নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা-কারাবরণ, ত্যাগ ও আনুগত্যের পরও প্রত্যাশিত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচিত মুখ শামসুজ্জামান দুদু। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি-বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি দলের একজন অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিত।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ত্যাগ-সংগ্রামের পরও তাকে প্রত্যাশিত জায়গায় দেখা যাচ্ছে না-এমন আক্ষেপ এখন নেতাকর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন অনেকে।
দুদুর সমর্থক ও বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলছেন। তাদের বক্তব্য, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মামলা ও কারাবরণ এবং দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার পরও শামসুজ্জামান দুদুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, সেটি এখন আলোচনার বিষয়।
সমর্থকদের কেউ কেউ তার রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন। আবার কেউ দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে তাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দুদুর মতো প্রবীণ নেতার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি
শামসুজ্জামান দুদুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তার পরিচিতি তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের রাজনীতিতেও তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মামলা-কারাবরণেও থামেনি পথচলা
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন শামসুজ্জামান দুদু। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে আটক করা হয়। ওই বছরের জুনে প্রকাশিত সংবাদে তিনি তখনও কারাগারে ছিলেন বলে জানা যায়। পরে আগস্টে কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ৪ এপ্রিল তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ দফায় প্রায় ৫১ দিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে ৯ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকার সময় তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর পল্টন, রমনা ও বাড্ডা থানার আরও আটটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২০২৪ সালের ৫ মার্চ কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান দুদু।
মনোনয়ন না পেলেও দলের পাশে
দলের প্রতি শামসুজ্জামান দুদুর আনুগত্যের বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তিনি বিদ্রোহী অবস্থান নেননি। বরং দলীয় প্রার্থী ও দলীয় কর্মকাণ্ডের পক্ষে কাজ করেছেন।
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার এই অবস্থানকে তার অনুসারীরা আনুগত্য ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
মূল্যায়নের অপেক্ষায় পরীক্ষিত নেতা
শামসুজ্জামান দুদুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব, মামলা, কারাবরণ এবং দলের প্রতি আনুগত্য-সবকিছুরই উপস্থিতি দেখা যায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত দেওয়া সাধারণ মানুষের একটি অংশের প্রশ্ন-দলের দুঃসময়ে যিনি পাশে ছিলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যাঁর রয়েছে, সেই নেতাকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে কি না।
রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে নেতৃত্বের অগ্রাধিকার বদলায়। কেউ সামনে আসেন, কেউ আড়ালে চলে যান। কিন্তু দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেই বিবেচনায় শামসুজ্জামান দুদুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কতটা কাজে লাগানো হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিএনপির এক কর্মী মামুন হোসেন বলেন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সভা সেমিনার করে দলের প্রাণ সঞ্চারন করেছেন। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করার পর শামসুজ্জামান দুদুকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমরা আশা করি ওনাকে ভালো একটা পজিশনে দিবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়ান নামের একজন লিখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষ দুদু ভাইকে যে যেমনই ভাবুক না কেন, দুদু ভাইয়ের গল্পটা শুধুই তার নিজের মতো, অন্যের মতো নয়।
উনার কিছু চাওয়া পাওয়া এবং অপ্রাপ্তি/অপূর্ণতা গুমরে কাঁদে কিছু কিছু সময়, তবুও তিনি কোন সময় ভেঙ্গে পড়েন না। অথচ তিনি অনন্য এক পরিচ্ছন্ন জাতীয় নেতা হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বস্তরের মানুষের রিপ্রেজেন্ট করে সারা দেশের মধ্যে !
তিনি এখনও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি'র) পতাকা তলে কর্মী বান্ধব, দলপ্রেমিক, দেশপ্রেমিক, জনদরদী নেতা হয়েই জনগণের স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছায় নিজের রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অদম্য শক্তি অটুট রেখেই টিকে আছে, আলহামদুলিল্লাহ্ !
মহান আল্লাহ্ সহাই হলে বাংলাদেশের জনগণ, খুলনা বিভাগের জনগণ, এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা বাসী খুব শীঘ্রই ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ্ । আশাকরি খুব শীঘ্রই দুদু ভাইয়ের নির্মল হাঁসিই হবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাসীর আনন্দের হাঁসি ইনশাআল্লাহ্ !
চুয়াডাঙ্গা মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পরীক্ষিত এই নেতার অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। আর সমর্থকদের প্রশ্ন-দলের দুঃসময়ের সারথি দুদু, তবু কেন আড়ালে?
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত