আজিজুর রহমান বাবু , শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুর - ২ আসনের ২ য় বারের মত নির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ একজন নির্লোভ, নিরহংকারী, জনদরদী সদালাপী জনবান্ধব নেতা হিসেবে বহুল প্রশংসিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
দীর্ঘ ৩৪ বছর অত্র জনপদের আবালবৃদ্ধবনিতার কাছে তিনি " সোনার কিরণ " হিসাবে সমাদৃত হয়ে রয়েছেন । অত্র জনপদে রয়েছে তাঁর অসম্ভব জনপ্রিয়তা। শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বিগত ১৭ বছরে হামলা মামলা নির্যাতনের দাগ বয়ে নিয়ে আমজনতার জনসেবায় নিজকে নিবেদিত করেছেন। তিনি অত্র জনপদের জন্য আশীর্বাদ বটে।
শফিকুর রহমান কিরণ ৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ম বারের মত স্বল্পমেয়াদে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। তিনি এমপি না হয়েও সখিপুরের মাঠে সর্বপ্রথম তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী জনতার আপোষহীন নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে তৃনমূল পর্যায়ে এনে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। যা সখিপুরের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় স্মৃতি হিসেবে মানসপটে গেঁথে থাকবে।
বিগত দিনের সমালোচনা করলে দেখা যায় - রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পতিত সরকারের একচেটিয়া নির্বাচনে একজন যোগ্য প্রার্থী হয়েও শুধুমাত্র ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং'র কারণে দু'দু বার তাঁর বিজয়ী ফলাফল ছিনতাই করা হয়েছিল ।
প্রচন্ড জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তিনি ইচ্ছে করলেই ফলাফল অনুকূলে আনতে পারতেন। চ্যালেঞ্জ করলে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতো। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কর্মীরা হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী ছিলো । শফিকুর রহমান কিরণ কর্মীর লাশের উপর পা রেখে কখনোই ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ছিলেন না বলেই সহনশীল ছিলেন। ধৈর্য্য ধারণ করেছেন। তারপরও তিনি দমে যাননি। মাঠ থেকে সরে যাননি। পুরো নতুন উদ্যমে ভোটের মাঠে নিজকে তৈরি করে লড়াইয়ে নেমেছেন। নির্বাচনকালিন সময়ে " ব্যক্তি কিরণের " আলাদা ইমেজ ছিলো, বিধায় প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের সাথে যোগাযোগ করতে বেগ পেতে হয়নি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারকার ভোট যুদ্ধে তাঁর দুই পুত্র এক কন্যা ডাঃ সাফা রহমান ও সহধর্মীনি লাবণ্য কাদেরকে নিয়ে অবিশ্বাস্য ভাবে মাঠের পর মাঠ চষে বেরিয়েছেন। আমজনতার মনে কিরণের দুই ছেলে ও ডাঃ মেয়ের মনোমুগ্ধকর আচরণ বিমুগ্ধতা ছড়িয়ে ছিলো ।প্রচার-প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছিল। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো - জনগনের প্রদত্ত ভোটে বিপুল ভাবে জয় লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে শফিকুর রহমান কিরণ একজন স্পষ্টভাষী মানুষ। তিনি কখনোই অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নাই। তৃনমূল পর্যায়ে সালিশী কার্যক্রমের ঘুষখোর মাতবরদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে ভূক্তভোগী বিচার প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এলাকাবাসীর কাছে সেটির অসংখ্য নজির রয়েছে।
স্কাউট জাম্বুরির একটি অনুষ্ঠানে কিশোর বয়সের সেই কিরণ সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সাথে পরিচয় লাভ করেন। সময়ের পরিক্রমায় কচুয়া কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিতি ঘটে। অতঃপর শহীদ জিয়ার আদর্শে লালিত হয়ে রাজনৈতিক দীক্ষা গ্রহণ করেন। শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন করেই অত্র জনপদের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করেছেন। নিরীহ শান্তি প্রিয় জনগনের অন্তরে ঠায় করে নিয়েছেন।
বলা বাহুল্য, শফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগেই সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে সর্বপ্রথম তাঁর পিতার নামে সখিপুর থানায় ১৯৯৪ সালের ২৩ শে মে " হাবিবুল্লাহ কলেজ "প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে উক্ত কলেজটি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আক্রোশে আরো দুটি কলেজ স্হাপন করা হয়। একটি হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজ অপরটি শহীদ সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজ । শুধু তাই নয় নিজের অর্থায়নে কিরণ নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সহ অসংখ্য নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে একজন সু- প্রতিষ্ঠিত শিক্ষানুরাগী হিসেবে আমজনতার নজর কেঁড়েছেন।
শফিকুর রহমান কিরণ ২৬ এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালিন সময়ে জনগনকে প্রতিস্রুতি দিয়েছিলেন - গ্রামীণ সমাজে দূর্নীতিবাজ লোকদের কঠোর হস্তে দমন করবেন, নড়িয়া সখিপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবেন , সখিপুর - নড়িয়ায় বেকারত্ব দূরীকরণে সক্রিয় সহযোগিতা, প্রাইমারী স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণে সার্বিক সহায়তা প্রদান সহ গরীব শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে প্রভূত উন্নতি সাধনে প্রচেষ্টা চালাবেন। তা ছাড়া নড়িয়ার গোলাম মাওলা সেতু পুনঃনির্মানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। সেতুটির কাজ দ্রুত সমাপ্তি পথে রয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয়ের ১৮০ দিন পেরিয়েছে। সেই সাথে শরীয়তপুরের ২ এর সাংসদ শফিকুর রহমান কিরণের ক্ষমতা গ্রহণের ১৮০ দিন অতিক্রম করেছে। জনমনে অসংখ্য কৌতহল জেগেছে এই ১৮০ দিনে এমপি কিরণ কী কর্ম সাধন করেছেন ?
রাজনীতি এবং উন্নয়ন দুটি ভিন্ন বিষয়। রাজনীতি বুদ্ধি খাটিয়ে বাস্তবতার সাথে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়। উন্নয়ন এলাকাভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনায় রাস্তাঘাট পুনঃসংস্কার নির্দিষ্ট নিয়ম নীতিমালা মেনে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চলতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা সরকারী বাজেটের উপর নির্ভরশীল । একটি সু- শৃঙ্খল টীম ওয়ার্কের মাধ্যমে এলাকায় উন্নতি সাধন করতে হয়। নির্বাচনকালিন সময়ে শফিকুর রহমান কিরণ যা যা প্রতিস্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কোনটি দৃশ্যমান কোনটি অপেক্ষমান।
রাজনীতিতে দোষ ত্রুটি সফলতা ব্যর্থতা থাকবেই তবে জনস্বার্থে কখনো কখনো ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখা উচিত। নির্বাচন পরবর্তীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু মিডিয়ায় অভিযোগ উঠেছিলো যে " শফিকুর রহমান কিরণ মদদকারী, আশ্রয়দাতা নেপথ্যের কূশীলব হিসেবে জড়িত রয়েছেন " - বাস্তবে এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারিরা কেউ ই দালিলিক ভাবে প্রমাণ করতে পারেন নাই। এটি গুজবে গুজবে ছেয়ে গেলেও ফলাফল শূন্যতায় ঠেকেছে । এটা চরম ভাবে সত্যি, " নদী থেকে বালু উত্তোলন " এর বিষয়টি উদ্বেগজনক । সম্মিলিত প্রয়াসে এই জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি সমাধান করা অত্যাবশ্যক।
সম্প্রতি সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো নিজের অর্থায়নে সখিপুর - নড়িয়ার ২১৬টি ওয়ার্ডের বাছাইকৃত ওয়ার্ড প্রতি ১জন বেকার যুবক - অর্থাৎ ২১৬ কে বিনা অর্থ ব্যয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রেরণের প্রতিস্রুতি বাস্তবায়ন কল্পে ১ম ধাপে ৫৩ জনকে চূড়ান্ত পাসপোর্ট ভিসা টিকিট হস্তান্তর শেষ করেছেন শফিকুর রহমান কিরণ । তিনি বিনাঅর্থে মসজিদের ঈমাম দের উমরাহ হজ্জ পালনে উদ্যোগি হয়েছেন।
বিষয়টা কী ভাবতে পারেন ? কত বড় কলিজা হলে ? মহানুভবতার কোন স্কেলে থাকলে এমন একটা মহতী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ? এই প্রকার জনহিতকর কর্মকাণ্ডে সংপৃক্ততা কেবল শফিকুর রহমান কিরণের পক্ষেই সম্ভব।
সময়ের বিবর্তনে জনসেবায় অনেক নেতার আগমন ঘটবে। কেউ অপকর্ম, স্বেচ্ছাচারীতার জন্য ঘৃনিত হবেন আবার কেউ সাফল্য পাবেন কিন্তু নিজে অর্থায়নে জনসেবা করে ইতিহাস রচনা করে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন - তিনি একজনই " শফিকুর রহমান কিরণ "।
ইচ্ছে করলেই - রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা যাবে না । জনতার পরম মমতায় তিনি বেঁচে থাকবেন - চরের আশা আকাংক্ষার মূূর্ত প্রতীক হয়ে " সোনার কিরণ " চির জাগ্রত হয়ে রইবেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত