নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাথরুম ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেই প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (তদারকি কর্মকর্তা) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জানিয়েছেন লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, PEDP-4 প্রকল্পের আওতায় দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বনস্যান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রাক্কলন করা হয়। পরে মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজ-এর সঙ্গে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা মূল্যের চুক্তি সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের ২৩ মে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে এখনও রঙের কাজসহ বিভিন্ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। অথচ প্রকল্পের শতভাগ বিল উত্তোলন করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা পারভীন বলেন,
"এলজিইডি অফিস থেকে আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছিল। আমি স্বাক্ষর দেওয়ার পর ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে। এখনও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। বাথরুমের চাবি দেওয়া হয়নি, প্রধান শিক্ষকের কক্ষও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারকে বারবার ফোন করলেও তিনি সময়ক্ষেপণ করছেন। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।"
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বলেন,
বিল সম্পূর্ণ উত্তোলন করা হয়েছে। জানালা ও রঙের কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তা কাজী ফারুক বলেন,
কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোথাও কোনো কাজ বাকি নেই। সব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র আমাদের কাছে রয়েছে।
লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর বলেন,
বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো কাজ বাকি থাকে, তাহলে সেটি সম্পন্ন করানো হবে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার মতো কাজ বাকি থাকতে পারে। কাজ না করে তো ৪৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়নি।
কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
জুন ২০২৬-এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সে সময় যদি ঠিকাদার কিছু কাজ শেষ করতে না পারে এবং বিল উত্তোলন না হয়, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে পরে সেই অর্থ পাওয়া যেত না। তবে অফিসিয়ালি কাজ শেষ না করে সম্পূর্ণ বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন,
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে এ মুহূর্তে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম-এর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত