন সুন্দরবনের অজগর লোকালয় উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেন বনবিভাগ বিশ্বকাপ ফুটবল, অর্থনীতির মাঠে কে জিতল, কে হারল নলডাঙ্গায় জুলাই শহীদদের স্বরণে আলোচনা সভা ও শ্রমিকদের মাঝে খাবার বিতরণ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এস্কাফ সিরাপ ও ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি ছোট তালতলী গ্রামবাসীর বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুন, দগ্ধ ১০ আমতলীতে মিথ্যা মামলা, ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় নয়, অপরাধী আমার ভাই হলেও ধরবেন: প্রতিমন্ত্রী জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উদযাপনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার গলাচিপায় উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার ভোলাহাটে কৃষক কার্ড বিতরণের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন রামগড়ে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির নতুন দিগন্ত বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ ঢাকায় এবার মনোরেল করতে চায় সরকার ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা গলাচিপায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে যুবদল নেতা ইখতিয়ার রহমান কবির নলডাঙ্গায় সারবোঝাই ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনা, চালক-হেলপার অক্ষত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন বরগুনায় কৃষক স্মার্ট কার্ড বিষয়ক প্রশিক্ষণ মির্জা মোরাদুজ্জামানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত জলাবদ্ধতায় ঘরেই নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু কেশবপুরে অবহেলিত নবজাতক প্রসূতির পাশে ইউএনও ৯ ঘণ্টা আত্মগোপন, অবশেষে গ্রামবাসীর হাতে আটক দুই গরু চোর রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্রথমবার চালু হলো কলপোস্কোপি সেবা বাজেট অধিবেশন শেষ ২৬ কার্যদিবসে, ১০ বিল পাস জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান: রাষ্ট্রপতির ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান বনরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী এনআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্রয় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কেশবপুরে দিন দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মোল্লাপাড়া গ্রাম থেকে ২ শত পিস ইয়াবাসহ ৩ জন আটক বাঘাইছড়িতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস এমপি দীপেন দেওয়ান মোংলা বন্দরে কর্মচারী সংঘের নির্বাচনের উদ্যোগ, ৩ সদস্যের কমিটি গঠন মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত রামগড়ে দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন ফ্যাসিস্টের দোসর ও হাইব্রিডদের স্থান নেই বিএনপিতে দীঘিনালায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ৭ বিজিবি

বিশ্বকাপ ফুটবল, অর্থনীতির মাঠে কে জিতল, কে হারল

বিশ্বকাপ ফুটবল, অর্থনীতির মাঠে কে জিতল, কে হারল
পাঠক সংখ্যা
638

স্পোর্টস ডেস্কঃ

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, অর্থনীতিরও বিশাল আসর। এবারের বিশ্বকাপে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি দল খেলছে, খেলাও হচ্ছে বেশি। ফলে এবারের আসরে যেমন দর্শক বেড়েছে, তেমনি বাণিজ্যও হয়েছে শত শত কোটি ডলারের।

এই অর্থনৈতিক উৎসবে যে সবাই সমানভাবে লাভবান হয়েছে, বিষয়টি মোটেও সে রকম নয়। ফিফা, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের আয় বেড়েছে, কিন্তু দর্শকসহ অনেকের জন্য বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে বাড়তি খরচের কারণ।

সবচেয়ে বড় বিজয়ী ফিফা: বলা বাহুল্য, ফুটবল বিশ্বকাপ এই খেলার বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার জন্য আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটি রেকর্ড ৭৬০ কোটি ডলার আয় করেছিল। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে আয় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে, এমন আশা করা হচ্ছে। ডয়চে ব্যাংক গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ ম্যারিয়ন লাবোরের মতে, চার বছরের ব্যবধানে ফিফার মোট আয় ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তাঁর ভাষায়, অর্থনৈতিকভাবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিজয়ী নিঃসন্দেহে ফিফা। সম্প্রচারস্বত্ব, লাইসেন্স, আতিথেয়তা, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি-এসবই ফিফার আয়ের প্রধান উৎস। এর বাইরে এবার টিকিট পুনর্বিক্রির (রিসেল) আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালু করে ক্রেতা ও বিক্রেতা-উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ থেকে আয় বৃদ্ধি করতে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ফিফা। চীন ও ভারতের মতো বড় বাজার যুক্ত হলে দর্শকসংখ্যা ও আয়-উভয়ই আরও বাড়বে।

দর্শকদের পকেট খালি: বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা মাঠে গিয়ে সরাসরি দেখা, এটা অনেক সমর্থকের আজীবনের স্বপ্ন। প্রতি বিশ্বকাপেই এমন অনেক মানুষ তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করে থাকেন। তবে এবার টিকিটের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। যাঁরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখেছেন, তাঁদের পকেট থেকে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে। টিকিটের ভিত্তিমূল্য ছিল যেমন বেশি, তেমনি চাহিদার ভিত্তিতে পুনর্বিক্রয়ের টিকিট বিক্রি করার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতির ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ১ হাজার ডলারের টিকিট নিয়ে মন্তব্য করেন, বলেন, তিনি এত দাম দিয়ে টিকিট কিনতেন না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিক মূল্য ছিল ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার বা ৪০ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকা। পুনর্বিক্রির বাজারে কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলার বা ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তুলনায় এই দাম অস্বাভাবিক নয়। তবে টিকিটের বাইরেও সমর্থকদের বাড়তি ব্যয় করতে হয়, যেমনবিমানভাড়া, হোটেল ও খাবার। বিশেষ আলোচনা আছে নিউ জার্সি ট্রানজিটের ট্রেনভাড়া নিয়ে। সাধারণ সময়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়া–আসার ভাড়া যেখানে ১২ দশমিক ৯০ ডলার, সেখানে বিশ্বকাপ চলাকালে এই টিকিটের দাম বাড়িয়ে ১৫০ ডলার করা হয়। সমালোচনার মুখে পরে ভাড়া কিছুটা কমানো হলেও তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

সম্প্রচারকারী ও স্পনসরদেরও বড় লাভ: বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবে তাদের এই অর্থ ফেলনা নয়, দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনের উচ্চ চাহিদার কল্যাণে বিনিয়োগের বড় অংশই তারা পুষিয়ে নিতে পারে। এবারের বিশ্বকাপে আলোচিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতিও বাণিজ্যিকভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ইনফান্তিনোর দাবি, পুরোপুরি খেলোয়াড়দের স্বার্থে এই বিরতি দেওয়া হয়েছে, ফিফা এ থেকে অতিরিক্ত আয় করছে না। তবে বাস্তবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের জন্য এটি নতুন বিজ্ঞাপনের সুযোগ হিসেবে এসেছে, অর্থাৎ এই বিরতির সময়ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা যাচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার করেছে ফক্স স্পোর্টস, সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে তারা প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বলে জানা যায়। ফলে পানি পানের বিরতিকে তারা ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপের আওতায় নিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফক্স টেলিভিশনে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের গড় মূল্য ছিল ২ থেকে ৩ লাখ ডলার। নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের খেলায় তা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ওঠে। তবে যুক্তরাজ্যের বিবিসি বা আইটিভিতে খেলা দেখা দর্শকেরা এই বিজ্ঞাপন দেখেননি। কেননা, বিবিসিতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন নেই এবং আইটিভি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে না। বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষক অ্যাডিডাস, কোকা-কোলাসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এই বিনিয়োগ থেকে তারা উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে।

যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী নাইকির সঙ্গে বিজ্ঞাপনী প্রতিযোগিতায় অ্যাডিডাস প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহাম ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।অন্যদিকে আরও কিছু ব্র্যান্ড পরোক্ষভাবে আলোচনায় এসেছে। যেমন, সান ফ্রান্সিসকোর লেভাইস স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা লেভাইসের লোগো ঢেকে দেওয়ার ঘটনা উল্টো ব্র্যান্ডটির জন্য বাড়তি প্রচারের সুযোগ এনে দেয়। এবারের বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপনের চমকপ্রদ দিকটি হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহামের ডিজিটাল সংস্করণ প্রদর্শন। এক দশকের বেশি সময় আগে অবসর নিলেও বেকহাম এখনো যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। মেজর লিগ সকারে মেসি যে ক্লাবে খেলেন, অর্থাৎ সেই ইন্টার মায়ামিকে এই লিগের সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ক্লাবের বাজারমূল্য প্রায় ১৪৫ কোটি ডলার। মাঠে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও বাণিজ্যিক দুনিয়ায় বেকহাম এখনো অন্যতম সফল নাম।

আয়োজক শহরগুলোর কী লাভ হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে লাখ লাখ পর্যটক ও সমর্থক এসেছেন। এতে কিছু সময়ের জন্য হলেও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি আয় হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এর অর্থনৈতিক সুফল বেশি নয়। ফিফার হিসাবে, বিশ্বকাপের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার যোগ হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই যোগ হবে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার, সৃষ্টি হবে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার কর্মসংস্থান, যার বেশির ভাগই আতিথেয়তা খাতে। কিন্তু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার বাডজিয়ারের মতে, এ ধরনের বড় ক্রীড়া আসর থেকে দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়-এমন প্রমাণ খুব কম। বরং দেখা যায়, অনেক সাধারণ পর্যটক ভিড় এড়াতে ওই সময় ভ্রমণ বাতিল করেন, ফলে পর্যটন আয় কমে যায়। বাডজিয়ারের মতে, নতুন যে চাকরি সৃষ্টি হয়, সেগুলোর বেশির ভাগই স্বল্প মজুরির আতিথেয়তা খাতে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে সম্পদ সৃষ্টি হয় না। সরকারি তথ্যও বলছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পাব, বার ও রেস্তোরাঁয় নিয়োগ বাড়লেও তার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাডজিয়ারের মতে, বড় ক্রীড়া আসরের সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক সুফল দেখা যায় অবকাঠামো খাতে। যেমন, ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের পর স্ট্র্যাটফোর্ড এলাকার পুনর্গঠন। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য সে রকম কিছু হয়নি। বিদ্যমান স্টেডিয়াম, হোটেল, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, পরিবহনব্যবস্থা, অর্থাৎ যেসব অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো নতুন কিছু ছিল না।

জার্সি বিক্রেতাদের মুখে হাসি: বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনার কল্যাণে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি বেড়ে গেছে। নাইকি জানিয়েছে, ২০২২ সালের তুলনায় এবার তাদের জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ইংল্যান্ডের জার্সি। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে অ্যাডিডাসের পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মেক্সিকোর জার্সি। জেডি স্পোর্টস জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের জার্সি বিক্রি করে এবার তারা রেকর্ড আয় করেছে। তবে সব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে স্কটল্যান্ডের জার্সি। জার্মানি, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার জার্সির বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফুটবল-ফ্যাশন নিয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে কাজ করেন সংস্কৃতিবিষয়ক সাংবাদিক সি ভ্যালেন্টিনা। তাঁর মতে, ফুটবল জার্সি এখন শুধু খেলার পোশাক নয়, বরং দৈনন্দিন ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেন-জির মধ্যে নস্টালজিয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো ধাঁচের জার্সির চাহিদা বেড়েছে। নারীদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা জার্সিও জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে এর নেতিবাচক দিকও আছে, সেটা হলো, বাজারে বিপুল পরিমাণ নকল জার্সি বিক্রি হচ্ছে। ভ্যালেন্টিনার ভাষায়, ফ্যাশনের অংশ হয়ে গেলে ফুটবল জার্সির দাম বেড়ে যায়। তখন আবার নকলের বাস্তবতাও সৃষ্টি হয়।

হোটেল ব্যবসা জমেনি: বিশ্বকাপে হোটেলকক্ষের যে বিপুল চাহিদার আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা দেখা যায়নি। শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আয়োজক শহরগুলোতে গত বছরের তুলনায় এবার বুকিং কম হয়েছে। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভ্যাঙ্কুভারে সাতটি ম্যাচ হলেও জুন ও জুলাইয়ে বুকিং আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। তাদের মতে, এ ধরনের টুর্নামেন্টে টানা কয়েক সপ্তাহ হোটেল পূর্ণ থাকে না; বরং নির্দিষ্ট ম্যাচের দিনগুলোতেই চাহিদা বাড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল মালিকদের সংগঠন এএইচএলএ অভিযোগ করেছে, ফিফা নিজেদের জন্য অতিরিক্ত কক্ষ আগাম সংরক্ষণ করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছিল। ফিফা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডয়চে ব্যাংক গবেষণা বিভাগের ম্যারিয়ন লাবোর বলেন, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, বুকিং প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।

বাজি কোম্পানিগুলোর বড় লাভ: আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাককুয়ারির হিসাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপে বাজির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে খেলা ছিল ৬৪টি, এবার হচ্ছে ১০০টির বেশি খেলা, ফলে বাজির পরিমাণও বেড়েছে। প্যাডি পাওয়ার, বেটফেয়ার ও স্কাই বেটের মালিক ফ্লাটার এন্টারটেইনমেন্টও ধারণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের বাজার সম্প্রসারণের কারণে এবার বাজির পরিমাণ আগের বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে। ম্যাককুয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেইননের মতে, এখন ম্যাচ শুরুর আগের বাজির চেয়ে ম্যাচ চলাকালীন বা বাজি বেশি জনপ্রিয়। মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বাজি ধরার সুযোগ থাকায় এই প্রবণতা জনপ্রিয় হচ্ছে। ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে ক্রীড়া বাজি বৈধ করা হয়েছে। যদিও ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে এখনো তা নিষিদ্ধ। সেখানে ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ নামে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

 

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার

বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোটেক রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে

আরও পড়ুন
language Change