ফারজানা আক্তার শ্রাবণীঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দায়সারা অভিযান চালানো এবং মিটার খুলে নেওয়ার নাটকীয়তা দেখিয়ে অভিযান শেষ করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের নির্ধারিত আইনি কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বেশ কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা, ভেঙে ফেলার নির্দেশ কিংবা মামলা করার মতো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে কেবল বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কিংবা অস্থায়ী সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিযোগকারী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট ভবন মালিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। এসব স্থানে অভিযান হয় কেবল কাগজে-কলমে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন নির্মাণকারীদের কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে মোবাইল কোর্টের সময় নরম আচরণ করা হয়। অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টো অভিযোগকারীদেরই ভয়ভীতি দেখানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সাইদা ইসলাম ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড স্টাফদের কাজেও হস্তক্ষেপ করেন। কোনো ইন্সপেক্টর আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাদের বলা হয়, “আমাকে ছাড়া কিছু করবেন না।” পরে আবার অভিযোগকারীদের কাছে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে উভয় পক্ষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি অনিয়মের ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজউকের এক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোবাইল কোর্ট একটি কঠোর আইনি প্রক্রিয়া। সেখানে দায়সারা অভিযান বা প্রতীকী ব্যবস্থা গ্রহণ দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।
এ বিষয়ে সাইদা ইসলামের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয় ও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাজউকের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ এখনো লিখিত আকারে তাদের কাছে জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মাণপেশাজীবীদের দাবি, মৌখিকভাবে বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাজউকের জোন-৫/১ এলাকায় অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা থাকলেও বারবার অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত