তারিখ লোড হচ্ছে...

স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: জিয়া ও খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা  তালতলীতে অবৈধ পিস্তল ও গুলিসহ আটক-০৫  বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ও সাধারণ জনগণের সমর্থন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ফরাস উদ্দিন নাটোরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কী হলো রাজস্ব সম্মেলনে, যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২০২৬, সভাপতি হলেন মাসুদ পারভেজ - সম্পাদক মাহতাব ফারাহী ড্রামে ফেলে নবজাতককে হত্যা, মায়ের বিরুদ্ধে মামলা সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর প্রাণহানি ৫ বছরের শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণ করেন রবিউল কাশিয়ানীতে সরকারি পুকুরের গাছ বিক্রির অভিযোগ, সোহেলের বিরুদ্ধে যুবদল নেতা হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন লালবাগে কিল্লারমোড় বাজারের পেছনে ময়লার ভাগাড়, মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ভূমি অফিস জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা কেশবপুরে বায়সা কালী মন্দিরে গ্রিল কেটে দুঃসাহসিক চুরি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর চিন্তা টিকটকে টাকা পাঠানোর সুবিধা আসছে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয় হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে রিট ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিল খেলয়ার রবার্তো কার্লোস বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাতক্ষীরার পুলিশ লাইন্স, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের দাবি খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম এর আম্মার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা নারী যাত্রীদের প্রশ্ন: কিসের গোলাপি বাস, কখন আসে, কোথায় যায় প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিশেষ অভিযানে ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎ ৮ লাখের সরকারি বিল পেতেই ৩ লাখ টাকা দাবি! বানারীপাড়ায় শিক্ষক সমিতির নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযো... ভুয়া ওষুধের তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে পুঁতে ফেলার হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: আগামীকাল দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবক দলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ‘মিস্টার ৫%’: গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতি ও সম্পদের পাহাড় একটি প্ল্যাটফর্ম, একাধিক সেবা-রংপুর ডায়েরির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুলেই আস্থা বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ অপসাংবাদিকতার ভিড়ে বিবেকের সংকট: আমার অভিজ্ঞতার নির্মম সত্য আরাফাত রহমান কোকোর কবরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা ডিসি-এসপি পদায়নের নামে কোটি টাকার প্রতারণা, টার্গেট সরকারি কর্মকর্তারা ফেঁসে গেলেন প্রকৌশলী বদরুল আলম খান বিশেষ অভিযানে ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পি এসের কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে পিয়ন সুমনকে শোকজ সুশৃঙ্খল সড়ক ও মোটরযান ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ... পাবনায় প্রতারণা মামলা: যশোরের মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কুমিল্লা দাউদকান্দি থানার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক, শ্রেষ্ঠ ওসি পলাশ বাড়ছে বৃষ্টির প্রবণতা, বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের শঙ্কা বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল ঘোষণা জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী

কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে আশরাফুজ্জামান সিন্ডিকেটের অভিযোগ

কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে আশরাফুজ্জামান সিন্ডিকেটের অভিযোগ
পাঠক সংখ্যা
638


নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকৌশল বিভাগ) এবং একাধিক মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন আদায় এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে আশরাফুজ্জামান বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া, টেকনাফের সাবরাং ও জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় বাস্তবায়নাধীন জেটি ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। “Development of Jetties and Infrastructure at Mirsarai & Sandwip at Chattogram, Subrang and Jaliar Dwip at Teknaf and Sonadia Dwip at Cox’s Bazar” নামের বিশাল এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ বণ্টন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, বড় টেন্ডারগুলো প্রকাশের আগেই নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহী সাধারণ ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, চাপ এবং অপমানজনক আচরণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিআইডব্লিউটিএতে বড় কোনো কাজ পেতে হলে আগে সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়। কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না। কে কোন কাজ পাবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।”

অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের কাছে গোপনে রেইট কোড সরবরাহ করা হয় এবং নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য আশরাফুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ একটি চক্র বিআইডব্লিউটিএ’র ভেতরেই সক্রিয় রয়েছে। এমনকি তার নিজস্ব “ক্যাশিয়ার” রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টেন্ডারের শতাংশভিত্তিক কমিশন আদায়ের একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নদী খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সমীক্ষা কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়াই কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ফলে প্রকল্প এলাকায় বারবার নদীভাঙন, চর জেগে ওঠা এবং নৌপথ সংকট দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও অনেক উন্নয়নকাজ দীর্ঘস্থায়ী সুফল দিচ্ছে না।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় বাস্তবতা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের কিছু অংশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কয়েক বছর না যেতেই অবকাঠামোগত দুর্বলতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও জমি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, বাসাবোর অপরাজিতা এলাকায় ৩২/বি/১ ও ৩২/বি/ই নম্বরের ফ্ল্যাট, বাসাবো এলাকায় সাততলা বাড়ি, শান্তিনগরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, আহমেদবাগ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, মায়াকানন এলাকায় সম্পত্তি ছাড়াও মোহাম্মদপুর, বসিলা, ধানমন্ডি, ফতুল্লা, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় জমি ও প্লট থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজ জেলা কুষ্টিয়াতেও পরিবারের নামে বিপুল স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের বড় অংশই সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি এবং রাষ্ট্রের কাছে অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দুদক বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান চালালে বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে আশরাফুজ্জামান নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বড় বড় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে টেন্ডার প্রক্রিয়া, কাজ বণ্টন ও বিল ছাড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি। গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তিনি একইভাবে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি নিজ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, “সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আশরাফুজ্জামানের প্রভাব কমেনি। তিনি সব সময় ক্ষমতাসীন বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।”

এদিকে বাজেট সংকটের মধ্যেও শত শত কোটি টাকার নতুন টেন্ডার আহ্বানের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকার যথাযথভাবে যাচাই না করেই কিছু টেন্ডার ডাকা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব টেন্ডারের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল কমিশন বাণিজ্য ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া। এতে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ও যোগ্য ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, বড় প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বাধীন নিরীক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় অব্যাহত থাকবে। তারা বলছেন, নদীবন্দর, জেটি ও নৌপথ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রকল্পে অনিয়ম হলে জনগণের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে ভুক্তভোগী কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তারা অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। কারণ অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে কোনো টেন্ডারে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা সিন্ডিকেটের বাইরে থাকে, তাদের নানা অজুহাতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। কখনও কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয়, কখনও টেকনিক্যাল কারণে বাদ দেওয়া হয়।”

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় পরবর্তীতে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগে কমিশনের পরিমাণও বাড়ানো হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদকরা। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে বলছেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তারা বলছেন, শুধু অভিযোগ প্রকাশ করলেই হবে না, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া জোরদার করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো স্বাধীন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। পাশাপাশি তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে প্রভাবশালী কর্মকর্তা বা সিন্ডিকেট—কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে যদি একই ধরনের অভিযোগ থেকে যায়, তবে তা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নদী ও নৌপথনির্ভর বাংলাদেশের জন্য বিআইডব্লিউটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

দুবাইয়ে আটক আরাভ, ফেরানো হবে দেশে

স্টাফ রিপোর্টার॥ দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান চালু করে বহুল আলোচিত আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলাম ওরফে আপনকে দুবাইয়ে পুলিশ আটক করেছে। দেশে হত্যাসহ ১২ মামলার এই আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির এক দিনের মাথায় গত সোমবার রাতে তাকে আটক করা হয়। অবশ্য তাকে দুবাইয়ে আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান চালু করে বহুল আলোচিত আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলাম ওরফে আপনকে দুবাইয়ে পুলিশ আটক করেছে। দেশে হত্যাসহ ১২ মামলার এই আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির এক দিনের মাথায় গত সোমবার রাতে তাকে আটক করা হয়। অবশ্য তাকে দুবাইয়ে আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। সূত্র বলছে, দুবাই থেকে আরাভকে ফেরাতে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা ও দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখার প্রতিনিধিরা গতকাল রাতেও

আরও পড়ুন
language Change