তারিখ লোড হচ্ছে...

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিটি গঠন হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে ইশরাক নলডাঙ্গায় পাটুল হালতি বিলে রাতভর ভ্রাম্যমান আদালত,৫ জনের কারাদণ্ড ও ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা দীঘিনালায় ছোট মেরুং বাজার দারুল সুন্নাহ মাদ্রাসায় কোরআনের সবক প্রদান ও দোয়া মাহফিল বন্য হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের মাঝে জগ লাইট বিতরণ রোগী সেজে সোনার চেইন চুরি, এক্সরে করে পেটে শনাক্ত বরগুনার আমতলীতে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ মানসম্মত মজুরি দাবি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিরাজগঞ্জে সংসদ সদস্যের বহরে হামলার প্রধান আসামি তমাল রিমান্ডে চাঁদপুরে অগ্নিকাণ্ডে বসঘর পুড়ে চাই রাঙামাটিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি আয়কর কর্মকর্তা সাইফুলের সম্পদের তেলেসমাতি, দুদকের অনুসন্ধানে একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি-জমি জমকালো আয়োজনে ভিওডি বাংলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন শহীদনগরে পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ রাজস্ব ফাঁকি রোধে বেনাপোলে কড়াকড়ি, কমছে আমদানি; না পেয়ে চাঁদা অপপ্রচার বিবাহিত নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও মাদক ব্যবসা: যাত্রাবাড়ীতে আত্মগোপনে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাওসীফকে ... বিদ্যুৎমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি দ্বিতীয় শ্রেণির পদে থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য: লুৎফা বেগমের অলৌকিক রাজত্ব আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের শ্রীমঙ্গলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝিনাইগাতীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন সাতক্ষীরা সদরের তালতলা এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ উদ্ধার কাউখালীতে উন্নয়নকাজে চাঁদার চাপ, বাধা-হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সুন্দরবনের চার জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ ‎ বাপার ইবিটি কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ পেল ৪৬ হাজার মানুষ বৈশাখীকে বাদ দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই মেট্রোরেলে নতুন চুক্তি রক্ষমতার আড়ালে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গণপূর্তের সাইফুর রহমানে ওবায়দুল কাদের বিশেষ স্নেহধন্য সওজের আবু হেনা তারেক ইকবাল এখন নব্য জাতীয়তাবাদী লালবাগের শহীদ নগরে তীব্র পানি সংকট, দুর্ভোগে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসী নাটোরের নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের অপরাধে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ সুনামগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার টাকার ২৬৮৩ পিস অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমান সুন্দরবনে দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আগামীকাল থেকে মফস্বলে স্বাভাবিক প্রসবের দৃষ্টান্ত চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতাল অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্য অগ্রণী ব্যাংক সাতক্ষীরার ভোমরা কাস্টমস কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমানকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কেশবপুরে নজরুল বর্ষ-২৬/২৭-এর উদ্বোধন বরগুনার তালতলী ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কাগজে স্বাক্ষর করে না কানুনগো সজল ফোন থেকে গোপন ছবি-ভিডিও ফাঁস হয় যেভাবে অভিষেক ম্যাচেই ৩ গোল হজম করলেন মার্তিনেজ মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল হাইকোর্ট বিবাহিত পুরুষদের যে বিষয়ে সতর্ক করলেন অমিতাভ নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে খাগড়াছড়িতে শান্তি- সম্প্রীতি বজায় রাখতে জেলা পরিষদের প্রতি রিজিয়ন কমান্ডারের আহ্বান সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফাইনাল খেলা. টাইব্রেকারে কালিগঞ্জ কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি দল বিক্রি ও মুনাফায় বড় ধাক্কা ওয়ালটনের

বিতর্কিত সচিবের রিসোর্ট রক্ষার মিশনে পানি উন্নয়ন বোর্ড

পাঠক সংখ্যা
638

কক্সবাজার প্রতিনিধি: বিগত দুই বছর ধরে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ও বিতর্কিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। কক্সবাজারের প্যাঁচার দ্বীপে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষার নামে সাগরের উপকূল এলাকার ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বোকা বানিয়ে তাদের কাছ থেকে জরুরি কাজের আবেদন নিয়ে  তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিসোর্ট রক্ষা করতে ব্যস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এর ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি বরাদ্দের এই প্রকল্প আবেদন অনুযায়ী স্থানীয় অধিবাসীদের কোনো কাজে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘স্থানীয় মানুষের আবেদনের পর পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের নির্দেশে রামু উপজেলার রেজু খালের মোহনা এবং প্যাঁচার দ্বীপে সাগরের উপকূল ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও টিউবের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে এই নির্বাহী প্রকৌশলী লিখিতভাবে জানান, ‘জরুরি এই কাজের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার। ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ৮১ জন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। এতে বলা হয়, ‘কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং প্যাঁচার দ্বীপ গ্রামের পশ্চিম পাশ সাগর উপকূলবর্তী এলাকা। এ এলাকায় অসংখ্য ঘর-বাড়ি, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, হেফজখানা, এতিমখানা, কবরস্থান, পানের বরজ, সুপারি ও নারকেল বাগানসহ বিভিন্ন শ্রেণির জমি রয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর সাগরের ঢেউয়ে উপকূলবর্তী এ অঞ্চল ভেঙে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এজন্য ভাঙনের কবলে পড়া জনবসতিপূর্ণ সংশ্লিষ্ট এলাকাটি রক্ষার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’ এদিকে এ আবেদনের বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। আবেদনের ওপর লিখিত নির্দেশনা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি। যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত ওই আবেদন প্রতিবেদকের হাতে আসে। আবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামসহ স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে প্রত্যেকের মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খুনীয়াপালং ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মানুষ সচিব কবির বিন আনোয়ারের লোক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে। এর মধ্যে মাহবুব, সরোয়ার, কাশেমসহ অনেকেই আছেন। এরাই মূলত সাধারণ মানুষকে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের কাছে লিখিত আবেদন জানাতে উৎসাহীত করেন। উপকূল রক্ষায় সহজসরলভাবে এলাকার শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লোক আবেদন করেন। কিন্তু জরুরি কাজের আবেদন নিয়ে বন্ধুবান্ধবসহ নিজের রিসোর্ট রক্ষা করবেন, এটা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

গুরুতর এমন অভিযোগের পর সরেজমিন অনুসন্ধানে নামে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী টিম। প্যাঁচার দ্বীপে গেলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ যুগান্তরের কাছে তাদের ক্ষোভ-অসন্তোষের পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০/২৫ জনের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তাদের প্রত্যেকের একবাক্যে প্রথম অভিযোগ ছিল-তারা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সীমানা উল্লেখ করে আবেদন করেছেন, সেভাবে কোনো কাজ হয়নি। বরং তাদের দরখাস্তকে পুঁজি করে সিনিয়র সচিবসহ প্রভাবশালী কয়েকজন নিজেদের সম্পদ রক্ষা করেছেন। এহেন চক্রান্তের বিষয়টি তারা আগে বুঝতে পারেননি। মূলত তাদেরকে দিয়ে এভাবে আবেদন করার উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিত, যা প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু নয়।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দাবিদার মাহমুদ আলমের সরাসরি অভিযোগের তির ছিল সচিব কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে। প্রতারণামূলক প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া ছাড়াও সচিব কবির বিন আনোয়ার জোরপূর্বক তার মতো গরিব কৃষকের জমি দখল করে রিসোর্টের রাস্তা বানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সংবাদমাধ্যমকে মাহমুদ আলম আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ক্যাডার দিয়ে কবির বিন আনোয়ার আমাকে বেঁধে অনেক মারধর করেন। এই এলাকার অনেক লোকজন এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। আমার জমি দখল করে তিনি তার ব্যক্তিগত রিসোর্টে যাওয়ার জন্য রাস্তাও করেছেন। পরে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য হন। তবে তিনি ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।’

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বদিউল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সচিব কবির বিন আনোয়ার প্যাঁচারদ্বীপের মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে নিজের রিসোর্ট রক্ষা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কবির বিন আনোয়ার জমি কিনেছেন একস্থানে, আবার বাস্তবে দখল করেছিলেন আরেক স্থানে।’

মাহমুদ আলমকে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খুনীয়াপালং ইউনিয়নের বিদায়ি চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘সচিব স্যার জমি কেনার পর সেখানে রাস্তা ছিল না। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা বানাতে সহযোগিতা করেছে। ওইদিন ঘটনাস্থলে সচিবের ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর মাহবুব, সরোয়ার, কাশেমসহ অনেকেই ছিলেন। আমাকেও ডাকা হয়। তবে মাহমুদ আলমকে মারধর করার অভিযোগ মিথ্যা।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সচিবের কেনা জমিটি ছিল এজমালি সম্পত্তি। প্রথমে কিনেছেন মাহমুদ আলমের বড় ভাইয়ের মেয়েদের কাছ থেকে, পরে শুনেছি মাহমুদ আলমের জমিও কিনে নিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, রহস্যজনক কারণে সচিবের রিসোর্টে কোনো সাইনবোর্ড নেই। তবে নাম না থাকলেও এলাকায় এটি ‘পানি সচিবের রিসোর্ট’ নামে পরিচিত। একটি আধুনিক রিসোর্টে যা থাকার কথা, এর সবই আছে এখানে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে সচিব নিজেও এখানে এসে সময় কাটান। কবির বিন আনোয়ারের প্যাঁচার দ্বীপের রিসোর্টটি দেখভাল করেন অভিযোগকারী মাহমুদ আলমের আত্মীয় আব্দুস সালাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রিসোর্টটির নাম ‘লাইট হাউজ’। তবে বাইরে সচিব স্যার কোনো সাইনবোর্ড দেননি। কারণ, রিসোর্টটি স্যারের ব্যক্তিগত। স্যার কক্সবাজার এলে এখানেই থাকেন।’

সরেজমিন অনুসন্ধানে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের রিসোর্টসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালীর রিসোর্ট ও জমি যে পর্যন্ত, সেই সীমানা বরাবর সাগরের ঢেউ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রিসোর্ট করতে আগ্রহী আরও কয়েকজন প্রভাবশালীর জমি রয়েছে কবির বিন আনোয়ারের রিসোর্টের আশপাশ এলাকায়। যারা কয়েকজন ঢাকার বাসিন্দা। প্যাঁচার দ্বীপে কবির আনোয়ারের রিসোর্টের পাশেই রয়েছে বিএনপি শাসনামলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের মামাতো ভাই বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন খান পাপলোর মালিকানাধীন মারমেড রিসোর্ট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কক্সবাজারের উপকূল রক্ষার নামে কবির বিন আনোয়ার স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে বরাদ্দের আবেদন নিয়ে এই মারমেডসহ নিজের রিসোর্ট রক্ষা করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন কিংবা নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় মানুষের বড় অভিযোগ-মেরিন ড্রাইভের নকশাও পরিবর্তন হয়েছে এই প্রভাবশালীদের রিসোর্টের কারণে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ২০০০ সালের ৩০ নভেম্বর খুনীয়াপালং ইউনিয়নের প্যাঁচার দ্বীপ মৌজায় আরএস ২৬টি দাগ থেকে ২৯৬৬নং দলিলে ২০ শতক জমি কিনেন মাত্র ৩০ হাজার টাকায়। এরপর সেখানেই তিনি রিসোর্ট বানিয়েছেন। ২০০৯ সালে রামু ভূমি অফিস থেকে এই জমি তার নামে নামজারিও করা হয়। এই তথ্য তালাশ করতে গিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। সিনিয়র সচিবের ছেলে সামদ বিন কবিরের নামেও সেখানে জমি কেনা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২১ মে ১০৩০নং দলিলে রামু সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটি সম্পন্ন হয়। একই মৌজায় ৬৪৪ ও ৬৪৫ দাগে ২৩ লাখ ২৭ হাজার টাকায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতক (৫ হাজার ৭৭১ দশমিক ৭০ বর্গফুট) জমি কেনা হয়। জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী সামদ বিন কবিরের বয়স এখন ১৯ বছর। ২০০২ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া সামদ বিন কবির মাত্র ১২ বছর বয়সে রেজিস্ট্রিমূলে এই জমির মালিক হন। দলিলের চৌহদ্দিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমে কবির বিন আনোয়ার। অর্থাৎ পিতা-পুত্র পাশাপাশি জমির মালিক। ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল এই জমিটি নামজারি সম্পন্ন হয়। মূলত ছাত্র অবস্থায় সচিবের ছেলে দামি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন।’

উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার নিজের রিসোর্ট রক্ষায় জরুরি বরাদ্দের বিষয়টি প্রথমে সরাসরি অস্বীকার করেন। পরে সংবাদমাধ্যমকে অনুসন্ধান সেলের পক্ষ থেকে বরাদ্দের বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে প্রতিবেদককে রেখেই পাউবোর কক্সবাজারের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওপাশ থেকে মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে জরুরি বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এরপর টেলিফোনের রিসিভার রেখে বলেন, ‘৪০ লাখ নয় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। জরুরি বরাদ্দের বিষয়টি মনে হয় আমি বলেছিলাম। তবে এটা অভিযোগ দেওয়ার কী আছে। প্যাঁচার দ্বীপের আমার রিসোর্টের আশপাশে যারা জমি কিনেছেন, তারা সবাই আমার বন্ধু, না হয় আত্মীয়স্বজন।’ অন্যের জমি নিশ্চিত না হয়ে রাস্তা বানানোর আরেকটি অভিযোগ সম্পর্কে এই সিনিয়র সচিব বলেন, ‘রাস্তার জন্য আমরা জমি কিনে নিয়েছি। অন্যের জমি দখল করার প্রশ্নই আসে না। যারা ওইখানে জমি কিনেছেন, তারা সবাই রাস্তার জন্য টাকা দিয়েছেন। আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনে নিয়েছি।’ ১২ বছরের ছেলের নামে জমি কেনাবাবদ ২৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিজেই পরিশোধ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সম্পদের পুরোটাই আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতি করিনি।’

উল্লেখ্য গত দুই বছর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই সচিবকে নিয়ে অনেক ধরনের বিতর্কিত সংবাদ প্রচার হয়েছে বলে জানা গেছে। উক্ত রিসোর্টে নারী কেলেঙ্কারি মাদক সেবন সহ বিভিন্ন খবরে নানা বিধ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

নাযিকা হতে এসে সর্বস্ব হারালেন তমা

স্টাফ রিপোর্টারঃ স’র্ব’স্ব লু’ট হয়েছে তার। যেনো নিজের অ’জান্তেই ঘটেছে সবকিছু। নিঃ’শব্দে কাঁ’দছিলেন তমা। পাশে তখনও ঘু’মাচ্ছেন ফরহাদ। চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্য’ক্তি, পঞ্চাশ বছর ব’য়সী ফরহাদ। দীর্ঘদিন থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এখানে ব্যবসা রয়েছে তার। এছাড়া ব্যবসা রয়েছে মালয়েশিয়াতেও। হোটেল, বারের ব্যবসা। নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে নিয়েই নাচ শিখেছেন কলেজ পড়ুয়া ছা’ত্রী তমা। স্বপ্ন ছিলো নায়িকা হলে সারা দেশের মানুষ তাকে চিনবে। তাকে দেখলেই ভীড় করবে দর্শকরা। ছবি তোলবে। তাকে নিয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশ হবে গণমাধ্যমে। পাশাপাশি অর্থ উপার্জনও হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই নারায়ণগঞ্জের একটি নাচের স্কুলে ভর্তি হন। অল্প দিনেই নাচে পারদর্শী হয়ে উঠেন কলেজ পড়–য়া এই ছা’ত্রী। এরমধ্যেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন আসতে থাকে। পরিচয় ঘটে শোবিজ জগতের তারকাদের সঙ্গে। পারফর্ম করেন দেশের বিভিন্নস্থানে। এরমধ্যেই মুন্না নামের একজনের সঙ্গে পরিচয়। বিদেশে

আরও পড়ুন
language Change